kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘এমন ইউপি নির্বাচন নজিরবিহীন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘এমন ইউপি নির্বাচন নজিরবিহীন’

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেকে বিজয়ী হয়েছেন এমন নজির থাকলেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার নজির বাংলাদেশে মনে হয় কমই আছে। এ মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. ফেরদৌস আহমেদ।

তিনি বলেছেন, এখন প্রথম ধাপে অনেক ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৬৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যানরা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এতে প্রথম ধাপের ৯ শতাংশ ইউপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকল না। এটা প্রথম তৃণমূল পর্যায়ে দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন। এ জন্যই এমন হয়েছে—এটা অনেকে মনে করতে পারেন। কিন্তু এমন চলতে থাকলে আগামী দিনে গণতন্ত্র পূর্ণ প্রতিষ্ঠা পাবে না। কারণ ইউনিয়ন পরিষদ হলো দেশের সবচেয়ে ছোট প্রশাসনিক ব্যবস্থা। যদি সেই তৃণমূলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে কিভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে। শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো নিটল টাটা আওয়ার ডেমোক্রেসি অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক সেলিম ওমরাও খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাংবাদিক আবু সাঈদ খান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াহিদুজ্জামান।  

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বাধায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারার অভিযোগ করেছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বরগুনা সদর, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া, ঝালকাঠির নলছিটি, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে বাগেরহাটে আওয়ামী লীগের ১৯ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আজিজ শরীফকে মারধর ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাউসার ইকবালের সমর্থকদের পথে আটকে রেখে মনোনয়নপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। খুলনার তেরখাদা উপজেলার সদর ও ছাগলাদহ ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ছিনতাই, সন্ত্রাসী হামলা, হুমকি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং রিটার্নিং অফিসারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি অবিলম্বে পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশ ও নির্বাচনী কর্মপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের বদলির আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে তেরখাদা সদর ও ছাগলাদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পুনঃ তফসিল দাবি করে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘সবই ঠিক আছে। প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ সরকারই নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সেটা কোনো বড় কথা নয়। কথা হলো কেন এমনটা হচ্ছে? হয় যেসব এলাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছে, সেখানে কোনো প্রার্থী ছিলেন না বা যাঁরা প্রার্থী হতে চেয়েছেন তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি। যদি পরের খবরটি সত্য হয়, তবে আমাদের কথা হলো, এটি যেহেতু দলীয় প্রতীকের প্রথম নির্বাচন, সেখানে আগে দলের মধ্যেই গণতন্ত্র আছে কি না তা ভেবে দেখতে হবে। যদি দল সেটাকে গ্রহণ করে, তবে সেটা তাদের ব্যাপার। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে আগে দলের মধ্যে গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে, পরে অন্য কোথাও। ’

আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, সামনে দুটি বড় দলের জাতীয় কাউন্সিল। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, জাতীয় সম্মেলন হলো দলকে সংগঠিত করার ব্যবস্থা। একটি দল দুই বছর বা তিন বছর পর এ ধরনের জাতীয় সম্মেলন করে থাকে। এখানে ক্ষমতাসীন দল কিভাবে সম্মেলন করছে সেটা বড় না হলেও সবার নজর বিএনপির সম্মেলনের দিকে। কারণ তারা এখন ক্ষমতায় নেই। দেখা যাচ্ছে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের তথা চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এখন অন্য পদগুলোতেও তাঁদের মনোনীতরাই নির্বাচিত হবেন। সেখানে আদতে কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। চেয়ারপারসন বা সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের মনোনীতরাই সুযোগ পাবেন। এর পরও এভাবে সম্মেলন হলে নেতাকর্মীরা উত্সবমুখর হয়।


মন্তব্য