kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘আর্থিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল প্রমাণিত’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘আর্থিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল প্রমাণিত’

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাড়ে আট শ কোটি টাকা লুটে নেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নড়বড়ে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা কতটা দুর্বল।

এর আগেও এ সরকারের আমলেই হলমার্ক কেলেঙ্কারি করে সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়া হয়েছে। এখন আবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা লুটের ঘটনা ঘটল। এ অবস্থায় সরকার যদি সত্যি কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারে, তবে কে এর দায়দায়িত্ব নেবে? কারণ লুটে নেওয়া অর্থ সাধারণ মানুষের গচ্ছিত অর্থ। মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো নিটল টাটা আওয়ার ডেমোক্রেসি অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক লুত্ফর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে হ্যাক করে টাকা লুটের দায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে নিতে হবে বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, হ্যাক করে টাকা লুটের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় নেই। ফেডারেল রিজার্ভ এর দায় না নিলে বাংলাদেশ আইনি ব্যবস্থা নেবে। এরই মধ্যে এক টুইট বার্তায় ফেডারেল রিজার্ভ এ দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এদিকে হ্যাক করে লুট হওয়া অর্থের একাংশ এরই মধ্যে আদায় করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ঠিক কত টাকা লুট হয়েছে এবং এর মধ্যে কত টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে, বারবার যোগাযোগ করেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি—কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংক হলো সব ব্যাংকের রিজার্ভার। সেখান থেকেই যদি টাকা লুট হয়ে যায়, তবে মানুষের আস্থা হারাবে  সরকার। এখন যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন তো আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। এখন টাকা উদ্ধার করতে হলে সরকারকে আইনিভাবেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী একজন বিজ্ঞ মানুষ। তিনি নিশ্চয় একমত হবেন। না হলে তিনি এভাবে বলতেন না যে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা হবে।

আলোচনার এ পর্যায়ে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মামলা করেই যদি টাকা আদায় হতো, তবে হলমার্ক, ডেসটিনি থেকে এখনো টাকা উদ্ধার হচ্ছে না কেন? তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের স্থিতি থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি হ্যাকাররা অর্থ লুট করে নেয়। ফিলিপাইনের দৈনিক দ্য ইনকোয়েরারের হিসাব মতে, এর পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। প্রথম দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো কিছু না জানালেও বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এর সত্যতা স্বীকার করে নেয়। তবে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ কত, টাকা আদায়ে এবং রিজার্ভের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট  কোনো তথ্য দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিকরা মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তাঁরা। তবে সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, লুট হওয়া অর্থের একাংশ আদায় করা সম্ভব হয়েছে। বাকি টাকা আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে তো বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো কথাই বলতে চায়নি। পরে যখন অর্থমন্ত্রী বললেন মামলা করা হবে তখনই এ বিষয় মানুষের কাছে পরিষ্কার হলো। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো ঘটনায় বিব্রত হলেও ঘটনাটি কিভাবে ঘটল, কারা এর সঙ্গে জড়িত তা বের করতে পারছে না।   দেশের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে সহায়তা চাওয়া হয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও সরকারের একটি সংস্থার কাছে। ফিলিপাইনের হ্যাকাররা বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা পাচার করে দিয়ে গেছে বলে গত মঙ্গলবার খবর প্রকাশিত হয়। ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যমগুলো এ ধরনের খবর প্রকাশ করে।


মন্তব্য