নির্বাচন কমিশনকে কিছু দৃষ্টান্ত-331473 | মুক্তধারা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


নির্বাচন কমিশনকে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে

বিশেষ সাক্ষাত্কার : বদিউল আলম মজুমদার

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নির্বাচন কমিশনকে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে

শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. বদিউল আলম মজুমদার বেসরকারি সংস্থা ‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট’-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর। সচেতন ও চিন্তাশীল নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তিনি। শিক্ষকতা ছাড়াও তিনি সৌদি রাজপরিবারের অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে পর্যায়ক্রমে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে নানা আলোচনা, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা হয় বদিউল আলম মজুমদারের। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন শারমিনুর নাহার

 

কালের কণ্ঠ : প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের কারণে কি কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে?

 

বদিউল আলম মজুমদার : ২২ মার্চ থেকে শুরু করে জুন পর্যন্ত ধাপে ধাপে সারা দেশে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রথম ধাপের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়েছে, বাছাই হয়েছে এবং প্রত্যাহারের তারিখও ঘনিয়ে আসছে। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো—প্রথমবারের মতো এটি দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হয়েছে মূলত পৌরসভা নির্বাচন থেকে। পৌরসভা নির্বাচন প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে করতে গিয়ে কিছুু সমস্যা দেখা গিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল সেসব সমস্যার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। কিন্তু এখনই কিছু কিছু পুরনো সমস্যা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

পুরনো সমস্যা ছাড়াও এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নতুন কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যেমন প্রথমত, কম মনোনয়নপত্র জমা পড়া। ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন (যত দূর মনে পড়ে) প্রতি ইউনিয়নে প্রায় ছয়জন প্রার্থী ছিলেন। একেবারে চূড়ান্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এই পরিসংখ্যান ছিল। কিন্তু এবার মনোনয়নপত্র জমাই পড়েছে গড়ে পাঁচটি বা তারও কম। গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রধান নিয়ম হলো বিকল্প থাকা। কারণ গণতন্ত্র মানে চুজিং বা ‘পছন্দ করা’। বিকল্পের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এবার যেহেতু মনোনয়ন জমাই পড়েছে কম, সেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর এই সংখ্যা আরো কমে আসবে। অবশ্যই বেশি প্রার্থী মানে বেশি যোগ্য প্রার্থী। প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশি হলে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকে। তাই প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়। দ্বিতীয়ত, অনেক জায়গায় এখনই দেখা যাচ্ছে, অনেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছেন বা যাবেন। গণমাধ্যমের তথ্যে জেনেছি শুধু ঢাকাতেই ২৬ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চেয়ারম্যান প্রার্থী যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, তাহলে তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি বলা যায় না। এই অস্বাভাবিকতা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।

 

কালের কণ্ঠ : বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়া তো বেআইনি নয়! 

 

বদিউল আলম মজুমদার : হ্যাঁ, অনেকে এই প্রশ্ন করতেই পারে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া তো বেআইনি নয়। অন্য কেউ যদি প্রার্থী না হন, তাহলে যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন তাঁর তো কিছু করার নেই। এর জন্য আমরা তাঁকে দোষ দিতে পারি না। কিন্তু এখানে সমস্যা হলো, যে প্রক্রিয়ায় প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন সেই প্রক্রিয়াটা বেআইনি। বাস্তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অনেক নেতাকর্মী জেলে আটক। অনেকে মামলা, হামলা ও নানা হয়রানির আশঙ্কায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও দাঁড়াতে পারেননি। অনেক স্থান থেকে অভিযোগ এসেছে, বিএনপির প্রার্থীরা যাঁরা মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলেন তাঁদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। আমাদের সংগঠনের আঞ্চলিক প্রতিনিধিরাও তথ্য পাঠিয়েছেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন বিরোধী দলের প্রার্থীদের হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি করে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমাদান থেকে বিরত রেখেছে। কিছু কিছু জায়গায় মনোনয়নপত্র ছিনতাই করা হয়েছে। এগুলো গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ। এমন অপরাধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যদি কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, তাহলে কোনোভাবেই এটাকে সুষ্ঠু প্রক্রিয়া বলা যায় না। এমনটা হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আসে। গণমাধ্যমে এসেছে, প্রার্থীরা অনেকে প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এগুলো আমলে নিচ্ছে না।

 

কালের কণ্ঠ : নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি বলে তারা মন্তব্য করেছে—এ পরিপ্রেক্ষিতে আপনার বক্তব্য কী?

 

বদিউল আলম মজুমদার : দেখুন, কেউ কেউ কিন্তু অভিযোগ করেছেন। তাঁরা সরাসরি কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বলছে তাঁদের লিখিত অভিযোগ জানাতে। এটা তো ঠিকই, নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর একটা প্রক্রিয়া আছে। তাঁকে সেই অনুযায়ী জানাতে হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচনের জন্য একটা সমতলভূমি সৃষ্টি করা। কেউ যদি জোর করে নির্বাচনের বিষয়গুলোতে সমস্যা সৃষ্টি করে, সেটার বিহিত করাও কমিশনের কাজ। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যাঁরাই প্রার্থী হতে চান তাঁদের সেই সুযোগ অপরিহার্য। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন যে এসব অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না তার মানে হলো—নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করছে না। আর নির্বাচন কমিশনের কাছে সুস্পষ্টভাবে অভিযোগ করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধতাও নেই। কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এর কাজ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশনে অবশ্যই এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যাঁরা দেখতে পান, শুনতে পান, যাঁদের কাজে দক্ষতা আছে। নির্বাচন কমিশনকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে আদালতের সুস্পষ্ট রায়ও আছে। এটা সেই বিখ্যাত দুই ব্যক্তির রায়, রায়টা হলো নূর হোসেন ও নজরুল ইসলাম। নারায়ণগঞ্জে তাঁরা বহুদিন থেকেই নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, একে অপরকে মনোনয়ন জমা দিতে না দেওয়া—এসব কাজ করে আসছেন। দুজনই সেখানে চেয়ারম্যান হতে চান। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে। শেষ পর্যন্ত তা আদালতে গড়ায়। পরে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রায়টা দেন। আদালত তাঁর রায়ে বলেছেন, যদি নির্বাচনের সময় কোনো অভিযোগ আসে বা কোনো অভিযোগ প্রকাশিত হয়ে পড়ে, তাহলে এ ব্যাপারে কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এমন হলে নির্বাচন কমিশন সেই নির্বাচন বাতিলও করতে পারে। এখন তো নির্বাচন হয়নি। মনোনয়ন জমা দিতে না পারার অভিযোগ এসেছে। সুতরাং কমিশন চাইলেই তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করতে পারে। যেহেতু তার দায়িত্ব সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে কেউ যদি অভিযোগ তুলে থাকে, তাহলে এর পরও কমিশনের দায়িত্ব অভিযোগ খতিয়ে দেখা। ওই বিখ্যাত রায়ে আরো আছে প্রার্থীদের একাধিক জায়গায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রসঙ্গে। উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, নির্বাচনী অফিসসহ নানা স্থানে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যদি অনলাইনে করা হতো, তাহলে সবচেয়ে ভালো হতো। যা-ই হোক, বর্তমান সরকার ডিজিটাইজেশনের যে প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে, তাতে অচিরেই এটা হবে আশা করা যায়।

যদি একাধিক জায়গায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যেত, তাহলে হয়তো মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মারামারি এড়ানো যেত। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এই কাজটি করেনি। এই কাজ তারা কোন যুক্তিতে বাদ দিল, তা আমার জানা নেই। এটা না করার কারণে তারা তাদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছে। সাংবিধানিক দায়িত্ব অবহেলা করলে এর কোনো বিহিত আছে কি না সেটাও দেখতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনলাইনে করার সুপারিশ করছেন?

 

বদিউল আলম মজুমদার : আমরা এখন অনলাইনে সব কাজ করছি। সুতরাং নির্বাচনী প্রক্রিয়াটাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে হওয়া উচিত বলে মনে করি। প্রার্থী তাঁর যাবতীয় কিছু অনলাইনে জমা দিতে পারেন। সব ধরনের তথ্য সেখানেই পাওয়া গেল। এখন যেমন টেন্ডারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করা হয়েছে। কারণ টেন্ডারপ্রক্রিয়াটা ছিল একেবারে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জায়গা। এখন সে সমস্যা অনেকটা কেটে গেছে। তাই মনোনয়নপত্র জমা ও যাবতীয় প্রক্রিয়া অনলাইনে হতে পারে। ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনের এসব কাজ না করার কোনো বিকল্প নেই। আশা করি, ভবিষ্যতে কমিশন এই চেষ্টা করবে। নির্বাচন কমিশন যদি প্রার্থীদের অভিযোগের কোনো প্রতিকার না করে, তাহলে খোদ কমিশন নিজেই তার সিদ্ধান্ত মানল না। এটা হলে কমিশন নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশন অন্যায়ের বিচার না করলে অন্যায়ের দোসর হয়ে যায়। তারা নিজেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

 

কালের কণ্ঠ : নির্বাচনের আগে সব সময় কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়। যেমন—পেশিশক্তি, কালো টাকা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসন। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এসব সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

 

বদিউল আলম মজুমদার : নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন ছাড়াও আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা আছে। যেমন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, প্রশাসনের নজরদারি ইত্যাদি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে, তাহলে কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন করা দুরূহ হয়ে পড়ে। নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো এগুলো নিশ্চিত করা। এবার পৌরসভা নির্বাচনের সময় আমরা দেখেছি একেবারে শেষে গিয়ে কমিশন কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু তা-ও খুব সামান্য। সংসদ সদস্য, সরকারের কর্তা বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তি, তাঁদের বিরুদ্ধেও নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এসেছে। কমিশন কিন্তু এসব ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচন কমিশন যদি একেকজনের জন্য একেক নিয়মের ব্যবস্থা করে, তাহলে অন্যায় উৎসাহিত হয়। অতীতে যারা অন্যায় করে পার পেয়েছে তারা আবারও অন্যায় করবে। সুতরাং এবারও নানা ঘটনা ঘটবে সেটা আগেই অনুমান কার যায়। মনোনয়নে বাধা বা মনোনয়ন ছিনতাইয়ের যে ঘটনা ঘটেছে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তারা আরো উৎসাহিত হবে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের প্রথম কাজ হলো এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

বরাবরই নির্বাচনের দিন বা এর এক দিন আগে সহিংসতার আশঙ্কা করা হয়। কিন্তু এবার এটা এখনই শুরু হয়েছে। এবার এখনই শুরু হওয়ার একটা কারণ দলভিত্তিক নির্বাচন হচ্ছে বলে। আগে সহিংসতা, দ্বন্দ্ব, হানাহানি এগুলো বিরোধী দলের সঙ্গে হতো, এখন এটা দলের অভ্যন্তরেই হচ্ছে। একই দলের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গেও কিন্তু ক্ষমতাবানরা আছেন। এটা আরো বেশি ঘটছে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতার অভাবে। আবার সরকার যেহেতু শক্তিশালী অবস্থানে আছে, সুতরাং আশা করা যায় ক্ষমতাসীন দল নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করবে। এবার আরো একটি বিশৃঙ্খলা বেড়েছে—তা হলো কমিশনের কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। পৌর নির্বাচনের সময়ও কমিশনের একটা নির্দেশনা ছিল। নির্বাচন একটি সুষ্ঠু সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। এটা সময়মতো হতে হবে সে ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু এবার যেভাবে মনোনয়ন-বাণিজ্য, প্রলোভন দেখিয়ে দল ত্যাগ করানো, স্বজনপ্রীতি—এসব দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়। এসবের কারণে নিজের দলের বিদ্রোহী প্রার্থীই হয়তো শক্তিশালী হবেন।

 

কালের কণ্ঠ : স্বতন্ত্র প্রার্থী, নারী বা অন্যান্য রাজনৈতিক দল কি নির্বাচনে জায়গা পাবে?

 

বদিউল আলম মজুমদার : খুব কঠিন হবে তাঁদের তুলে আনতে। কারণ যখন স্বজনপ্রীতি, অর্থ এসব প্রাধান্য বিস্তার করে তখন সেই ব্যক্তি নির্বাচিত হয়ে জনগণের জন্য কী করবেন? ছোট দলগুলো তো জায়গাই পাচ্ছে না। আর যখন ক্ষমতার প্রাধান্য বিরাজ করে, সেখানে নারীরা আসতে চান না। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী তৈরি হলে সেটা সমাজেও প্রভাব পড়ে। সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলে। একাত্তরে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছিলাম, আজ তা বিভেদে আক্রান্ত। আমাদের সামাজিক সম্পর্কের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় আখড়ায় পরিণত হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা সবারই পাওয়ার সমান অধিকার আছে। সব কিছু দলীয় হলে এই শৃঙ্খলা রক্ষা করা যায় না।

 

কালের কণ্ঠ : নির্বাচন কমিশন এখন কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে?

 

বদিউল আলম মজুমদার : নির্বাচন কমিশন কী করতে পারে, নির্বাচনকে ঘিরে তার কী কী কাজ—এগুলো তো নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে বিশেষভাবে বলতে চাই, কমিশনকে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। যে অভিযোগগুলো উঠছে তার তদন্ত করতে হবে, অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ইত্যাদিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হতেই যে অনিয়মের অভিযোগ উঠল সেগুলোর বিরুদ্ধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা না করলে মানুষ তাদের প্রতি আস্থা পাবে না। ধীরে ধীরে একসময় পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটাই ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

কালের কণ্ঠ : আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

 

বদিউল আলম মজুমদার : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

মন্তব্য