kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

দিন-রাতের পরিবর্তনে প্রভুর নিদর্শন

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দিন-রাতের পরিবর্তনে প্রভুর নিদর্শন

৬. নিশ্চয়ই রাত-দিনের পরিবর্তনে এবং আসমান ও জমিনে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তাতে খোদাভীরুদের (মুত্তাকিদের) জন্য নিদর্শন রয়েছে। (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৬)

তাফসির : প্রকৃতির সৃষ্টি ও পরিবর্তনে আল্লাহর অস্তিত্বের নিদর্শন পাওয়া যায়।

তাঁর নিদর্শন ছড়িয়ে আছে সর্বত্র—সৌন্দর্য, শক্তিতে ও পৃথিবীর সব কিছুতে। আগের আয়াতে চন্দ্র ও সূর্যের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে রাত-দিনের পরিবর্তনসহ গোটা সৃষ্টিজগতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, দিন-রাতের পরিবর্তন অপার বিস্ময়কর! এগুলোর আগমন-গমন, হ্রাস-বৃদ্ধি, অন্ধকার-আলো, ঠাণ্ডা-গরম অত্যন্ত আশ্চর্য বিষয়। গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, এগুলোরও কোনো স্রষ্টা আছে, পরিচালক আছে। কেননা কারিগর ও স্রষ্টা ছাড়া কোনো কিছু হতে পারে না, চলতে পারে না। কেবল রাত-দিনের পরিবর্তনই নয়, প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে প্রভুর নিদর্শন আছে। যাদের মধ্যে প্রভুপ্রেম আছে, আল্লাহর ভয় আছে, চিন্তাশীল মানসিকতা আছে, এসব নিদর্শন দেখে তারাই স্রষ্টার সন্ধান পায়।

দিন-রাতের পরিবর্তনের প্রভাব

দিন-রাতের হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীতে ঋতুর পরিবর্তন হয়। একেক ঋতুতে প্রকৃতি একেক সাজে সেজে ওঠে। আবার এই পরিবর্তনের ধারা গোটা পৃথিবীব্যাপী এক রকম নয়। দ্রাঘিমাংশ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান বিভিন্ন আবহাওয়া ধারণ করে। ফলে দেশে দেশে প্রকৃতিতে পরিবর্তন দেখা দেয়। স্রষ্টার সুনিপুণ কৌশলের কারণেই একই পৃথিবীতে আমরা হাজারো বৈচিত্র্যের সন্ধান পাই। যদি দিন-রাত একই ছন্দ বজায় রেখে প্রতিবছর পরিবর্তন না হতো, তাহলে পৃথিবী হুমকির মুখে পড়ত। যদি রাতের পরিমাণ বেশি হতো, তাহলে পৃথিবী আস্তে আস্তে শীতল হয়ে বরফে ঢেকে যেত। আবার যদি দিনের পরিমাণ বাড়তে থাকত, তাহলে পৃথিবী আস্তে আস্তে গরম হয়ে উত্তর-দক্ষিণ মেরুর বরফ গলে যেত, সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যেত। ফলে বেশির ভাগ দেশ সাগরে ভেসে যেত। দিনের আলো না থাকলে কোনো উদ্ভিদ বেঁচে থাকত না। কোনো উদ্ভিদ না থাকলে কোনো প্রাণী বেঁচে থাকত না। কেননা প্রাণিজগৎ ও মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৃথিবীতে তৈরি হয় উদ্ভিদের কারণে। একই সঙ্গে রাত না থাকলেও উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ টিকে থাকত না। উদ্ভিদে ফুল ও ফল হওয়ার জন্য রাত প্রয়োজন। প্রাণীদের বিশ্রামের জন্যও রাত প্রয়োজন। ক্রমাগত দিনের আলো প্রাণীর দেহের জন্য ক্ষতিকর। রাতে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে না পারলে প্রাণীরা টিকে থাকতে পারবে না।

যদি ক্রমাগত দিন হতো, তাহলে পৃথিবীর যেদিকে ক্রমাগত দিন থাকবে, সেদিক এত উত্তপ্ত হয়ে যাবে যে, সব পানি বাষ্প হয়ে যাবে। পানি না থাকলে কোনো প্রাণ টিকে থাকতে পারবে না। অন্যদিকে পৃথিবীর যেদিকে ক্রমাগত অন্ধকার থাকবে, সেদিক শীতল হয়ে বরফে ঢেকে যাবে। তাই প্রাণের অস্তিত্বের জন্য, মানুষের টিকে থাকার জন্য দিন ও রাতের পরিবর্তন অত্যাবশ্যকীয়। প্রশ্ন হলো, এগুলো কি এমনিতেই হয়ে গেল? এগুলোর কি কোনো স্রষ্টা নেই? স্রষ্টা ছাড়া কোনো কিছুর কি সৃষ্টি হতে পারে? শিল্পী ছাড়া কি কোনো শিল্প হতে পারে? কারিগর ছাড়া কি কোনো বস্তুর অস্তিত্ব কল্পনা করা যায়?

মুক্তবুদ্ধির জানালা খুলে গভীর দৃষ্টিতে প্রকৃতির দিকে তাকালে মনের পর্দায় ভেসে উঠে আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শন। বহু দূরের নক্ষত্ররাজি আর খুব কাছের পত্র-পল্লব, বৃহৎ তিমি আর ক্ষুদ্র পিঁপড়া—এসব নিয়ে ভাবনার সাগরে ডুব দিলে মস্তিষ্কের ভেতর আল্লাহর অস্তিত্ব অনুভব করা যায়। প্রকৃতির সব কিছুই আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ, তাঁর অপার শক্তি ও মহিমার প্রমাণ।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য