kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

বিপদে পড়লে অবিশ্বাসীরাও আল্লাহকে ডাকে

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিপদে পড়লে অবিশ্বাসীরাও আল্লাহকে ডাকে

১২. মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে শুয়ে, বসে কিংবা দাঁড়িয়ে আমাকে (আল্লাহকে) ডেকে থাকে, এরপর যখন আমি তার দুঃখ-দৈন্য দূর করে দিই তখন সে এমন পথ অবলম্বন করে যেন দুঃখ-দৈন্যের জন্য কখনোই সে আমাকে ডাকেনি। সীমা লঙ্ঘনকারীদের জন্য তাদের কাজ এভাবেই শোভনীয় করে দেওয়া হয়েছে।

(সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১২)

তাফসির : আগের আয়াতে মানুষের স্বভাবজাত তড়িঘড়ি করার প্রবণতার বিষয়ে আলোচনা ছিল। আলোচ্য আয়াতে একই বিষয় এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, বিপদে পড়লে মানুষ খুব দ্রুত আল্লাহকে ডাকতে থাকে। শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে তথা সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া করতে থাকে। এ অবস্থা কেবল সাধারণ মুসলমানদের নয়, অবিশ্বাসীরাও এমন করে থাকে। অবিশ্বাসীরা আল্লাহর অস্তিত্ব ও মহাশক্তিতে বিশ্বাস করে না। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে জ্ঞাতসারে অথবা অজ্ঞাতসারে তারা আল্লাহর শরণাপন্ন হয়। সর্বোচ্চ আবেগ, ভক্তি ও শ্রদ্ধা নিয়ে তারাও আল্লাহকে ডাকে। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিশ্বাসের উপাদান তৈরি হয়। তারা আল্লাহর অস্তিত্ব উপলব্ধি করার সুযোগ পায়। অথচ পরে দেখা যায়, বিপদ কেটে গেলে তারা আবার আগের অবস্থানে ফিরে যায়! তারা ভুলে যায়, ক্ষণিক আগেও তারা আল্লাহকে স্মরণ করেছিল! যারা আল্লাহর সীমা অতিক্রম করে, এটা তাদের চিরন্তন স্বভাব।

বিপদাপদ এবং দুঃখকষ্ট মানুষের অন্তরে আল্লাহর স্মরণ জাগিয়ে তোলে। মানুষ যখন কোনো দুর্যোগের মধ্যে পড়ে তখন সে তার দুর্বলতা ও অক্ষমতা উপলব্ধি করতে পারে। তাই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সে তখন স্রষ্টার শরণাপন্ন হয়। অন্তর থেকে তাঁর সাহায্য কামনা করে। আল্লাহ মানুষের ডাকে সাড়া দেন। তিনি দুঃখ-দৈন্য দূর করে দেন। কৃতজ্ঞতার দাবি হলো, বাকি জীবন পাপমুক্ত অতিবাহিত করা। আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না হওয়া। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সে তা ভুলে যায়। আল্লাহর নির্দেশের অনুগত না হয়ে অবাধ্যতার পথে পা বাড়ায়।

 

এটা সাধারণ মানুষের অবস্থা। অবিশ্বাসীদের অবস্থাও অনুরূপ। এ দৃশ্য প্রায়ই ধরা দেয়। জীবনপ্রবাহে মানুষ বারবার পাপ করে। সুস্থ, সবল ও সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর অবাধ্য হয়। সামর্থ্য ও সচ্ছলতা মানুষকে নিজের দুর্বলতার কথা ভুলিয়ে দেয়। প্রাচুর্য তাকে সীমা লঙ্ঘনে প্ররোচিত করে। অথচ সময়টি ইবাদতের খুবই উপযোগী ছিল। পরে বিপদ নেমে আসে। অমনি কাকুতি-মিনতি করে সুদিনের আশা করে। বিপদ চলে গেলে আবারও বেপরোয়াভাবে চলতে থাকে। আগের মতো ঔদ্ধত্য দেখাতে থাকে। এর বিপরীতে আল্লাহর খাঁটি বান্দারা সুখে-দুঃখে আল্লাহকে স্মরণ করেন। সুখের দিনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। দুঃখের দিনে ধৈর্য ধারণ করেন।

সুখ-দুঃখ নিয়েই জীবন। সুন্দর এই পৃথিবীতে কেউ চিরসুখী নয়। সবার জীবনে কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে। এভাবেই জীবনচক্র সাজানো হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো মানুষ সৃষ্টি করেছি কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে। ’ (সুরা : বালাদ : আয়াত : ৪)

তাই বলে ভেঙে পড়লে চলবে না। বিপদে ধৈর্যহারা না হয়ে বরং সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। হাদিস শরিফে এসেছে : ‘ইমানদারের জীবন বড়ই আশ্চর্যজনক। সব কিছুই তার জন্য কল্যাণকর। ইমানদার ছাড়া কেউ এমন হয় না। সুখ এলে সে শুকরিয়া আদায় করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। দুঃখ এলে সে ধৈর্য ধারণ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর। ’ (মুসলিম শরিফ : হা. ২৯৯৯)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য