kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

সরোজিনী নাইডু

কবি, রাজনীতিবিদ ও বাগ্মী সরোজিনী নাইডু ১৮৭৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের হায়দরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস বিক্রমপুরের ব্রাহ্মণগাঁও।

নাইডুর বাবা ড. অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন হায়দরাবাদের নিজামের শিক্ষা উপদেষ্টা। মা বরোদা সুন্দরী দেবী ছিলেন কবি।

সরোজিনী নাইডু ১৮৯১ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৮৯৫ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে যান। সেখানে প্রথমে কিংস কলেজ ও পরে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গির্টন কলেজে পড়েন। ১৮৯৮ সালে ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আসেন। ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯১৫ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দেন। এ সময় সারা ভারতে সভা-সমাবেশ করে নারী মুক্তি, শ্রমিক অধিকার রক্ষা ও জাতীয়তাবাদের সমর্থনে তাঁর বার্তা প্রচার করেন। ১৯১৭ সালে নারীর ভোটাধিকারের দাবিতে উইমেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হলে সরোজিনী নাইডু এর সদস্য হন। ১৯১৯ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া হোম রুল ডেপুটেশনের সদস্য হিসেবে ইংল্যান্ডে যান। ১৯২০ সালের ১ আগস্ট তিনি মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। ১৯২৬ সালে অল ইন্ডিয়া উইমেন কনফারেন্স গঠিত হলে তিনি এর সভাপতি হন। অসহযোগ আন্দোলনের বার্তা নিয়ে তিনি আফ্রিকান আমেরিকান ও ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যকার বৈষম্যের প্রতিবাদ জানান। আইন অমান্য আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে ১৯৩০ সালে গান্ধীর সঙ্গে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং এক বছর পর মুক্তি পান। পরে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে আবারও গ্রেপ্তার হন কিন্তু অসুস্থতার কারণে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর সরোজিনী নাইডু ভারতের উত্তর প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন এবং আমৃত্যু এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন খ্যাতিমান কবি। অল্প বয়স থেকেই তিনি কবিতা লিখতে শুরু  করেন। ১৯০৫ সালে তাঁর রচিত কবিতা সংগ্রহ ‘দ্য গোল্ডেন থ্রেসহোল’ প্রকাশিত হলে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘বুলবুলে হিন্দ’ খেতাবে বিভূষিত হন। সরোজিনী নাইডুর আজীবন কর্মসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ‘সরোজিনী নাইডু স্বর্ণপদক’ প্রবর্তন করেছে। ১৯৪৯ সালের ২ মার্চ এলাহাবাদে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য