kalerkantho


‘বাংলাদেশ ব্যাংক কাজটি ঠিক করেনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘বাংলাদেশ ব্যাংক কাজটি ঠিক করেনি’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, মনে হয় ফেইক রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছিল। আর ওই রিকুইজিশনের সূত্র ধরেই এত বিপুল পরিমাণ অর্থ রিজার্ভ ফান্ড থেকে লুটে নেওয়া হয়েছে।

এই টাকা যেহেতু কোনো ব্যাংকিং চ্যানেলে নেই—ফেরত আনা নিয়ে অনেক সন্দেহ-সংশয় রয়েছে। আবার ঘটনা ঘটেছিল মধ্য ফেব্রুয়ারিতে। এরপর প্রায় এক মাস পার হয়ে গেলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা কেন অর্থমন্ত্রী, সচিব বা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেনি, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কাজটি ঠিক করেনি। তারা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা অটোনমাস বডি—ঠিক আছে। তার পরও তো এত বড় একটি ঘটনা লুকিয়া রাখা যায় না। কেন বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের আচরণ করল তারও তদন্ত হতে পারে। রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আইয়ের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো গ্রামীণফোন আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা লোপাটের ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিশ্লেষণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, কয়েক দিন ধরে সারা দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। অনেকে বলছেন, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি পর্ষদ সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ রকম আচরণে নাখোশ অর্থ মন্ত্রণালয়। রবিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলামুল আলম বলেছেন, ‘রিজার্ভের অর্থ খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানতে এসেছি। ’ এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি বোর্ড সভায় (২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ) বিষয়টি উপস্থাপনই করেনি অডিট কমিটি। কেন এমনটি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়গুলো অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টি জরুরি বোর্ড সভায় বসতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন। এই টাকা আর ফেরত আসার কোনো সুযোগ আছে কি না?

জবাবে এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, না, ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকাটা নেই। তাই এটা বলার সুযোগ কম যে সহজেই লোপাট হওয়া টাকা ফেরত আনা যাবে।

সঞ্চালক বলেন, তাহলে এখন যে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে, সেটা আসলে কী হবে?

জবাবে এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আন্তর্জাতিক তদন্ত ছাড়া এ ধরনের মামলা করা যাবে না। আর আমাদের এখান থেকে যে ফেইক রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কিছুই বলছে না। ’

এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, সরকার তো অনেক তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালকও বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকও পৃথক তদন্ত কমিটি করছে।

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এটা মনে হয় ভেবেচিন্তে করা ভালো। কারণ একাধিক তদন্ত সংস্থা হলে একটি গোঁজামিল তৈরি হতে পারে। এক সংস্থা তদন্তকালে বলবে এটা ঠিক, অন্যরা বলবে ওটা ঠিক। তখন প্রকৃত কারণ হয়তো উদ্ঘাটনে সমস্যা থেকেই যাবে। এখন যেই তদন্ত বা যেকোনো উদ্যোগই নেওয়া হোক না কেন, সব কিছু আগে থেকেই বুঝেশুনে করা উচিত। না হয় অতীতের হলমার্ক, ডেসটিনি বা আরো যেসব অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার তদন্ত হয়েছে, তার মতো ধীরগতি হতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটির দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি থাকার কারণেই এমনটি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুরো সিস্টেমে দুর্বলতাসহ দক্ষ জনবলের অভাব ছিল। যারা আছে তাদের সেভাবে প্রশিক্ষিত করা হয়নি। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো কঠোর হতে হবে।


মন্তব্য