kalerkantho


‘যেকোনো মূল্যে টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘যেকোনো মূল্যে টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে’

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসমবায়বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের পদত্যাগ একটি বিরল দৃষ্টান্ত। কিন্তু সরকার এই অপকর্মের দায় এড়াতে পারে না। কারণ সাধারণ মানুষের জমানো টাকার নিরাপত্তা যদি বাংলাদেশ ব্যাংকেও না থাকে, তবে মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়? তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুকুরচুরির দায় মাথায় নিয়ে গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করেছেন। নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক অর্থসচিব ফজলে কবিরকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা লোপাট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন ড. আতিউর রহমান। গভর্নরের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আতিউরের ‘সৎসাহসের’ প্রশংসা করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আতিউর রহমানের এই পদত্যাগ একটি সাহসী পদক্ষেপ, যা নৈতিক মনোবল ও সৎসাহসের বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ’ এটা ঠিক আছে, তবে সরকারকে যেকোনো মূল্যে এই টাকা উদ্ধার করতে হবে। মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনামূলক টক শো নিটল টাটা আওয়ার ডেমোক্রেসি অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক লুত্ফর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাংবাদিক কাশেম হুমায়ূন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের পদ থেকে আতিউর রহমানের পদত্যাগের পর এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নাজনীন সুলতানা ও আবুল কাশেম নামের দুই ডেপুটি গভর্নরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। এত কিছুর পরও যেন কোথাও একটা অস্পষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে সাংবাদিক কাশেম হুমায়ূন বলেন, এখানে অস্পষ্টতার কিছু নেই। এত বড় একটি ঘটনা দেশে আর কখনো ঘটেনি। হলমার্ক বা ডেসটিনি বা বিসমিল্লাহ গ্রুপ আগে যেসব ঘটনা ঘটিয়েছে, তা ছিল একটু ভিন্ন রকম। এখন বিভিন্ন দিক থেকেই তদন্ত করে দেখছে সরকার। মূল কারণ উদ্ঘাটন করার চেষ্টা হচ্ছে। তা ছাড়া যেকোনো মূল্যে টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, সরকার তো অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

আলোচনার এ পর্যায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির বিষয়টিকে নেহাত একটি চুরি বলে মানতে রাজি নই। এর সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার প্রশ্ন জড়িত। প্রধানমন্ত্রী আতিউর রহমানের প্রশংসা করার পর আসল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হতে পারে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় গভর্নর আতিউর রহমানের পদত্যাগের পর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি। ’ তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সাহেব একা দায়ী হবেন কেন? তাঁর ওপর মন্ত্রী মহোদয় আছেন, তাঁর ওপর সরকার আছে। এটা যদি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতো, তাহলে আমরা তাঁকে দোষী করতে পারতাম। ’


মন্তব্য