‘এভাবে বক্তব্য রাখা ঠিক হয়নি’-333864 | মুক্তধারা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


‘এভাবে বক্তব্য রাখা ঠিক হয়নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘এভাবে বক্তব্য রাখা ঠিক হয়নি’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কারো কথায় বা বক্তব্যে ক্ষুণ্ন হয় না। সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে বক্তব্যের পর যে সমালোচনা শুরু হয়েছে তা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ কারো কথার বা সমালোচনার অনেক ঊর্ধ্বে হচ্ছেন আমাদের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সারা হোসেন এ কথা বলেছেন। সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সমসাময়িক ভিশন নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো আকিজ সিমেন্ট মুক্ত বাক অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘তার পরও এ ধরনের কথা বলতে হলে আগে সুপ্রিম কোর্টের সম্মানের প্রতি নজর রাখা উচিত ছিল। আমেরিকা ও লন্ডনে বিচারপতিরা অবসরের আগে রায় প্রদান থেকে মুক্ত থাকেন। আমাদের দেশে সে ধরনের চর্চা এখনো হয় না। ভবিষ্যতে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সাংবাদিক রাহুল রাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজিবুল আলম ও সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় নিয়ে দুজন মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

জবাবে ব্যারিস্টার তানজিবুল আলম বলেন, মন্ত্রীরা যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তা ঠিক হয়নি। এ ছাড়া অবসরে যাওয়ার পর বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জীবনবৃত্তান্ত ও বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের নথিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি চেয়ে আবেদন করেন এক আইনজীবী। আইনজীবী জুলফিকার আলী জুনু সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বরাবর এ আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, ‘তথ্য অধিকার আইনের ৪ ধারায় কর্তৃপক্ষের নিকট একজন নাগরিক তথ্য চাইতে পারে এবং কর্তৃপক্ষ তা দিতে বাধ্য।’ গত ১০ ফেব্রুয়ারি একই আইনজীবী শপথের সময় বিচারপতি মানিকের ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ গোপন রাখার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদকের কাছে আবেদন করেন।

আলোচনার এ পর্যায়ে জেড আই পান্না বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথকক্রণের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার অর্থ হতে পারে অবকাঠামোগত কিছু পার্থক্য। এই পৃথক্করণ থেকে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের কতটুকু অর্জন হয়েছে সে বিষয়টি আপেক্ষিক। অন্যদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য শুধু শাসন বিভাগ থেকে পৃথক্করণ বোঝায় না, বরং বিচারকদের দক্ষতা, দুর্নীতিমুক্ত এবং মুক্ত চেতনার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বিশ্বের একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমাদের দেশে নির্বাচিত সরকার, আইন পরিষদ ও দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বিচারব্যবস্থার বিচারে দেশে গণতন্ত্রকামী জনগণের মনের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করার উপযোগী পরিবেশ বিদ্যমান। বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দেশটির সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা শুধু স্বাধীন বিচার বিভাগের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে।

জেড আই পান্না আরো বলেন, শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক্করণ হওয়ার কারণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ধাপ অতিক্রম করেছে মাত্র। বিচার বিভাগের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয় যেসব উদ্যোগের ওপর নির্ভর করে তার মধ্যে অন্যতম একটি অনুষঙ্গ হলো বিচারকদের সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত মানসিকতা। বিচারকরা যদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংকল্পে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেন তবে পরিবর্তন আসবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে বিচারক নিয়োগেও একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার।

মন্তব্য