kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

অবিশ্বাসীরা কোরআনের বিধান পরিবর্তনের দাবি করে

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অবিশ্বাসীরা কোরআনের বিধান পরিবর্তনের দাবি করে

১৫. যখন আমার সুস্পষ্ট বাণী তাদের কাছে পাঠ করা হয় তখন যারা (কিয়ামতের দিন) আমার সাক্ষাতের আশা (ভয়) করে না; তারা বলে, ‘এটি (এই কোরআন) ছাড়া অন্য কোনো কোরআন নিয়ে আসুন বা এতে কিছু পরিবর্তন করুন। ’ বলে দাও, ‘নিজ থেকে এতে (কোরআনে) পরিবর্তন আনার অধিকার আমার নেই।

আমার প্রতি যে ওহি অবতীর্ণ করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। ’ [সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১৫ (প্রথমাংশ)]

তাফসির : মানুষের স্বভাব হলো, যে বিষয়ে আস্থা ও বিশ্বাস থাকে না কারণে-অকারণে সে ওই বিষয়ে সন্দেহ করতে থাকে। ছিদ্র অনুসন্ধানের চেষ্টা করে। নানা অজুহাত পেশ করে। আরবের কাফেররা যেহেতু ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করত না, তাই তারা ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে অহেতুক আপত্তি করত। প্রথমে তারা কোনো মানুষ নবী হওয়ার ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে। তারপর নবীর নিয়ে আসা আদর্শের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলে। পরকালের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে। অনেকে খোদ আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়েই সন্দেহ করে। এই সুরার আগের আয়াতগুলোতে উল্লিখিত বিষয়গুলোর জবাব দেওয়া হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে তাদের আরেকটি অযৌক্তিক দাবি তুলে ধরা হয়েছে। মহানবী (সা.) যখন মক্কার পৌত্তলিকদের একত্ববাদের দিকে ফিরে আসতে বলেন, তখন তারা মূর্তিপূজা ও কুসংস্কার ত্যাগ না করে আল্লাহর রাসুলকে উদ্ভট প্রস্তাব দেয়। তারা বলে, ‘আমরা ইমান আনতে পারি, শর্ত হলো, এই কোরআন বাদ দিয়ে অন্য কোরআন নিয়ে আসুন। ’ আবার কখনো তারা বলে, ‘অন্তত কোরআন থেকে মূর্তিপূজা, নৈতিকতা, পরকাল ও আমাদের স্বার্থবিরোধী বিষয় পরিহার করুন। তাহলে আমরা ইমান আনব। ’ প্রকৃতপক্ষে তারা সমঝোতার মাধ্যমে ধর্ম পালন করতে চেয়েছিল। ‘তোমরা আমাদের কিছু কাজ মেনে নাও, আমরাও তোমাদের কিছু কাজ মেনে নেব’—এ প্রস্তাব তারা দিয়েছিল। তাদের এসব কথার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হয়। এর মাধ্যমে নবী করিম (সা.) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোরআনের কোনো অংশ পরিবর্তন করার অধিকার কারো নেই, আমারও নেই। আমার কাজ হলো মানুষকে সুপথে পরিচালিত করা, সত্যের আলোয় সমাজকে উদ্ভাসিত করা। দল ভারি করা নবীদের কাজ নয়। সত্যবিচ্যুত হয়ে নিজেদের অনুসারী বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নবীদের পাঠানো হয়নি। নবী-রাসুলরা আল্লাহর বার্তাবাহক। তাঁরা আল্লাহর বাণী মানুষকে অবহিত করেন, সমাজে তা বাস্তবায়নে প্রাণান্ত প্রয়াস চালান। এখানে এ বিষয়ও স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে যে মুহাম্মদ (সা.) এ কোরআনের রচয়িতা নন। ওহির মাধ্যমে তা তাঁর কাছে এসেছে। এর মধ্যে কোনো রকম রদবদলের অধিকার তাঁর নেই। পরিপূর্ণরূপে ইসলামে অনুপ্রবেশের বিকল্প নেই।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৮)

ইসলাম ধর্মমতে, পৃথিবীতে সব মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে। তাই বলে এক ধর্মের কিছু অংশ, অন্য ধর্মের কিছু অংশ পালন করার সুযোগ নেই। কেননা সে ক্ষেত্রে ধর্মের স্বকীয়তা বিনষ্ট হয়। নিজেদের স্বার্থে ধর্ম ব্যবহূত হয়। এ প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় শিথিলতা চলে আসে। ক্রমান্বয়ে ধর্মের মূল চেতনা হারিয়ে যায়। বনি ইসরাইলের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস করো আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে হীনতা আর কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৮৫)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য