kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

আল-কোরআনের দৃৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় অপরাধ

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আল-কোরআনের দৃৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় অপরাধ

১৭. যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে অথবা আল্লাহর আয়াতসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে তার চেয়ে বড় অপরাধী আর কে? পাপীরা তো সফলকাম হয় না। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১৭)

তাফসির : কোরআন আল্লাহর বাণী। ওহির মাধ্যমে তা মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এসেছে। মুহাম্মদ (সা.) কোরআনের রচয়িতা নন। এ বিষয়ে বর্ণনা ছিল আগের কয়েকটি আয়াতে। আলোচ্য আয়াতের মূল বক্তব্য হলো : ওই ব্যক্তি সবচেয়ে বড় অপরাধী, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, নবী না হয়েও নবুয়তের দাবি করে, আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করে। চূড়ান্ত পরিণতিতে এসব লোক সফল হয় না। সফল হতে পারে না।

নবীরা পৃথিবীতে আল্লাহর বিশেষ প্রতিনিধি। তাই কেউ নবুয়তের দাবি করলে আল্লাহ এর প্রমাণও স্পষ্ট করে দেন। নবুয়তের সত্যতা প্রমাণের জন্য তিনি তাঁদের অলৌকিক ক্ষমতা দান করেন। আর কেউ যদি মিথ্যা নবুয়তের দাবি করে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায়ই তার মুখোশ উন্মোচন করে দেন। দুনিয়ায়ই তার করুণ পরিণতি ঘটে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ সত্য অসংখ্যবার প্রমাণিত হয়েছে।

মহানবী (সা.) আল্লাহর সত্য নবী ছিলেন। তাঁকে দেখে ও তাঁর কথা শুনেই মানুষ বুঝতে পেরেছে যে তিনি আল্লাহর সত্য নবী। তিনি মিথ্যা বলতে পারেন না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, ‘মহানবী (সা.) মদিনায় এলে আমরা খুব দ্রুত তাঁর কাছে যাই। আমি যখন তাঁকে প্রথম দেখি তখনই আমার অন্তর সাক্ষ্য দেয় যে এই জ্যোতির্ময় চেহারা কখনো কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না। ’ তিনি আরো বলেন, “আমি সর্বপ্রথম তাঁর কাছে এ কথাগুলো শুনলাম : ‘হে লোক সকল! তোমরা পরস্পর সালামের প্রচার-প্রসার করো। ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও। আত্মীয়দের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করো। মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন (তাহাজ্জুদের) নামাজ আদায় করো। এসব কাজ করলে তোমরা নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। ’” (ইবনে কাসির)

আল-কোরআনের দৃৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় পাপ

আল্লাহর যেকোনো অবাধ্যতা ও বিরুদ্ধাচরণই পাপ। তবে ভালো কাজের যেমন বিভিন্ন স্তর আছে, তেমনি পাপ কাজেরও বিভিন্ন স্তর আছে। ইসলামে গুনাহ বা পাপ কাজকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক. কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ। দুই. সগিরা গুনাহ বা ছোট পাপ। সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক বা অংশীদার সাব্যস্ত করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করা ক্ষমা করেন না। এটা ছাড়া অন্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৮)

এর পাশাপাশি ওপরে উল্লিখিত আয়াত থেকে জানা যায়, আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করা, মিথ্যা নবুয়তের দাবি করা, আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করা এবং আল্লাহর নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। যারা কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন যাপন করে না তারা অবশ্যই অপরাধী। তবে যারা কোরআনের বিধান বদলে দেয়, বদলে দিতে চায়, তারা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধী। যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়, যারা ইবাদত পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাদের চেয়ে বড় অপরাধী আর কে হতে পারে? আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং এগুলোর ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে, তাদের চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে?’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১১৪)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য