‘বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি হেলনে নড়ে ওঠে-331478 | মুক্তধারা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


‘বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি হেলনে নড়ে ওঠে পুরো জাতি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি হেলনে নড়ে ওঠে পুরো জাতি’

‘আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেছেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে সেই উত্তাল মার্চে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি হেলনে নড়ে ওঠে পুরো বাঙালি জাতি। তাঁর সেই সময়ের সাহসী পদক্ষেপ না হলে আজকের এই বাংলাদেশ আমরা পেতাম না। তাই বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু চির অম্লান হয়ে থাকবেন। জাতি তাঁকে চিরদিন স্মরণ করবে।’ মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক দীনেশ দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাংবাদিক হারুন হাবীব।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ আরো বলেন, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধিকার সংগ্রামের পথ পেরিয়ে পাকিস্তানি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে ১৯৭১ সালের মার্চেই শুরু হয়েছিল বাঙালির মুক্তির যুদ্ধ। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ। তবে বাঙালি নেতার কাছে অবিভক্ত পাকিস্তানের ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করেন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে (তত্কালীন ঢাকা স্টেডিয়াম) ছিল বিশ্ব একাদশ বনাম পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যাচ। খেলা চলাকালেই বেতারে ভাষণ দেন জেনারেল ইয়াহিয়া খান। ওই ভাষণে ৩ মার্চের পূর্বনির্ধারিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন তিনি। মুহূর্তে উত্তাল হয়ে ওঠে আজকের বাংলাদেশ তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান। খেলা দেখতে আসা দর্শকরা স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে আসে। একই সময় পল্টন-গুলিস্তানে হাজার হাজার মানুষ শুরু করে বিক্ষোভ। দেশের নানা স্থানেও জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে পড়ে। শুরু হয়ে যায় জনগণের অবরোধ, সর্বাত্মক প্রতিরোধ।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমরা যারা ওই সময়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলাম, সেই সময়কার আন্দোলনের কথা আমরাও অনেকে সেভাবে মনে করছি না। কিন্তু জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেসব তথ্য আবারও আলোচনায় আসতে পারে।’ তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সংবাদ সম্মেলন ছিল পূর্বাণী হোটেলে। ইয়াহিয়ার আকস্মিক ঘোষণায় ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে ‘ষড়যন্ত্র’ রুখে দেওয়ার জন্য সব বাঙালির প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু। এরই অংশ হিসেবে ২ মার্চ ঢাকায় ও ৩ মার্চ সারা দেশে হরতাল আহ্বান করেন তিনি। একই সঙ্গে ৭ মার্চ তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভার ঘোষণা দেন বাঙালির হূদয়ের নেতা বঙ্গবন্ধু। এরপর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এর আগে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানিরা বাঙালির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু করে ‘অপারশেন সার্চলাইট’। চলে গণহারে বাঙালি নিধন। ঢাকার রাস্তায় নির্বিচারে হত্যা করা হয় হাজার হাজার লোককে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালিয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের হত্যা করা হয়। একই রাতে ১টার কিছু পরে ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বাঙালির প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুকে।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরো বলেন, এর পরের ঘটনা প্রতিরোধের। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে আপামর বাঙালি। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি লাভ করে স্বাধীনতা। এবারের স্বাধীনতার মাস ‘মার্চ’ এসেছে ভিন্ন বার্তা নিয়ে। এরই মধ্যে শীর্ষস্থানীয় চার যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে আরো কিছু মামলা।

এ পর্যায়ে সাংবাদিক হারুন হাবীব বলেন, ‘মার্চের দিনগুলো ছিল উত্তাল। বঙ্গবন্ধু ঢাকাসহ সারা দেশে পাঁচ দিনের হরতাল এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন। সেই অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকারকে কোনোভাবে সাহায্য না করার কথা বলেছিলেন এবং তাঁর মুখের একটি কথায় সারা পূর্ব পাকিস্তান অচল হয়ে গেল। বঙ্গবন্ধু সেদিন সাহসী না হলে আমরা আজ কোথায় থাকতাম কে জানে! সেই দিনগুলোর কথা জাতির সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরা উচিত।’

মন্তব্য