kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

অদৃশ্যের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অদৃশ্যের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে

২০. ওরা (মক্কার কাফিররা) বলে, ‘তার কাছে তার প্রতিপালকের কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন?’ বলে দাও, ‘অদৃশ্যের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করছি। ’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২০)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, পৃথিবীর সব মানুষ একসময় একই জাতি ছিল। সবাই এক আল্লাহতে বিশ্বাসী ছিল। পরে স্বার্থের দ্বন্দ্বে মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়ে। একে একে মানুষ প্রতিমা ও প্রকৃতি পূজা শুরু করে। এই বিভক্তি দূর করার জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল পাঠানো হয়েছে। নবুয়তের ধারাবাহিকতায় মহানবী (সা.) সর্বশেষ নবী। তিনি যখন অবিশ্বাসীদের একত্ববাদের প্রতি আহ্বান জানান তখন তারা হঠকারী মনোভাব থেকে অদ্ভুত অদ্ভুত মোজেজা দাবি করে। তারা বলে, ‘সামুদ জাতির মতো আমাদের জন্য অলৌকিক উটনী এনে দিন। ’ কখনো তারা বলে, ‘মক্কার সাফা-মারওয়া পাহাড় স্বর্ণে রূপান্তর করে দিন। মক্কার পাহাড়গুলো সরিয়ে তার স্থানে নদীঘেরা বাগান করে দিন। এমন মোজেজা দেখাতে পারলে আমরা ইমান আনব। ’ আরবের কাফিরদের এসব অযৌক্তিক আবদারের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হয়।

কাফিরদের চাহিদা ও ফরমায়েশ মোতাবেক এসব মোজেজা প্রকাশ না করার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, মক্কার কাফিরদের ইমান আনার জন্য পর্যাপ্ত মোজেজা মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কোরআন এক জীবন্ত মোজেজা। কেবল আরবরাই নয়, গোটা পৃথিবীর কেউ কোরআনের মতো গ্রন্থ রচনা করতে সক্ষম নয়। এই কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে মহানবী (সা.)-এর ওপর। কোরআনের প্রথম সম্বোধন ছিল আরবদের প্রতি। ইমান আনার সদিচ্ছা থাকলে কোরআন পাঠ করেই তারা ইমান আনতে পারত। কোরআন যে বিপ্লব ঘটিয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো গ্রন্থের মাধ্যমে তা সম্ভব হয়নি। কোরআন ছাড়াও অসংখ্য মোজেজা মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নবী করিম (সা.) তাদের চোখের সামনেই আঙুলের ইশারায় চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করেছেন। চাঁদের এক ভাগ পাহাড়ের এই দিকে, আর অন্য ভাগ পাহাড়ের অন্য প্রান্তে পড়ে যায়। এ দৃশ্য দেখেও তারা ইমান আনেনি।

দ্বিতীয়ত, সৃষ্টিজগৎ সম্পর্কে আল্লাহর নীতি হলো, অবিশ্বাসীদের আবদার মোতাবেক কোনো মোজেজা দেখানো হলে ত্বরিত ইমান আনা জরুরি। অন্যথায় দ্রুত আজাব নাজিল করে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এদিকে আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-এর উম্মতকে সমূলে ধ্বংস না করার ওয়াদা করেছেন। তাই কাফিরদের চাহিদা মোতাবেক মোজেজা সব সময় প্রকাশ করা হয়নি, যাতে তারা ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচতে পারে।

তৃতীয়ত, দুনিয়া হলো পরীক্ষাকেন্দ্র। অদৃশ্যে বিশ্বাস এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে বাধ্য করে ইমানদার বানানো হলে পরীক্ষা অর্থহীন। তাই তাদের সব দাবি-দাওয়া পূরণ করে ইমান আনতে বাধ্য হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়নি।

চতুর্থত, নবীগণ আল্লাহর প্রতিনিধি। আল্লাহর আদেশে তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন মোজেজা প্রকাশিত হয়। এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা নিজ ক্ষমতাবলে মোজেজা প্রকাশে সক্ষম। কোনো নবীকে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও অদৃশ্য জ্ঞানভাণ্ডারের অংশীদার করা হয়নি। নিজ থেকে মোজেজা প্রকাশের এখতিয়ার ও সামর্থ্য নবীদের নেই। কোনো নবীর মাধ্যমে মোজেজা প্রকাশিত হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছা ও আদেশই গুরুত্বপূর্ণ। সে অর্থে নবীদের কাছে মোজেজা দাবি করা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না। সবার মতো নবীরাও আল্লাহর আদেশের প্রতীক্ষায় থাকেন। এ শিক্ষা মানুষকে দেওয়ার জন্য অনেক সময় কাফিরদের চাহিদামতো মোজেজা প্রকাশ করা হয়নি।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য