ব্যক্তিত্ব-333466 | মুক্তধারা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭

ব্যক্তিত্ব

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

সোমেন চন্দ

রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক সোমেন চন্দের পুরো নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ। জন্ম ১৯২০ সালের ২৪ মে নরসিংদী জেলার পলাশ থানার বালিয়া গ্রামে। ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকা মিটফোর্ড মেডিক্যাল স্কুলে ভর্তি হলেও এক বছর পর অসুখের কারণে লেখাপড়া ছেড়ে দেন। রাজনৈতিক জীবন শুরু নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টির নিয়মিত গোপনকর্মী হিসেবে। এই সময়েই তিনি লেখালেখি শুরু করেন। অকালমৃত্যুর কারণে যার পরিধি ছিল ১৯৩৯ থেকে ১৯৪২—মাত্র চার বছর। জীবদ্দশায় কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। মৃত্যুর পর ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘ প্রকাশ করে; ‘সংকেত ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৪৩), কলকাতা থেকে প্রকশিত হয় ‘বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৪৪)। কালিকলম প্রকাশনী থেকে এ দুটির সংযুক্ত রূপ ‘সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ’ নামে রণেশ দাশগুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। সোমেন চন্দের রাজনৈতিক জীবন খুবই কর্মময় ছিল। সাহিত্যচর্চা ছিল এই জীবনের ভিন্নতর প্রকাশ। ১৯৩৯ সালে সর্বভারতীয় প্রগতি লেখক সংঘের ঢাকা শাখা গড়ে তোলার পেছনে তাঁর বিশেষ শ্রম ও ভূমিকা ছিল। তাঁর লেখা গল্পগুলো মূলত এই সংঘের সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক বৈঠকে পাঠের জন্য লেখা। তাঁর বেশ কিছু গল্প কয়েকটি বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রশংসা পায়। সোমেন চন্দ রাজনৈতিক আদর্শে দায়বদ্ধ থেকেই লেখালেখি করেছেন। তাই তাঁর রচনায় একদিকে যেমন সামাজিক বাস্তবতা এসেছে, তেমনি সেই সামাজিক বাস্তবতার ভেতর থেকে গণচেতনার তীক্ষতারও প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর গল্পের মৌলিক আবেদন ছিল গণসচেতনতা। ফ্যাসিবাদবিরোধী মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়াকালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতেই ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ নৃশংসভাবে নিহত হন সোমেন চন্দ। 

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]

মন্তব্য