kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর

শহীদ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ১৯৪৯ সালের ৭ মার্চ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে। বাবা আব্দুল মোতালেব হাওলাদার।

মহিউদ্দিন মুলাদীর পাতারচর স্কুলে প্রাথমিক, মুলাদী মাহমুদজান পাইলট হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অনার্স পড়াকালে সেনাবাহিনীর অফিসার ক্যাডেট নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট ও ১৯৭০ সালে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন। মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় মহিউদ্দিন সোয়াতে কর্মরত। যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি জুলাই মাসে কর্মস্থল ছেড়ে দুর্গম পার্বত্য এলাকা অতিক্রমের ঝুঁকি নেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান তখন ৭ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার। সামরিক বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের অফিসার মহিউদ্দিন সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যুক্ত হন। তিনি কানসাট, আরগরার হাট, শাহপুরসহ কয়েকটি সফল অভিযান চালান। ডিসেম্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দখলের জন্য তাঁকে একটি মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়। ১৩ ডিসেম্বর এক প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধাসহ তিনি রেহাইচরের মধ্য দিয়ে নৌকাযোগে মহানন্দা নদী পার হন এবং শত্রুর কয়েকটি বাংকার দখল করে নেন। তিনি শত্রুর মেশিনগান ধ্বংস করার পরিকল্পনা নিয়ে বাঁ হাতে এসএমজি ও ডান হাতে একটি গ্রেনেড নিয়ে গোপনে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসেন। হামাগুড়ি দিয়ে রাস্তা পার হয়ে তিনি গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এ সময়ই শত্রুর গুলি তাঁর কপালে বিদ্ধ হয় এবং তিনি শহীদ হন। তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য