kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


‘সামাজিক মূল্যবোধ কমে গেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘সামাজিক মূল্যবোধ কমে গেছে’

সামাজিক মূল্যবোধ কমে গেছে, এ জন্য দেশে শিশু ও নারী হত্যার মতো অপরাধ বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে শিশুহত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার কয়েকটির বিচার ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এটা একটা দৃষ্টান্ত বলা যাবে। তবে আমাদের সর্বাগ্রে নিজেদের সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় কাজ করতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে শিশু নির‌্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। রুখে দাঁড়াতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে যদি আমরা সামজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসি, তবে সমাজের এ ধরনের প্রবণতা অনেক কমে আসবে। ’ তিনি বলেন, সিলেটে ১৩ বছরের সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার জন্য চারজনের মৃত্যুদণ্ড আর খুলনায় ১৩ বছরের রাকিব হাওলাদারকে হত্যার দায়ে দুজনকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে পর পর এই দুটি শিশুহত্যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ এবং ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সরকার দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নেওয়ায় জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি নেমে আসে। তার পরও সামাজিক অস্থিরতা ও দ্বন্দ্ব থেকে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর‌্যালোচনাভিত্তিক টক শো সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক আহমেদ জোবায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সলিমুল্লাহ খান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।

আলোচনার শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসের দুটি স্পর্শকাতর হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়ে গেল ৮ নভেম্বরের মধ্যেই। এই দুটি মামলার বিচারের জন্য আদালতের সময় লেগেছে মাত্র তিন-চার মাস, যথাক্রমে ১৯ ও ১১টি কার্যদিবস। কোনো হত্যাকাণ্ডের এত দ্রুত বিচারের নজির বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। আইনজীবীরা বলেছেন, মামলা দুটি ঘিরে জনগণের আগ্রহ ও প্রচণ্ড ক্ষোভের কারণে এত তাড়াতাড়ি এই দুটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

আলোচনার এ পর‌্যায়ে ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, শুধু রাজন কেন, এরপর হবিগঞ্জে আরো চার-চারটি শিশুকে হত্যা করা হলো। ঢাকায় একজন মা তাঁর দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন। যে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে, সবই ইচ্ছা করলে সরকার দ্রুত বিচার আইনে বিচারের ব্যবস্থা করতে পারে। এখন শুধু বিচার হলেই চলবে না, সামাজিকভাবে এসব প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি বলেন, নারী নির‌্যাতন আইন কঠোরভাবে গ্রয়োগ করে ক্রমবর্ধমান নারী ও শিশু নির‌্যাতনের ঘটনাকে হ্রাস করার লক্ষ্যেই ‘জামিন’ এবং ‘অপরাধ আমলে নেওয়ার’ বা ‘তদন্তের নির্দেশ’ দেওয়ার ক্ষমতাকে ‘ট্রাইবু্যুনাল’-এর কাছে অর্পণ করা হয়েছে। কিন্তু আইন প্রণেতাদের এই সদিচ্ছার অভাবে অনেকটাই চাপা পড়েছে অসৎ ও ধুরন্ধর ব্যক্তি কর্তৃক ক্রমাগত আইনটির অপব্যবহারের জন্য। আইনটি যতখানি ভালো, ঠিক ততখানিই কঠোর। এ আইনে মিথ্যা মামলা করার জন্য সাজার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ আইনে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ করার জন্য কোনো অভিযোগকারী বা এজাহারকারীর সাজা হয়েছে—এমন উদাহরণ খুব কম।

আলোচনার এ পর‌্যায়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমাদের দেশে আগেও অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। কিন্তু গত বছরের রাজন ও রাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সারা দেশে মানুষের মনে দাগ কাটে। সবাই ওই দুটি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার আশা করছিল। সরকারও সেভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে। আশা করছি, আগামীরও সরকার এভাবে আইনি ব্যবস্থা দ্রুততর করার উদ্যোগ নেবে। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা যারা সমাজে বসবাস করি সবারই দায়িত্ব আছে, আশপাশে কী হচ্ছে তার দিকে লক্ষ রাখা। এখন আমরা কেমন জানি একটু অন্য রকম হয়ে গেছি। একজন আরেকজনের কোনো খোঁজ নিই না। এটা না করে সবারই সামাজিক জীব হিসেবে একে-অন্যের খোঁজ নিতে পারি। এতে সমাজে অপরাধপ্রবণতাও অনেক কমে আসবে। ’


মন্তব্য