অবিশ্বাসীরা পরকালের ব্যাপারে উদাসীন-331152 | মুক্তধারা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


পবিত্র কোরআনের আলো

অবিশ্বাসীরা পরকালের ব্যাপারে উদাসীন

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অবিশ্বাসীরা পরকালের ব্যাপারে উদাসীন

৭. নিশ্চয়ই যারা (কিয়ামতের দিন) আমার সাক্ষাতের আশা (ভয়) করে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট, তাতেই তারা প্রশান্তি অনুভব করে (নিশ্চিন্ত থাকে) আর আমার নিদর্শনাবলির ব্যাপারে উদাসীন।

৮. এমন লোকদের ঠিকানা হলো জাহান্নাম, তাদের কৃতকর্মের কারণে। (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৭-৮)

তাফসির : আগের আয়াতগুলোতে আল্লাহর একত্ববাদ ও পরকালের প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছিল। আলোচ্য দুই আয়াতে পরকাল অস্বীকারকারীদের পরিণতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে অবিশ্বাসীদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হওয়ার চারটি কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। এক. অবিশ্বাসীরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাক্ষাতের ভয় করে না। তাঁর শাস্তির ভয় করে না। ভালো কাজ করে তাঁর প্রতিদানের আশা করে না। পরকালের হিসাব-নিকাশের ভয় করে না। পাপ-পুণ্যের ধার ধারে না। দুই. অবিশ্বাসীরা দুনিয়ার জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট। জাগতিক খ্যাতি ও বৈষয়িক উন্নতিই তাদের জীবনের লক্ষ্য। পার্থিব ক্ষতি মানেই তাদের সব কিছু শেষ হয়ে যাওয়া। তিন. অবিশ্বাসী কাফিররা দুনিয়ার প্রেমে মত্ত থাকে। দুনিয়ার সামান্য প্রাপ্তি নিয়েই তারা প্রশান্তি অনুভব করে। চার. আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে তারা উদাসীন থাকে। সৃষ্টিজগৎ নিয়ে তারা চিন্তাভাবনা করে না। সুতরাং পাপের শাস্তিস্বরূপ তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।

বস্তুগত জীবনের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ও মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের ব্যাপারে উদাসীনতা সমাজের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। এমন অবিশ্বাসী লোকেরা অপরাধী হয়ে ওঠে। তারা ধর্ম ও সামাজিক রীতিনীতির তোয়াক্কা করে না। ফলে যেকোনো অপরাধমূলক কাজ করা তাদের পক্ষে সহজ।

লক্ষণীয় যে, এখানে দাবির সঙ্গে ইশারা-ইঙ্গিতে তার যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে। দাবি হচ্ছে, পরকালীন জীবন অস্বীকার করার অনিবার্য ফল হলো জাহান্নাম। এর প্রমাণ হচ্ছে, পরকালের ব্যাপারে উদাসীন মানুষ এমন সব অসৎ কাজ করে, যেগুলোর শাস্তি জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। এটি একটি জাজ্বল্যমান সত্য। মানুষের বিশ্বাস ও চিন্তা-চেতনার প্রভাব পড়ে তার কর্মে। যারা ‘আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে’ বলে মনে করে না, তারা দুনিয়ায় লাগামহীনভাবে বসবাস করে। তারা পৃথিবীকে মাদকতা, অশ্লীলতা, জুলুম, নির্যাতন, বিপর্যয়, বিশৃঙ্খলায় ভরে দেয়। এভাবে তারা জাহান্নামের আজাব ভোগের যোগ্য হয়ে যায়। আল্লাহ তাদের তাওবার সুযোগ দেন। কিন্তু অব্যাহত পাপ করে এক সময় তারা তাওবার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। অবশেষে পাপাচারে ভরপুর দেহ-মন নিয়ে দুনিয়া ত্যাগ করে।

মুমিনদের জীবন এর বিপরীত। তাঁদের জীবনের মূল লক্ষ্য হলো আখিরাত। তাই মুমিনরা দুনিয়ায় তাঁদের যাবতীয় কাজের মাধ্যমে আখিরাত লাভের চেষ্টা চালায়। দুনিয়া মুমিনদের জন্য আখিরাতের পথ চলার সাময়িক বিশ্রামাগার। পথিক যেমন পথ চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে ছায়া তালাশ করে, সেখানে বিশ্রাম নেয়, অনুরূপ মুমিনদের জন্য আখিরাতের কল্যাণ অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করতে করতে বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। দুনিয়া হলো সাময়িক বিশ্রামাগার। অনাবিল সুখ এখানের প্রধান লক্ষ্য নয়। দুনিয়া মানুষের জন্য অনিবার্য ও জরুরি, কিন্তু ইমানদারের কাছে দুনিয়াই সব কিছু নয়। দুনিয়ার জীবনের পরে রয়েছে পরকালের জীবন। দুনিয়া হলো আখিরাতের সঞ্চয় ও শস্যক্ষেত্র। ইমানদারের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের দুনিয়ার প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়তে নিষেধ করেছেন। দুনিয়ার মোহে পড়ে আমরা যেন পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত না হই, সে জন্য তিনি আমাদের সতর্ক করেছেন।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

মন্তব্য