kalerkantho


‘নতুন গভর্নর নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘নতুন গভর্নর নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন’

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে যে চুরির ঘটনা ঘটেছে এ নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ায় তথা সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ইতিবাচক। তারা দেশের এত বড় একটি ঘটনাকে যথার্থভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান কেন যে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তথ্যটি সরকার তথা অর্থমন্ত্রীকে না জানিয়ে গোপন রেখেছেন তা এখনো রহস্যাবৃত্ত। তিনি যদি সেটি না করতেন তাহলে আমাদের হয়তো অন্য রকম অবস্থা দেখতে হতো। নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর নিশ্চয়ই নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেবেন, যাতে মানুষ পুরো বিষয়টি জানতে পারবে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে। আশা করি, তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। ’

গত শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে আবু আহমেদ এ কথা বলেন। সাংবাদিক দীনেশ দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে আবু আহমেদ আরো বলেন, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকী বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ টাকা চুরি আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ (ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম)। এর সঙ্গে বাংলাদেশসহ আরো তিনটি দেশ সম্পর্কিত। ওই দেশগুলোতেও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, ‘রিজার্ভ চুরির বিষয়ে যা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের কাউকে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। বাংলাদেশে তদন্ত শেষে অন্য তিনটি দেশে তদন্ত টিম কাজ শুরু করেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের যেসব কম্পিউটার থেকে সাধারণত তথ্য আদান-প্রদান ও এসএমএস দেওয়া হয়, ওই সব কম্পিউটারের অপারেটরদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুনেছি আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে এখনো আমাদের কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু সিআইডি তাদের নিয়ে তদন্ত করতে চাচ্ছে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?’

এ পর্যায়ে মুনীরুজ্জামান বলেন, ‘অপরাধী যে দেশেরই হোক না কেন, জাতিসংঘ কিংবা ইন্টারপোলের সহায়তায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক। আমরা চাই, প্রকৃত অপরাধীদের পরিচয় বেরিয়ে আসুক। তবে এর আগে মিডিয়ার এত বেশি আলোচনা সঠিক হয়নি। কেউ বলছে টাকা উদ্ধার হবে না, আবার কেউ বলছে টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তদন্তের আগে কিছুই বলা যাবে না। ’ তিনি আরো বলেন, দেশের আর্থিক খাতের নড়বড়ে পরিস্থিতিতে আস্থার সংকটে ভুগছে সমগ্র ব্যাংকিং খাত। এমন পরিস্থিতিতে ২০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন ফজলে কবির। নতুন দায়িত্বের বিষয়ে ফজলে কবির সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আমার ওপর আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ বিপর্যয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট এলে ড্যামেজ রিপেয়ার করার কাজ শুরু করা হবে। ’ ভবিষ্যতে যেন এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখার প্রতিশ্রুতি দেন সাবেক এই আমলা। তিনি বলেন, দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশবলে (রাষ্ট্রপতি আদেশ নম্বর ১২৭) বাংলাদেশ ব্যাংক স্থাপন করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ৬০টি ব্যাংক ও ৩১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া মুদ্রাবাজার, বন্ড মার্কেট, ক্যাপিটাল মার্কেট ও ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে; যা দিয়ে নির্ধারিত হয় অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি। সম্প্রতি রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি ডলার চুরির ঘটনার জেরে নড়ে ওঠে আর্থিক খাতের ভিত্তি। যেখানে ৯১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও অনিয়মের দেখভাল করে সেখানে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতি বেসরকারি খাতের ব্যাংক ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার নতুন গভর্নরের জন্য হবে বড় চ্যালেঞ্জ।


মন্তব্য