‘আগে দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে-333065 | মুক্তধারা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


‘আগে দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘আগে দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতন্ত্র বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে। আজ সবখানেই কেমন যেন একক ক্ষমতা। যাকেই যে দায়িত্ব দেওয়া হয় সে সেটাকেই তার অধিকার মনে করে। এ জন্য দলীয় প্রতীকে নির্বাচনগুলোতে স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাদের প্রার্থী সঠিক হয়নি বলে সমালোচনা করছে। আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন এমপিদের ভোটের মাধ্যমে। আর এমপিরা জনগণের ভোটে। আগে দেশে ৮০ হাজার নির্বাচিত ভোটার রাষ্ট্রপতিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতেন, এখন যেটা সংসদ সদস্যরা করছেন। শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিক্তিক টক শো নিটল টাটা আওয়ার ডেমোক্রেসি অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক সেলিম ওমরাও খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মোফাজ্জল করিম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, এক রক্তক্ষয়ী ও যুগান্তকারী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক স্বাধীনতাসংগ্রাম তথা রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ছিল ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের একমাত্র ও ঐতিহাসিক এক সাধারণ নির্বাচন, যাতে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের গণমানুষের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে উঠেছিল। বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক অবস্থা তাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আগে নিজেদের মধ্যেই গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে মোফাজ্জল করিম বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকর্ষণ শাশ্বত, গণতন্ত্রের আবেদন বিশ্বজনীন। গত শতাব্দী (বিংশ শতাব্দী) মূলত ছিল গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের শতাব্দী। গণতন্ত্র মানে গণমানুষের জন্য গণমানুষের শাসনব্যবস্থা। গণতন্ত্র মানেই আইনের শাসন, প্রগতি ও উন্নয়ন। গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা ছাড়া মানবসমাজে শুভ, কল্যাণ, উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি এ দেশের মানুষের অঙ্গীকার ঐতিহাসিক। যখনই গণতান্ত্রিক অধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তখনই এ দেশের সাধারণ মানুষ তা ফলপ্রসূভাবে প্রয়োগ করেছে। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে তারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে ১৯৪৬, ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে। মানুষ ও মানুষের রাজনীতি দীর্ঘদিন একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। এ দেশেও রাজনীতি সুদীর্ঘকাল একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকেনি। রাজনীতির এই মোড় পরিবর্তনের ধারার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটিয়েছে এ দেশের মানুষ—বিভিন্ন সময়ে তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে। বস্তুত ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন প্রবর্তনের পর যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এ দেশের মানুষ তাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা সুপ্রাচীন। গণতন্ত্রের বিজয় বার্তা ঘোষিত হয়েছে বিশ্বের দিকে দিকে। বাংলাদেশেও একসময় পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে, এই প্রত্যাশা সবার।

আলোচনার এ পর্যায়ে সলিমুল্লাহ খান বলেন, বিংশ শতাব্দীতে গণতন্ত্রের জন্য বিশ্বব্যাপী গণ-আকাঙ্ক্ষা ও গণসংগ্রাম যতটা জোরদার হয়েছে ততটা স্বাভাবিক কারণেই এর আগে হয়নি। গণতন্ত্রের পথে সব বাধা ও বিপত্তি এবং গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থার পথে অগণতান্ত্রিক সব কুপ্রথা এই শতাব্দীতে একের পর এক অপসারিত হয়েছে। এই শতাব্দীতে আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের মতো উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে নারীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে তা ছিল না। বাংলাদেশের এক সময়ে সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করতে হবে। না হলে এই দেশ উন্নত হওয়ার পথে বাধার সৃষ্টি হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যেই আগে গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছিলাম যেই গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য, সেই গণতন্ত্র এখনো প্রতিষ্ঠা হয়নি। এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের  এখনো প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’

মন্তব্য