kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই প্রতিমার

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই প্রতিমার

১৮. তারা আল্লাহ ছাড়া যার উপাসনা করে তা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। (উপাসনার কৈফিয়ত হিসেবে) তারা বলে, ‘এই প্রতিমাগুলো আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশকারী।

’ বলে দাও, ‘তোমরা কি আল্লাহকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ, যা তিনি জানেন না?’ (অথচ পৃথিবীতে আল্লাহর অজানা কোনো কিছু নেই। )

আল্লাহ মহান, পবিত্র এবং তারা যাকে শরিক (আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা) করে, তা থেকে তিনি ঊর্ধ্বে। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১৮)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করা, তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করা সবচেয়ে বড় অপরাধ। মিথ্যা আরোপের মধ্যে এটাও অন্তর্ভুক্ত যে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য প্রতিমার উপাসনা করা হয়। অনেকে অদৃশ্য স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে, আবার প্রতিমার পূজাও করে। এর কৈফিয়ত হিসেবে তারা বলে থাকে, ‘এই প্রতিমাগুলো আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে। ’ অথচ কথাটার কোনো ঐশী ভিত্তি নেই। এটা তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস। আলোচ্য আয়াতে তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

এখানে বলা হয়েছে, প্রতিমা বা মূর্তি মানুষের উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না। এগুলো আল্লাহর কাছে কারো জন্য সুপারিশ করতে সক্ষম নয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে এগুলোকে সুপারিশকারী হিসেবে ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। বরং এটা তাদের কল্পিত ও বানানো কথা। এমন যেকোনো শরিক ও অংশীদার থেকে আল্লাহ সম্পূর্ণ পবিত্র।

পৌত্তলিকরা দেব-দেবীকে সৃষ্টিকর্তার কাছে মানুষের পক্ষে সুপারিশকারী হিসেবে মনে করে। কিন্তু ইসলাম তা প্রত্যাখ্যান করে। ইসলাম এই শিক্ষা দেয় যে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই। তাঁর কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই। তিনি বস্তুগত সব প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে। কোনো কিছুকেই তাঁর সমকক্ষ হিসেবে কল্পনা করা যায় না। কোনো দেব-দেবীকে তিনি সুপারিশকারী হিসেবে নিযুক্ত করেননি। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ শাফায়াত বা সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে না। এটাই ইসলামের শিক্ষা। এটাই কোরআনের নির্দেশনা।

মাওলানা ইউসুফ আলী লিখেছেন, ‘যখন কেউ বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কোনো কিছুর উপাসনা করে এবং বিশ্বাস করে যে এসব নিষ্প্রাণ বস্তু বা প্রতীক তাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে, তখন তাঁদের আত্মার মধ্যে বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহর রহমত ও করুণা অনুধাবনের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। কিভাবে নিষ্প্রাণ কাঠের টুকরা কিংবা পাথরের খণ্ড বা মৃত লোকের মাজার আল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, আল্লাহর কাছে সুপারিশ করতে পারে?’ (সূত্র : আল-কোরআন অ্যান্ড তাফসির)

আয়াতের মধ্যভাগে বলা হয়েছে : বলে দাও, ‘তোমরা কি আল্লাহকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ, যা তিনি জানেন না?’ আয়াতের এই অংশের ব্যাখ্যা হলো, কোনো বস্তু আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার মানেই হচ্ছে আদতে সেটির অস্তিত্বই নেই। কেননা পৃথিবীতে যা কিছুর অস্তিত্ব আছে, সবই আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। আকাশ ও পৃথিবীর সব কিছুই আল্লাহর আয়ত্তাধীন। দৃশ্য-অদৃশ্য, প্রকাশ্য-গোপন সব কিছুই তাঁর কাছে দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট। কাজেই এসব প্রতিমা আল্লাহর কাছে সুপারিশ করতে পারে না। আল্লাহর কাছে সুপারিশ করতে সক্ষম কোনো প্রতিমার অস্তিত্বই নেই। এখানে প্রতিমা কথাটা ব্যাপক। মানুষ আল্লাহ ছাড়া যেসব বস্তুর পূজা করে, উপাসনা করে—চাই তা মানুষই হোক না কেন—সবই ‘প্রতিমা’। এরা আল্লাহর প্রতিনিধি নয়। এরা আল্লাহর কাছে কারো মুক্তির জন্য সুপারিশ করতে সক্ষম নয়। আল্লাহর প্রতিনিধি সব নবীর শিক্ষা হলো, কেবল আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করা যাবে না।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য