kalerkantho

ভালো থাকুন

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অতিশাসনে উল্টো ফল

একটি শিশুকে পূর্ণাঙ্গ মানুষরূপে গড়ে তোলার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান প্রভৃতি মৌলিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শিশুর মানসিক বিকাশের দিকেও লক্ষ রাখতে হয়। বিদ্যালয়ের পুস্তকনিহিত বিদ্যার সঙ্গে শিশুর পারিপার্শ্বিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা শিশুর সুস্থ মানসিক গঠনে অবদান রাখে।

প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিজস্ব নীতিবোধ, তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, আচার-ব্যবহার শিশুর মনে ছোটবেলা থেকেই স্থায়ীভাবে প্রভাব ফেলে। সঠিক অনুশাসন ও যত্নে শিশুর চরিত্র হয়ে ওঠে সৎ, অনুগত, শান্ত। সে বেড়ে ওঠে সুন্দরভাবে। কিন্তু শাসন করতে গিয়ে মা-বাবার বাড়াবাড়ি অনেক সময় বয়ে আনে উল্টো ফল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মা-বাবা শিশুকে কড়া শাসনে রাখেন, এমনকি কঠোর শারীরিক শাস্তিও দিয়ে থাকেন। সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা এ প্রবণতা নিরুৎসাহ করছেন। তাঁদের ভাষ্য, অতিরিক্ত শাসন ও মারধর শিশুর মনে জেদ ও ক্রোধের সঞ্চার করে, যা তাকে পরবর্তী সময়ে অবাধ্যতা ও অপরাধপ্রবণতার দিকে ঠেলে দেয়। সব কাজেই শিশুকে বারণ করা ঠিক নয়, শিশুকেও কিছু কিছু ভালো লাগা কাজ করতে দিতে হবে। তবে মা-বাবা যদি সন্তানকে একেবারেই শাসন না করেন, তাহলে আবার সন্তান যা ইচ্ছা তা-ই করতে চাইবে, অসৎ সঙ্গে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়বে। সুতরাং অতিরিক্ত শাসন ও কোনো শাসন না করা—দুটিই শিশুর জন্য ক্ষতিকর। শিশু অন্যায় করলে মারধর না করে তার ভুলগুলো বুঝিয়ে দিতে হবে। সব সময় এটা করবে না, ওটা ধরবে না, এখানে যাবে না, ওখানে যাবে না আর ভুল কিছু করলেই বকা বা পিটুনি—এতে শিশুর মনে অবসাদ চলে আসে। সঠিক কাজ বা প্রত্যাশিত আচরণ করলে শিশুর প্রশংসা করুন, তাকে উৎসাহ দিন।

ডা. মুনতাসীর মারুফ


মন্তব্য