ব্যক্তিত্ব-334217 | মুক্তধারা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭

ব্যক্তিত্ব

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

নীলুফার ইয়াসমীন

সংগীতশিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন উচ্চাঙ্গসংগীত, নজরুলসংগীত, অতুল প্রসাদের গান, দ্বিজেন্দ্রগীতি, রজনীকান্তের গানে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। তিনি ১৯৪৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এক সংগীতসমৃদ্ধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সংগীতচর্চায় শৈশব থেকেই তিনি মা-বাবার সাহচর্য পেয়েছেন। নীলুফার ইয়াসমীন ছিলেন পাঁচ বোনের মধ্যে চতুর্থ। অন্য বোনেরাও নিজ নিজ শিল্পক্ষেত্রে প্রথিতযশা শিল্পী। বড় বোন ফরিদা ইয়াসমীন ও মেজ বোন ফিরোজা ইয়াসমীন উজ্জ্বল সংগীত প্রতিভা। সেজ বোন নাজমা ইয়াসমীন অভিনয়-আবৃত্তি জীবনে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ছোট বোন সাবিনা ইয়াসমীন দেশের অন্যতম খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পী। নীলুফার ইয়াসমীন উচ্চাঙ্গসংগীতের পাশাপাশি টপ্পা, ঠুংরি, কীর্তন ও আধুনিক গানে অসামান্য ভূমিকা রাখেন।

নীলুফার ইয়াসমীন ১৯৬৩ সালে এসএসসি ও ১৯৬৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে সমাজবিজ্ঞানে বিএ (সম্মান) ও ১৯৭০ সালে একই বিষয়ে এমএ পাস করেন। ১৯৬৪ সালে পণ্ডিত পি সি গোমেজের কাছে উচ্চাঙ্গসংগীত শিক্ষা শুরু করেন। পরে সংগীতগুরু প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, মীরা বন্দ্যোপাধ্যায়, ওস্তাদ সগীরউদ্দিন খাঁ, ওস্তাদ ফজলুল হক, ওস্তাদ এ দাউদ প্রমুখের কাছে সংগীত বিষয়ে তালিম নেন। শেখ লুত্ফর রহমান ও সুধীন দাশের কাছে তিনি নজরুলসংগীতের শিক্ষা নেন। নীলুফার ইয়াসমীন ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের সহধর্মিণী। অতি অল্প বয়সে ঢাকা বেতার দিয়ে শুরু করে নীলুফার ইয়াসমীন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বেতার ও টেলিভিশনে সংগীত পরিবেশন করেন। নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭৫ সালে বাচসাস পুরস্কার ও ১৯৮৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০০৩ সালের ১০ মার্চ বিশিষ্ট এই সংগীতশিল্পী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে সংগীতে একুশে পদক ২০০৪ (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।

[বাংলা পিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য