kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

অতীতে অনেক জাতি আজাবে ধ্বংস হয়েছে

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অতীতে অনেক জাতি আজাবে ধ্বংস হয়েছে

১৩. তোমাদের আগেও বহু মানবগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, যখন তারা সীমা অতিক্রম করেছিল। তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনসহ রাসুল এসেছিল; কিন্তু তারা তা বিশ্বাস করেনি।

এভাবেই আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়ে থাকি।

১৪. অতঃপর আমি পৃথিবীতে তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছি এটা দেখার জন্য যে তোমরা কী ধরনের কাজ করো। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১৩-১৪)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, আল্লাহ তাআলা পাপীদের ত্বরিত আজাব দেন না। তাদের সঠিক পথে আসার জন্য সুযোগ দেন। এর ধারাবাহিকতায় আলোচ্য প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, সুযোগ দেওয়ার পর বহু জাতির ওপর দুনিয়ায়ই আজাব এসেছে; কিন্তু সে আজাব থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করেনি। অতীতে বহু নবী-রাসুল আল্লাহর স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছেন। অবিশ্বাসীরা বরাবরই সেসব নিদর্শন উপেক্ষা করেছে। একে একে প্রবল প্রতিপত্তির অধিকারী সেসব জাতিকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিয়েছেন। এভাবেই দুনিয়ায় অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হয়।

আয়াতে বিশেষভাবে আরববাসীদের সম্বোধন করা হয়েছে। তারাই ধ্বংসপ্রাপ্ত আদ ও সামুদ জাতির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, আগের জাতিরা একসময় দুনিয়ায় চষে বেড়িয়েছে। শক্তি, সামর্থ্য ও সক্ষমতায় তারা ছিল অতুলনীয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা জুলুম ও বিদ্রোহের নীতি অবলম্বন করেছিল। তাদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য যেসব নবী-রাসুল পাঠানো হয়েছিল তারা তাঁদের অবাধ্য হয়েছিল। ফলে তারা আল্লাহর আজাবে ধ্বংস হয়েছে। হে আরববাসীরা! এবার তোমাদের পালা। তাদের জায়গায় তোমাদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তোমাদের উচিত অতীতের জাতিগুলোর ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। যেসব ভুল তাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছিল সেগুলোর পুনরাবৃত্তি না করা।

আয়াতে আরব জাতির কথা বিশেষভাবে বলা হলেও এর আবেদন সর্বজনীন। কোনো জাতি যখন আল্লাহর প্রদর্শিত ন্যায় ও সত্যের পথে চলে তখন তারা সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহণ করে। আবার যখন তারা সে পথ ত্যাগ করে তখনই তাদের পতন ঘটে।

দ্বিতীয় আয়াতে উম্মতে মুহাম্মদিকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, অতীতের জাতিগুলোকে ধ্বংস করার পর আমি তোমাদেরকে তাদের খলিফা বা স্থলাভিষিক্ত করেছি। এর মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে। ভালো-মন্দ কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তাদের জন্য রয়েছে সুখময় জান্নাত। আল্লামা ওহবা জুহাইলি (রহ.) লিখেছেন : এই আয়াতে মুসলমানদের এই সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে যে শিগগিরই পৃথিবীতে তারা খেলাফত লাভ করবে। তবে শর্ত হলো, কোরআনের নির্দেশনা ও প্রিয় নবীর আদর্শে তাদের অবিচল থাকতে হবে। যেমনটা অন্য আয়াতে এসেছে : ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমান আনে ও সত্কর্ম করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে অবশ্যই তিনি তাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেভাবে তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের...। ’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৫৫) আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতি ঐতিহাসিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। মুসলমানরা নিকট-অতীতে কিসরা (পারস্য সম্রাট), কায়সার (রোম সম্রাট), মিসরের সম্রাট ফেরাউনসহ বহু জাতির দেশে বিজয়ী বেশে গমন করেছে। (তাফসিরে মুনির : ৬/১৩২)

হাদিস শরিফে এসেছে : ‘দুনিয়া বড়ই মিষ্ট ও সৌন্দর্যময়। আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের আগের লোকদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন, অতঃপর তিনি দেখবেন তোমরা কী কাজ করো। তোমরা দুনিয়ার অবৈধ কামনা-বাসনা থেকে দূরে থেকো। নারীদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো। কেননা বনি ইসরাইলের প্রথম ফিতনা ছিল নারীদের ঘিরে। ’ (মুসলিম শরিফ : হা. ২৭৪২)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য