kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে’

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে’

দেশে রাজনৈতিক অবস্থা যা-ই হোক, বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে ক্ষমতাসীন সরকারকে আরো সময় দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল। তিনি বলেছেন, আগের সরকারগুলোর সময়ে দেখা যেত সরকার ক্ষমতা নিতে না নিতেই বিরোধী দলের আন্দোলনের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।

এখন আর সেটি নেই। এখন বিরোধী দল নিয়মিত সংসদে যাচ্ছে। সংসদ কার্যকর হচ্ছে। বিরোধী দলের সক্রিয়তা যেমনই হোক, তারা তো সংসদ বর্জন করছে না। তাই এই সরকারের সময়ের উন্নয়ন ভাবনা যেন এগিয়ে নেওয়া যায় সেদিকে সংশ্লিষ্টদের লক্ষ রাখতে হবে।

রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো আকিজ সিমেন্ট মুক্তবাক অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে অধ্যাপক মেজবাহ কামাল এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া লোকদের মূল স্রোতোধারায় নিয়ে আসতে পারলে দেশ আরো উন্নত হয়ে যাবে। সবার অংশগ্রহণেই একটি উন্নত দেশ গড়া সম্ভব হবে। আমাদের সেদিকেই বেশি খেয়াল রাখতে হবে। সাংবাদিক রাহুল রাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন উন্নয়ন বিশ্লেষক ও গবেষক অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য তাঁর দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ জোনসহ বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হবে, যাতে সব উন্নয়নপ্রক্রিয়া কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। এভাবে যদি দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় তাহলে আমাদের সামনে কি সুদিন অপেক্ষা করছে না? কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে মেজবাহ কামাল বলেন, উন্নয়ন হলো একটি দেশের প্রাণ। দেশের কোথাও কোনো উন্নয়ন না হলে ধরে নিতে হবে সে দেশ আর এগোচ্ছে না। তবে শুধু শহরে নয়, দেশের গ্রামগঞ্জ থেকেও দারিদ্র্য দূর করতে হবে। সবার আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতেই বর্তমান সরকার অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই এ দেশে একজনও গৃহহীন থাকবে না। আর কেউ কুঁড়েঘরেও বাস করবে না। সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই সরকার এ লক্ষ্যে একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ’ মেজবাহ কামাল বলেন, ‘জাতির পিতা শুধু দেশকে স্বাধীনতাই এনে দেননি, তিনি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্যও বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে মানুষের ন্যূনতম চাহিদার জোগান দেওয়াও তাঁর সরকারের লক্ষ্য। এ সরকার বাংলাদেশকে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে ইতিমধ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ৩১৬ ডলার হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে গত সাত বছরে গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া সরকার সফলভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ’

এ পর্যায়ে সাখাওয়াত আলী  বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হলেই যে মানুষ রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাবে তা নয়। তবে এই উন্নয়ন হতে হবে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। যদি উন্নয়ন কমকাণ্ডে দেশের মানুষ সম্পৃক্ত করা যায় তবে এর সুফল সরকারের ফান্ডেও যাবে। মানুষ চায় বেকারত্বের অবসান। এই বেকারত্ব দূর করতে সরকার আন্তরিক কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়। তিনি বলেন, এখনো দেশে দুই লাখ ৬৮ হাজার পরিবার অতি দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। সরকার বেকারত্বের পাশপাশি আবাসনেরও সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এক লাখ ৩৯ হাজার ১৮৮ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ পর্যন্ত ৬৩০টি গ্রামে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে অচিরেই দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।


মন্তব্য