ব্যক্তিত্ব-335336 | মুক্তধারা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭

ব্যক্তিত্ব

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

কে জি মুস্তাফা

সাংবাদিক, কলামিস্ট, ভাষাসৈনিক, সাবেক রাষ্ট্রদূত কে জি মুস্তাফার পুরো নাম খোন্দকার গোলাম মুস্তাফা। ১৯২৮ সালে সিরাজগঞ্জের কুড়িপাড়ায় জন্ম। বাবা খোন্দকার ওয়াসিউজ্জামান, মা তাহিয়াতুন্নেসা। কে জি মুস্তাফা সিরাজগঞ্জের বনোয়ারীলাল বিদ্যালয় ও পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ হয়ে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। এখানে পড়ালেখার সূত্রেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচিত হন এবং ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। তবে এমএ পড়ার সময় কর্মচারীদের পক্ষের আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যুক্ত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ করেন ১৯৫৭ সালে। কলেজে পড়াকালেই তাঁর সাংবাদিকতা শুরু। কলকাতার ‘দৈনিক আজাদ’-এ কাজ করেছেন। পরে ইনসাফ, ইত্তেফাক, বাংলাদেশ অবজারভার, পূর্বকোণ ও দৈনিক সংবাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি ‘দৈনিক মুক্তকণ্ঠ’-এর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি তত্কালীন পাকিস্তান ফেডারেল জার্নালিস্টস ইউনিয়নের সভাপতি এবং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। এ ছাড়া ইরাক টুডে ও ডেইলি বাগদাদ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি কাজ করেন। ভাষা আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে একুশে পদক দেওয়া হয়। সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্যও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। দেশের সাংবাদিকতার উন্নয়ন ও বিকাশে তাঁর অবদান ভোলার নয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি লেবানন এবং ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ইরাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এ ছাড়া দীর্ঘকাল কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি ২০১০ সালের ১৩ মার্চ মারা যান।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য