kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

কোরআনের বিধান পরিবর্তনের অধিকার কারো নেই

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কোরআনের বিধান পরিবর্তনের অধিকার কারো নেই

১৫. বলে দাও, ‘নিজ থেকে এতে (কোরআনে) পরিবর্তন আনার অধিকার আমার নেই। আমার প্রতি যে ওহি অবতীর্ণ করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি।

আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করলে আমি তো মহাদিবসের (কেয়ামতের দিনের) শাস্তির ভয় করি। ’ [সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১৫ (শেষাংশ)]

তাফসির : অবিশ্বাসীরা আল্লাহর বিধানে বিশ্বাস করে না। তারা নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী কোরআনের আয়াতের পরিবর্তন চায়। এ বিষয়ে বর্ণনা ছিল এ আয়াতের প্রথম অংশে। এর জবাবে আয়াতের এই অংশে বলা হয়েছে, মহানবী (সা.) কোরআনের রচয়িতা নন। কোরআন আল্লাহর বাণী। এতে পরিবর্তন আনার অধিকার কারো নেই। কোনো নবীকে আল্লাহর বিধান পরিবর্তনের অধিকার দেওয়া হয়নি। মহানবী (সা.)-কেও কোরআনের কোনো বিধান পরিবর্তনের অধিকার দেওয়া হয়নি। নবীরা হচ্ছেন আল্লাহর বাণীর বাহকমাত্র। এর সামান্যতম পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের ক্ষমতা তাঁদের নেই। কেউ তা পছন্দ করুক বা না করুক, গ্রহণ করুক বা না করুক—সেটা দেখা নবীদের দায়িত্ব নয়। নবীদের দায়িত্ব আল্লাহর বাণী সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যুগে যুগে অন্যান্য আসমানি গ্রন্থের মধ্যে যে বিকৃতি ঘটেছে তার একমাত্র কারণ নিজ স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার। তাই এ বিষয়ে ইসলামে সবিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোরআনের পাঠকরা জানেন, কোরআন বিশ্বমানবতার হেদায়েতের উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হয়েছে। তবে কোরআনের প্রথম সম্বোধন ছিল আরব জাতির প্রতি। কেননা মহানবী (সা.) আরবেই জন্মগ্রহণ করেছেন। আসলে এটা উপলক্ষ মাত্র। অন্যথায় তত্কালীন সময়ে গোটা বিশ্বের অবস্থা আরবের ব্যতিক্রম ছিল না। সিরাতবিষয়ক গ্রন্থগুলোতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে। তাই আরবদের মধ্যে যে কুসংস্কার, বর্বরতা, জুলুম, অরাজকতা চলছিল, পৃথিবীর অন্যত্রও তা ছিল। গোটা পৃথিবীই তখন আদর্শহীন হয়ে পড়েছিল। কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল।

ইতিহাস সাক্ষী, কোরআনের শব্দশৈলী, দুর্লভ ইতিহাস, বর্ণনার স্বাতন্ত্র্য, বিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বর্ণনার বিষয়ে অবিশ্বাসীরাও দ্বিমত পোষণ করতে পারেনি। তবে আদর্শহীন, বল্গাহীন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে কোরআন বাধা সৃষ্টি করেছে। নির্বিঘ্নে কেউ যাতে অপরাধ করে পার না পায় এ জন্য কোরআন কঠোর আইনের শাসন জারি করেছে। বিষয়টি অপরাধীদের ভালো না লাগারই কথা। এমন প্রেক্ষাপটে তারা কোরআনের অংশবিশেষ পরিবর্তনের দাবি জানায়। আলোচ্য আয়াতে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলা হয়েছে, কোরআনের বিধান পরিবর্তনের অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। যে মহামানবের ওপর কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর প্রতি আল্লাহর নির্দেশ হলো : বলে দাও, ‘নিজ থেকে এতে (কোরআনে) পরিবর্তন আনার অধিকার আমার নেই। আমার প্রতি যে ওহি অবতীর্ণ করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করলে আমি তো মহাদিবসের (কেয়ামতের দিনের) শাস্তির ভয় করি। ’

কোরআনের নির্দেশনা মোতাবেক নিজের জীবন পরিচালিত না করা ব্যক্তিগত অপরাধ। কিন্তু কোরআনের আয়াত বা বিধান পরিবর্তন করা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। এ অপরাধ সংক্রমিত হয় অন্যদের মধ্যে। এতে সামষ্টিক পাপ হয়। পরকালের আগে ইহকালেও কখনো কখনো এ পাপের শাস্তি দেওয়া হয়। শ্রেষ্ঠতম তাফসিরবিদ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, ‘আরবের পাঁচজন লোক মহানবী (সা.) ও কোরআন নিয়ে বিদ্রূপ করত। তারা হলো—ওলিদ বিন মুগিরা, আস বিন ওয়ায়েল, আসওয়াদ বিন মুত্তালিব, আসওয়াদ বিন আবদে ইয়াগুস ও হারেস বিন হানজালা। তাদের সবার অপমৃত্যু ঘটেছে। ’ (তাফসিরে মুনির : ৬/১৩৬)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য