kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

ইমান মানুষকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করে

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইমান মানুষকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করে

৯. নিঃসন্দেহে যারা ইমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে তাদের প্রতিপালক তাদের ইমানের ফলে পথনির্দেশ করবেন জান্নাতুন নাঈমে (সুখময় উদ্যান), যার তলদেশে নদী বইবে। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৯)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, অবিশ্বাসীদের পরিণতি হলো জাহান্নাম।

কেননা তারা পরকালে জবাবদিহির ভয় করে না, পৃথিবীতে আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করে না। আলোচ্য আয়াতে সেসব ভাগ্যবান মানুষের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে, যারা আল্লাহর কুদরত তথা মহাশক্তি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে, আল্লাহর প্রতি ইমান আনে এবং সৎ কাজ করে। আয়াতে সৎ কর্মপরায়ণ ইমানদারের জন্য জান্নাত লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইমানদার তার বিশ্বাসের কারণে জান্নাতের পথে চলতে থাকে। একসময় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাত সুখ ও শান্তিময় কাননকুঞ্জ। এর তলদেশে নদী প্রবাহিত হতে থাকবে।

মুমিনের জীবনে ইমানের প্রভাব

মুমিনের জীবনে ইমানের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। মুমিনের আহার-নিদ্রা থেকে শুরু করে সব কাজকর্ম পরিচালিত হয় ইমানের আলোকে। শক্তি, সামর্থ্য ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ইমানদার পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। সব কাজে সে হালাল-হারামের সীমারেখা মেনে চলে। অবৈধ ও অনৈতিক কাজ তাকে ভাবিয়ে তোলে। কোনো পাপ কাজ করে ফেললেও তার মধ্যে অনুশোচনা কাজ করে। ইমানদারের জীবনের প্রধান লক্ষ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই সে প্রচণ্ড শীতের রাতেও ইবাদতে দাঁড়িয়ে যায়। নিজ কষ্টার্জিত সম্পদ থেকে নিঃস্ব, অনাথ ও অসহায়কে দান করে। লোকচক্ষুর আড়ালেও সে অপরাধ করতে ভয় পায়। কারণ মুমিন বিশ্বাস করে, ‘কেউ না দেখলেও আল্লাহ আমাকে দেখছেন। ’ এই বিশ্বাস তাকে সৎ, সত্য ও মহত্ত্বের পথে পরিচালিত করে।

ইমানদার ভিনগ্রহের লোক নয়। জাগতিক নিয়ম মেনেই সে যাবতীয় কাজ করে। আহার-বিহার, পরিবার, দুনিয়ার কায়কারবার—কোনো কিছুই সে বর্জন করে না। তবু সে অন্যের চেয়ে আলাদা। তার জীবনধারা অন্যের চেয়ে ভিন্ন। জীবন তার পরিপাটি। অন্তর তার পবিত্র। এভাবে দুনিয়ায় অবস্থান করেও সে জান্নাতের পথে চলে। ইমানের বদৌলতে আল্লাহ তাকে সুখময় জান্নাতের পথ দেখান।

ইমানের বীজ লুকায়িত থাকে ইমানদারের অন্তরে। অথচ এর শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত থাকে আসমান অবধি। ইমান ব্যক্তিকে নিজ স্রষ্টার সঙ্গে সংযুক্ত করে। তাকে ঐশী বন্ধনে আবদ্ধ করে। বিশ্বাসী মানুষ নিজ বিশ্বাস নিয়ে কবরে যায়। এই ইমান তাকে জান্নাতে পৌঁছে দেয়।

হেদায়েত লাভের বিভিন্ন স্তর

আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ইমানদারদের ইমানের কল্যাণে হেদায়েত বা পথনির্দেশ করেন। কোরআন ও হাদিসে হেদায়েতকে চার স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এক. প্রয়োজনীয় বিষয়ে সৃষ্টিগত অনুভূতি। যেমন মুসা (আ.)-এর কথা উল্লেখ করে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “মুসা বলল, ‘আমাদের প্রতিপালক তিনি, যিনি সব কিছুকে নিজস্ব আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর হেদায়েত (পথনির্দেশ) করেছেন। ’” (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ৫০)

দুই. হেদায়েত শব্দের অর্থ পথ দেখানো, সঠিক পথের সন্ধান দেওয়া। এই হেদায়েতের জন্য যুগে যুগে নবী-রাসুল ও আসমানি গ্রন্থ পাঠানো হয়েছে। তিন. আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালো কাজ করার তাওফিক ও সামর্থ্য লাভ করা। এ অর্থে যারা ভালো কাজ করে তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত। চার. আল্লাহ কেয়ামতের দিন মুমিনদের জান্নাতে পৌঁছে দেবেন। এটি হেদায়েতের চতুর্থ ও চূড়ান্ত স্তর। আলোচ্য আয়াতে এই চতুর্থ স্তরের হেদায়েতের কথাই বলা হয়েছে। হাদিস শরিফে এসেছে : “কেয়ামতের দিন মুমিন যখন কবর থেকে বের হবে, তার নেক আমল সুন্দর আকৃতি ধারণ করবে। তারপর সে বলতে থাকবে, ‘আমি তোমার আমল। ’ অতঃপর এ আমল আলো হয়ে, পথ দেখিয়ে ইমানদারকে জান্নাতে পৌঁছে দেবে। ” (তাফসিরে মুনির)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য