kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

অন্নদাশঙ্কর রায়

অন্নদাশঙ্কর রায় ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। জন্ম ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের ওড়িশায়। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইএ পরীক্ষায় প্রথম স্থান পান। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক পাস করেন। এমএ পড়ার সময় আইসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান পেয়ে প্রশিক্ষণের জন্য চলে যান ইংল্যান্ড। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ, কিংস কলেজ, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস, লন্ডন স্কুল অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরই ফাঁকে সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ইত্যাদি দেশ ভ্রমণ করেন। তাঁর এ ভ্রমণের কাহিনী ‘পথে প্রবাসে’ নামে বিচিত্রায় প্রকাশিত হয়। ১৯২৯ সালে অন্নদাশঙ্কর ফিরে এসে বহরমপুরে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগ দেন। ১৯৪৭ সালে তিনি উচ্চতর ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (আইএএস) সদস্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন ও বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ১৯৫০ সালে পদত্যাগ করেন। এর পর থেকে তিনি শান্তিনিকেতনে বসবাস শুরু করেন। ছড়া, কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা বাংলায় ১২৩, ইংরেজিতে ৯, ওড়িয়া ভাষায় তিন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘আগুন নিয়ে খেলা’, প্রথম কবিতার বই ‘রাখী’, প্রথম ছড়ার বই ‘ইড়কি ধানের মুড়কি’, ছোটদের বই ‘রাঙা ধানের খই’, প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘প্রকৃতির পরিহাস’ ইত্যাদি। তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিল্পীর স্বাধীনতা ও নন্দনতত্ত্বে জটিল জিজ্ঞাসা নিয়ে লিখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অ্যালিস ভার্জিনিয়া অনফোর্ডকে বিয়ে করেন ও স্ত্রীর নাম দেন লীলা রায়। লীলা রায় তাঁর বহু বই বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির জন্মকাল থেকে তিনি আজীবন সভাপতি ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পুরস্কার, বিশ্বভারতীর দেশিকোত্তম সম্মান, সাহিত্য আকাদেমি ও আনন্দ পুরস্কার (দুইবার) এবং বিদ্যাসাগর পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন। ২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি পরলোকগমন করেন।

[বাংলাপিডিয়া]


মন্তব্য