kalerkantho


‘দেশবাসী বুঝে গেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘দেশবাসী বুঝে গেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যসচিব ব্যারিস্টার এম হায়দার আলী বলেছেন, একে তো এ সরকারের অধীনে, আবার তৃণমূলে ভোট—কোনো বিবেচনায়ই দলীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। বিষয়টি ইতিমধ্যে সারা দেশের ঘটনা থেকেও আঁচ করা গেছে।

দেশবাসী বুঝে গেছে যে এই সরকারের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। এই সরকারের শুরুতে যখন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করা হয় তখন শুরুর দিকে সবাই দেখেছে বিএনপির প্রার্থীরা কতটি এলাকায় জিতেছে। কিন্তু তার পরও নির্বাচন কমিশন ছয়টি ধাপে নির্বাচনে নামে এবং তারা সরকারি দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে। নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। এখন দেশের যে পরিস্থিতি তাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু না করলে মানুষের মন থেকে আতঙ্ক যাবে না। সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ‘অন্য দৃষ্টি’ অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে ব্যারিস্টার এম হায়দার আলী এ কথা বলেন। সাংবাদিক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রফেসর আবদুল মান্নান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, এ বছর থেকে তো তৃণমূলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে হচ্ছে। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচন হচ্ছে ছয় ধাপে।

প্রথম ধাপে ৭৫২টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২২ মার্চ। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মার্চ ৭১০টি ইউপিতে, তৃতীয় ধাপে ২৩ এপ্রিল ৭১১টিতে, চতুর্থ ধাপে ৭ মে ৭২৮টিতে, পঞ্চম ধাপে ২৮ মে ৭১৪টিতে এবং ষষ্ঠ ধাপে ৪ জুন ৬৬০টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ করা হবে—কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন।

জবাবে ব্যারিস্টার হায়দার আলী বলেন, যত ধাপেই হোক না কেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। দেশে বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা চার হাজার ২৭৯টি। সর্বশেষ ইউপি নির্বাচন হয়েছিল ২০১১ সালের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত। তখনো কয়েক দফায় নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপিদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট কাজী আজমের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় পাঁচ কর্মীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে ভোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাঁর ভাই এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী। এভাবে শুধু ভোলা জেলা নয়, সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি এবং তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে চলছে হামলা-মামলা। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের অভিযোগের শেষ নেই। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হয় তবে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাগ্রে কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।

এ পর্যায়ে প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন এতই খারাপ হয় তবে আপনারা বিএনপি কেন আওয়াম লীগের অধীনে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। এটা আসলে কোনো কথা নয়। বিএনপি এখন বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করছে। নির্বাচন কমিশন যতটা সুষ্ঠু হওয়া দরকার তারা তা চেষ্টা করে যাচ্ছে। সারা দেশের এতগুলো ইউনিয়নে তো আর নির্বাচনী কর্মকর্তা দিয়ে কিছু করা যাবে না। এর জন্য বিএনপির সব স্থানে প্রার্থী দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বিএনপি সব স্থানে প্রার্থী না দেওয়ার কারণে এখন সরকারদলীয় প্রার্থীরা নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে মারামারি করছে।

আলোচনার এ পর্যায়ে ব্যারিস্টার হায়দার আলী বলেন, সরকার তো নিজেদের দোষ কখনো দেখে না। আর এ কারণেই সরকারদলীয় এমপিরা বা নেতারা নির্বাচন কমিশনের কোনো দোষ দেখেন না। তিনি বলেন, সরকার একদিকে বলছে নিরপেক্ষ নির্বাচন, অন্যদিকে বলছে বিএনপি নেতারা মামলার কারণে মাঠে নেই। এগুলো বলে লাভ নেই। আসলে দেশের মানুষ জানে সরকার আদতে কতটা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করছে।


মন্তব্য