kalerkantho


বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে জিয়ার মন্ত্রিত্ব নিইনি

বিশেষ সাক্ষাত্কার ► ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে জিয়ার মন্ত্রিত্ব নিইনি

ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ১৯৪২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে তিনি বিএসসি এবং ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ময়মনসিংহ-৪ আসন থেকে তিনি এ পর্যন্ত তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কারাবরণসহ বহু জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; কিন্তু কোনো কিছুই তাঁকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধ, দেশের রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোশতাক আহমদ

 

কালের কণ্ঠ : বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আপনার প্রথম সাক্ষাৎ ও তাঁর সান্নিধ্যে আসার স্মৃতি নিয়ে কিছু বলুন।

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : আমি আসলে জীবনে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাড়া অন্য কোনো দল করিনি। আমি তখনো ছাত্রলীগ করতাম। ১৯৫৮ সালে বঙ্গবন্ধু ময়মনসিংহে সৈয়দ নজরুল ইসলামের বাসায় এসেছিলেন। তখনই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। সৈয়দ নজরুল ইসলাম বিপুল লোকসমাগমের মধ্যেই ‘মতি, এদিকে আয়’ বলে ডেকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তখন বঙ্গবন্ধু আমাকে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করেন। সেই থেকে আর কখনো অন্যদিকে চোখ ফেরাইনি। বঙ্গবন্ধুর পা ছুঁয়ে তাঁর আদর্শ বুকে ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নিই। আজও সেই আদর্শ ধরেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকব ইনশাআল্লাহ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে বিএনপি-জামায়াত জোটের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জীবনে অনেক জেল-জুলুম-অত্যাচার সহ্য করেছি, তবু কোনো অন্যায় ও দুর্নীতির কাছে কোনো দিন মাথা নত করিনি। আমি সৎ রাজনীতি করেছি। তাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সততার পুরস্কার হিসেবে আমাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। সুদ, ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে কালো টাকার পাহাড় জমিয়ে কোনো লাভ নেই। মৃত্যুর সময় সবাইকে খালি হাতেই কবরে যেতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি তো সারা জীবনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে এসেছেন। আপনার পরিবারের সবাই কি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে, নাকি অন্য কোনো দলও করে?

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : এটা কী বললেন! আমার পরিবারের কেউ অন্য দল করবে? তাকে তো আমি পরিচয়ই দেব না। না, আমি যেভাবে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে সম্মান করি, ভালোবাসি, তেমনি আমার পরিবারের সবাই একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করে। এমনকি এ বয়সেও আমার স্ত্রী মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার সন্তানরাও আওয়ামী লীগের জন্য শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। আমার সহধর্মিণী নুরুন্নাহার বেগম শেফালী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। ছেলে মহিতুর রহমান শান্ত জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। আমি চাই, আমার ছেলে সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুক। সে যদি সৎ ও সাহসী হয়, তবে তাকে ময়মনসিংহের মানুষ আরো আপন করে নেবে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি তো এখন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। আমরা যত দূর জানি, আপনি মন্ত্রিত্ব চাননি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ওপর সর্বোচ্চ আস্থা রাখেন বলেই আপনাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনি কি বাধ্য হয়েছেন মন্ত্রিত্ব নিতে?

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : ঠিকই বলেছেন, মন্ত্রিত্বের লোভ আমার কখনোই ছিল না। এখনো নেই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে কাজ করতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়। আমি যতটা বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসতে পেরেছিলাম, সম্ভবত অনেকেই তা পারেনি। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। তবে এটাও ঠিক, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যা, আমাদের দলীয় সভানেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি কোনো আদেশ করেন, তা জীবন দিয়ে হলেও পালন করার চেষ্টা করি। এ বয়সে এসে তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করতেই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছি।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি এখন আর শুধু ময়মনসিংহের নেতা নন। দলের জন্য, আদর্শের জন্য আপনার যে ত্যাগ তা এখন সারা দেশেই আলোচিত হয়। আওয়ামী লীগের একজন বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের প্রতি আপনার বক্তব্য বা চিন্তাভাবনার কথা কিছু বলুন।

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : নতুন প্রজন্মকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিস্তার ঘটাতে হবে। প্রয়োজনে পাড়ায় পাড়ায় উঠান বৈঠকে যুবকদের একত্র করে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। শুধু সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নানামুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হলে মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিও ভালোবাসা থাকবে।

 

কালের কণ্ঠ : দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে আপনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। একই সঙ্গে আপনি একজন সুযোগ্য শিক্ষাবিদও বটে। আপনার বহু ছাত্রছাত্রী এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত। আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু বলুন।

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : আমি ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার প্রতি একটু বেশি অনুরক্ত ছিলাম। ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও পড়ালেখা থেকে দূরে থাকিনি। ১৯৫৩ সালে আকুয়া মডেল প্রাইমারি স্কুল থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা শেরপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করি। ১৯৫৮ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায়ও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হই। ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক ও একই কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে বিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এ সময় কিছুদিন গফরগাঁও থানার পাঁচবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে ও মনোহরদী থানার হাতিরদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএসসি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ১৯৬৬ সালে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৬৭ সালে এমএসসি পাস করি। এরপর জামালপুরের নান্দিনা কলেজ ও ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে শিক্ষকতা করি। এ ছাড়া ময়মনসিংহ কলেজেও স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষকতা করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে আমি তত্কালীন ঢাকা হল বর্তমানে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। একবার ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর ধরে আমি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। এ ছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব পালন করছি। ময়মনসিংহ সদর-৪ আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। তিনবার ময়মনসিংহ পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ছিলাম। নবম জাতীয় সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, রেল মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, জাতীয় সার সমন্বয় ও বিতরণ কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সদস্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত পর পর তিনবার সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

রাজনীতি করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ ও নির্যাতিত হয়েছি। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে দীর্ঘ ২৩ মাস কারাভোগ করেছি। চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০২ সালে ময়মনসিংহে চারটি সিনেমা হলে বোমা হামলা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে টিএফআই সেলে অসহনীয় নির্যাতন সহ্য করেছি; কিন্তু কখনো আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে সামান্যতম আপস করিনি। শত বাধা ও প্রলোভনের মুখেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার চেষ্টা করেছি। জিয়াউর রহমান ও এরশাদ আমাকে মন্ত্রী বানাতে চেয়েছিলেন। মন্ত্রিত্বের জন্য আমি নীতি বদল করিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল থাকায় ‘মুজিব দর্শন বাস্তবায়ন পরিষদ’ ২০০০ সালে আমাকে বঙ্গবন্ধু পদকে ভূষিত করে।

 

কালের কণ্ঠ : বর্তমান সরকার ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারের জন্য অনেক কিছুই করছে। আপনি সরকারের সেই কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। সাফল্য-ব্যর্থতাকে কিভাবে দেখছেন?

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোরআন ও সুন্নাহর খেদমতে যুগান্তকারী অবদান রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধু ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারের জন্য ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধু কাকরাইলে তাবলিগ জামাতের জন্য মসজিদের জমি দান করে গেছেন। এ ছাড়া টঙ্গীতে তাবলিগ জামাতের বিশাল যে বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে তারও জমি তিনিই দান করে গেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের খেদমতে নানামুখী কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশব্যাপী ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে মসজিদ, মাদ্রাসার ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হচ্ছে; যার ধারাবাহিকতায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে একটি করে মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এখানে লাইব্রেরি, সেমিনার কক্ষ ও মহিলা মুসল্লিদের নামাজের পৃথক জায়গার সংকুলানের ব্যবস্থা থাকছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজও শুরু করেছে।

 

কালের কণ্ঠ : ইসলাম শান্তির ধর্ম। অথচ ইসলামের নামেই জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটছে। মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। এটাকে কিভাবে দেখছেন?

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান :  ইসলাম ধর্ম কখনো কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক, সুখী, সমৃদ্ধ ও আধুনিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষকে সুন্দর মানুষ বানানোর জন্য নায়েবে রাসুল হিসেবে হাফেজদের গড়ে তোলার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন সহযোগিতা করবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সব ধর্মের, সব মতের মানুষকে ভূমিকা রাখতে হবে। কোনোভাবে একে অন্যের প্রতি বা অন্য ধর্মের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করা যাবে না। সবাই মিলেমিশেই শান্তি বজায় রাখতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : বর্তমান সরকারের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তাদের বিচারকাজ এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যেই অনেকের সাজার রায় কার্যকরও করা হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই বিচার নিয়ে কিছু বলবেন কি?

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : রাজাকার-আলবদর বাহিনীর লোকেরা স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেককে খুন করেছে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জত ছিনিয়ে নিয়েছে।   ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধী, নারী ও শিশু নির্যাতনকারী, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের ফাঁসির রায়ে সাধারণ মানুষের মতো আমিও খুশি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ন্যায়বিচার ইতিহাস হয়ে থাকবে। দেশ যুদ্ধাপরাধের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করছে, যা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনার ছোট ছেলে একজন আদর্শ চিকিৎসক ছিলেন। তাঁর মৃত্যু আজও ময়মনসিংহবাসীকে কাঁদায়। তাঁকে নিয়ে কিছু বলবেন কি?

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : ২০১২ সালের ৩ নভেম্বর ভালুকা উপজেলার ভরাডোবায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় আমার ছোট ছেলে ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ। সে ছিল খুবই শান্ত, অমায়িক ও নিবেদিতপ্রাণ একজন চিকিৎসক। চিকিৎসায় আন্তরিকতার কারণেই মানুষ তাকে এখনো স্মরণ করে।

 

কালের কণ্ঠ : হজ নিয়ে অনেক কর্মকর্তা ও এজেন্সির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর অবশ্য তা অনেক কমে এসেছে। কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন বিষয়টিকে?

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : কোনো কর্মকর্তা বা হজ এজেন্সি যদি হজযাত্রী (হাজিদের) নিয়ে প্রতারণা বা হজ নিয়ে দুর্নীতি করার চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব; এটা সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি। এরই মধ্যে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিও। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী হোক কিংবা হজ এজেন্সির লোকজনই হোক, দুর্নীতি বা প্রতারণার জন্য কারো কোনো ক্ষমা নেই। প্রমাণ পাওয়া গেলেই কঠোর শাস্তি।

 

কালের কণ্ঠ : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

 

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান : আপনাদেরও ধন্যবাদ।


মন্তব্য