kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

আল্লাহ মানুষের শাস্তির ব্যাপারে তড়িঘড়ি করেন না

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আল্লাহ মানুষের শাস্তির ব্যাপারে তড়িঘড়ি করেন না

১১. আল্লাহ যদি মানুষের শাস্তির ব্যাপারে তড়িঘড়ি করতেন, যেভাবে তারা পার্থিব কল্যাণ লাভের জন্য তড়িঘড়ি করে, তাহলে তাদের মৃত্যু ঘটত। সুতরাং যারা (কেয়ামতের দিন) আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ (ভয়) করে না, আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় ছেড়ে দিই, যেন (তারা) উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়।

[সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১১]

তাফসির : আগের আয়াতগুলোতে পরকালের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল। তা শুনে অবিশ্বাসীরা বিদ্রূপ করে বলতে থাকে, ‘যদি আজাব আসা সত্য হয়, তাহলে আকাশ থেকে আজাব এসে আমাদের ধ্বংস করে না কেন?’ এর জবাবে বলা হয়েছে, আল্লাহ সব বিষয়ে ক্ষমতাবান। মুহূর্তের মধ্যে তিনি প্রতিশ্রুত আজাব অবতীর্ণ করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ মানুষের ওপর বড়ই মেহেরবান। মানুষের প্রতি তিনি দ্রুত দয়া ও করুণা বর্ষণ করেন। তবে পাপকাজ করার দরুন তাদের দ্রুত পাকড়াও করেন না। অবিশ্বাসীরা হঠকারী মনোভাব থেকে দ্রুত আজাব প্রত্যাশা করে। তারা জানে না, এটা আল্লাহর নিয়ম নয়। মানুষ যতই অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ করুক না কেন, আল্লাহ তাদের সংশোধিত হওয়ার সুযোগ দেন। নিজেকে শুধরে নেওয়ার জন্য তিনি মানুষকে সময় দেন। এর পরও অনেকে পাপাচারের মধ্যে ডুবে থাকে।

মানুষের স্বভাবে তড়িঘড়ি কিছু করে ফেলার প্রবণতা আছে। পার্থিব কল্যাণ সে দ্রুত পেতে চায়। আবার রাগান্বিত হয়ে কখনো কখনো সে ত্বরিত অকল্যাণ কামনা করে! এ ব্যাপারে আল্লাহর নীতি হলো, কল্যাণকর প্রার্থনা তিনি দ্রুত কবুল করেন। কিন্তু অকল্যাণকর প্রার্থনার ক্ষেত্রে বিলম্ব করেন। পুণ্যের পথে ফিরে আসার জন্য সাময়িক অবকাশ দেন।

তাফসিরে ইবনে জারির ও ইবনে কাসিরের বর্ণনা মতে, আলোচ্য আয়াত নিকটাত্মীয়দের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আয়াতের মর্মার্থ হলো, রাগবশত কেউ নিজ সন্তান, সম্পত্তি ও বস্তুসামগ্রীর ধ্বংসপ্রাপ্তির জন্য বদদোয়া করলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে সহসাই তা কবুল করেন না। এটা বান্দার ওপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। আল্লামা ইউসুফ আলী (রহ.) লিখেছেন : যারা অপরিণামদর্শী, কেবল তারাই ভবিষ্যতের চিন্তা করে না। পৃথিবীতে আমরা দেখি, যাঁরা বিজ্ঞ ও জ্ঞানী, তাঁরা দূরদর্শী হন। ভবিষ্যতের সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য তাঁরা বর্তমান সময়ে কষ্ট স্বীকার করেন। কিন্তু যারা অজ্ঞ, অপরিণামদর্শী তারা বর্তমান নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ক্ষণস্থায়ী আরাম-আয়েশের পেছনে নিজেদের নিয়োজিত রাখে। ঠিক তেমনি যারা পরকালের সুখ-শান্তিতে বিশ্বাস করে না, তারা ওই অপরিণামদর্শী লোকদের মতোই। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবন নিয়েই তারা ব্যস্ত। পরকালের সুখ-শান্তির জন্য ইহকালে তারা সামান্য কষ্ট স্বীকার করতে রাজি নয়। তারা সাময়িক সুখের পেছনে ছুটে বেড়ায়। তাদের একদল পরকালে বিশ্বাস করে না। পরকালের অবিশ্বাসের দরুন তারা আল্লাহর প্রতি বিদ্রূপ করে, ত্বরিত নিজেদের শাস্তি দাবি করে! আল্লাহ যদি সত্যি সত্যি তাদের কথা শুনতেন, তাহলে তাদের ধ্বংস অনিবার্য হয়ে পড়ত। কিন্তু পরম করুণাময় আল্লাহ তাদের ধ্বংস না করে অবকাশ দেন, যাতে তারা ভবিষ্যতে অনুতাপ করার সুযোগ পায়। তাদের একদলের একসময় বোধোদয় হয়। ফলে তারা সঠিক পথে ফিরে আসে। অন্য দল সময়ের সদ্ব্যবহার না করে পাপে নিমজ্জিত থাকে। তাদের আত্মার জগৎ অন্ধকারময়। ফলে তারা চোখ থেকেও অন্ধ ব্যক্তির মতো। অন্ধ ব্যক্তি যেমন হাতড়ে হাতড়ে পথ চলে, তারাও জীবনের দর্শন খুঁজে পায় না। ফলে তারা বিভ্রান্তির মধ্যে বাস করবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য