১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতির জীবনে একটি মাইলফলক। ঐতিহাসিক দিক পরিবর্তনের একটি দিন। তথাকথিত মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিপরীতে ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ। বলা যেতে পারে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের সূত্রপাত, যার পরিণতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অবশ্য আরো ব্যাপক, আরো গভীর, যার মধ্যে সার্বিক মুক্তির অর্থাৎ সমাজতন্ত্রের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছিল। বস্তুত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ঔপনিবেশিক ধরনের শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে প্রধানত ষাটের দশকে তরুণ ছাত্রসমাজের এক বড় অংশ এবং শ্রমিক শ্রেণি ও অন্যান্য মেহনতি মানুষ সমাজতন্ত্রের ধারণাটি গ্রহণ করেছিল। তাই তারা যখন অস্ত্র হাতে উঠে দাঁড়াল, তখন তাদের মধ্যে সমাজতন্ত্রের স্বপ্নও ছিল। সেই সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের প্রয়াসও ছিল। আজ সেই সমাজতান্ত্রিক চেতনার কথা শাসক শ্রেণি ভুলেও উচ্চারণ করে না। একুশের চেতনার মধ্যে অবশ্য এই বহুমাত্রিক দিক ছিল না। কিন্তু যেটা ছিল তা হলো পাকিস্তানি চেতনার ঠিক বিপরীতটি। এটা ভাবতে অবাক লাগে যে ১৯৪৭ সালে যারা পাকিস্তানের জন্য সোচ্চারে স্লোগান দিয়েছিল, তাদেরই সন্তানরা মাত্র ২৪ বছর পর সেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেছিল। পাকিস্তান রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে ঘৃণা এবং ক্রমেই সংগ্রামের আকাঙ্ক্ষা বিকাশ লাভ করেছিল এই ২৪ বছরে; যার সূচনা হয়েছিল ভাষা আন্দোলন থেকেই। এটাও ভাবতে অবাক লাগে যে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পাকিস্তানি চেতনা এভাবে হারিয়ে গেল কিভাবে? পাকিস্তানি চেতনা বলতে কী বুঝি? পাকিস্তান আন্দোলনের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা তো পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নিজেই দিয়ে গেছেন। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা নয়, ধর্মীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক জাতীয়তা। বাঙালি যে একটি স্বতন্ত্র জাতি তার অস্বীকৃতি ছিল পাকিস্তানি ভাবধারার মধ্যে। বাঙালি ভাষা হিন্দুদের ভাষা- এমন কথা শোনা গিয়েছিল। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে সরাসরি তুচ্ছ করার ঘটনাও আমরা দেখেছি। ঘরে উর্দুতে কথা বলাকে মুসলিম উচ্চবিত্তের সমাজে আভিজাত্যের লক্ষণ বলে মনে করা হতো। তথাকথিত অভিজাত মুসলমানরা ঘরে উর্দুতে কথা বলতেন। একুশের আন্দোলন এই ধারাটির পতন ঘটিয়েছিল। জাতি হিসেবে আমরা বাঙালি বলতে গর্ববোধ করতে শুরু করি। আমাদের ভাষা বাংলা ভাষা, যা ছিল পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষেরও ভাষা, তাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার জন্য দাবি জানাই। জনগণের মানসিকতা ও চেতনার ক্ষেত্রে এই যে বিরাট পরিবর্তন, একুশের আন্দোলনের সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় তাৎপর্যপূর্ণ দিক। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেছিলেন, হিন্দু ও মুসলমান- দুই জাতি, তাই দুই জাতির জন্য স্বতন্ত্র দেশ দরকার। মুসলমানের দেশ হলো পাকিস্তান। জাতি সম্পর্কে এর চেয়ে বড় অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আর কিছুই হতে পারে না। কিন্তু সাময়িককালের জন্য হলেও ভারতবর্ষের মুসলিম জনগণ পাকিস্তান আন্দোলনের স্রোতে ভেসে গিয়েছিল। কেন এমনটি হয়েছিল? আর সেই পাকিস্তানি চেতনা কতটা ঠুনকো ছিল যে মাত্র কয়েক বছর না যেতেই বাংলার জনগণ সেটাকে এত সহজে পরিত্যাগ করতে পেরেছিল। এ বিষয়টি একটু গভীরভাবে ভাবা দরকার। কারণ বায়ান্ন থেকে একাত্তর- এই কয় বছরে বাঙালি জাতীয় চেতনার স্ফুরণ থেকে সর্বোচ্চ বিকাশ যেটা ঘটেছিল, তার মধ্যে আবার সামান্য হলেও ফাটল ধরেছে খুব সাম্প্রতিক সময়ে। একুশের বা একাত্তরের চেতনার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। ইদানীং সেটাই বারবার ধাক্কা খাচ্ছে। মনে হয় যেন পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা ফিরে আসছে। কিন্তু কেন? সেই অনুসন্ধান জরুরি। এই নিবন্ধে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান বা গবেষণা নিশ্চয়ই আশা করবেন না পাঠকরা। তবে এই ক্ষুদ্র পরিসরে কয়েকটি ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরে বর্তমানকে বোঝার চেষ্টা করা হবে। আমাদের দেশে ইসলাম ধর্ম এসেছে কয়েকজন সুফিবাদী মহাপুরুষের হাত দিয়ে, যাঁদের জীবনাদর্শ এই দেশের নিচু বর্ণের হিন্দু- যারা ছিল সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিপীড়িত, তাদের আকৃষ্ট করেছিল। এর আগে জাতিভেদ প্রথাবিরোধী বৈষ্ণব ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম ব্যাপক শ্রমজীবী জনগণকে আকৃষ্ট করেছিল। বাউল সাধক এবং সহজিয়া মতবাদের সঙ্গে এ দেশের শ্রমজীবী জনগণ সুফিবাদী ইসলামী মতবাদের সাদৃশ্যও দেখেছিল। তাঁরা দলে দলে মুসলমান হয়েছিলেন। প্রখ্যাত লেখক শওকত আলীর লেখা বিখ্যাত উপন্যাস 'প্রদেশে প্রাকৃতজন'-এ নিচু বর্ণের হিন্দুদের ধর্মান্তরিত হওয়ার চিত্রটি অঙ্কিত হয়েছে। তারপর থেকে শতাব্দী শতাব্দী পাশাপাশি বাস করলেও একই ভাষা ও সংস্কৃতি থাকা সত্ত্বেও হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কিছু বিভাজন রেখা থেকে গিয়েছিল। কেন? সে প্রশ্নের উত্তর সমাজবিজ্ঞানীদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহ না হওয়া, একত্রে আহার না করা, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আহারের প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের বাধানিষেধ ইত্যাদি থেকেই গিয়েছিল। এই বিভাজন প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুঃখ করে বলেছেন, 'ভারতবর্ষের এমনি কপাল যে এখানে হিন্দু-মুসলমানের মতো দুই জাত একত্র হয়েছে; ধর্মমতে হিন্দুর বাধা প্রবল নয়, আচারে প্রবল; আবার আচারে মুসলমানের বাধা প্রবল নয়, ধর্মমতে প্রবল।' (কালান্তর) এই বিভাজনকে ব্রিটিশরা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছিল। ব্রিটিশ রাজের আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি কখনো। দু-একজন শাসক বাদে (যথা আওরঙ্গজেব) বেশির ভাগ রাজা-বাদশাহ এক ধরনের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করেছেন (বিশেষ করে আকবর উল্লেখযোগ্য)। তবে ঊনবিংশ শতাব্দীতে হিন্দু পুনর্জাগরণবাদ ও মুসলিম জাতীয়তাবাদের জন্ম হয়েছিল। হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা প্রাচীন বৈদিক যুগের মহাত্ম প্রচারে লিপ্ত ছিলেন। অন্যদিকে নবাব আব্দুল লতিফের মতো মুসলমান সমাজের ওপরতলার বিশিষ্ট ব্যক্তি যাঁরা মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, তাঁরা জাতীয়তাবাদের উৎস খুঁজতেন ভারতবর্ষের বাইরে আরব, ইরান, তুর্কি এসব দেশে। ভারতবর্ষ অথবা বাংলাদেশ যে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত এক দেশ। এক ভাষাভাষী মানুষ যে এক জাতি, এ সত্যটিকে উভয় পক্ষই অস্বীকার করেছিল। এটাকেই কাজে লাগিয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। এটাকেই ব্যবহার করেছিলেন ব্রিটিশভক্ত জিন্নাহ, যিনি ব্যক্তিজীবনে ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ। পাকিস্তান আন্দোলনকে তদানীন্তন বাঙালি মুসলমানের একেক শ্রেণি একেকভাবে দেখেছিল। সেই যুগে বাঙালি মুসলমানের মধ্যে বুর্জোয়া শ্রেণির আবির্ভাব হয়নি। জমিদারদের মধ্যেও বেশির ভাগ ছিলেন হিন্দু। পাকিস্তানের দাবি ছিল আসলে অবাঙালি উঠতি বুর্জোয়া ও জমিদার শ্রেণির দাবি। শ্রেণিগতভাবে মুসলিম লীগ তাদেরই দল। ভারতের মুসলমান উঠতি বুর্জোয়ারা (যারা আবার অবাঙালি) চেয়েছিল অধিকতর শক্তিশালী ভারতীয় অমুসলমান বুর্জোয়াদের প্রভাবমুক্ত এলাকা, যেখানে থাকবে তাদের একচ্ছত্র শোষণ ও লুণ্ঠনের অধিকার। কিন্তু বাঙালি উঠতি মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ ভেবেছিল অন্য কিছু। মুসলমান কৃষক প্রজা চেয়েছিল, হিন্দু জমিদারদের কাছ থেকে মুক্তি। আর মুসলমান বাঙালি মধ্যবিত্ত ভেবেছিল চাকরি ও ব্যবসার ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি লাভ করতে পারবে। সেই সময় চাকরি ও ব্যবসার ক্ষেত্রে হিন্দুরা অগ্রসর ছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ফলে বাঙালি মুসলমান মধ্যবিত্তের কিছুটা উন্নতি হলেও তারা এক নতুন ধরনের ঔপনিবেশিক শোষণের শিকার হলো। তাই পাকিস্তানের মোহ দ্রুতই কেটেছিল। এবার তারা নিজেদের জাতি হিসেবে ভাবতে শিখল। বাঙালি জাতি, যারা বাংলা ভাষায় কথা বলে। এখানে হিন্দু-মুসলমানের বিভেদ নেই। ভাষা আন্দোলন তাই পাকিস্তানি ভাবধারাকেই আঘাত করেছিল। ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে চলে আসা মুসলিম জাতীয়তাবাদ, যার প্রধান প্রবক্তা হয়ে দাঁড়ালেন জিন্নাহ সাহেব, সেটাকেই কার্যত অস্বীকার করে ভাষা আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যদিও তখনো পর্যন্ত সরাসরি পাকিস্তানবিরোধী কোনো বক্তব্য আসেনি। প্রতিটি দেশের জাতীয়তাবাদের নিজস্ব কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম উপাদান হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। পাকিস্তানি ভাবধারার মুসলিম জাতীয়তাবাদকে অস্বীকার করার মধ্য দিয়েই তদানীন্তন পূর্ব বাংলার বাঙালি মুসলমান নতুন করে তার জাতীয় সত্তাকে খুঁজে পেয়েছিল। এখানে একটা জিনিস লক্ষ করার মতো। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে গুলি হয়েছিল, অনেকে শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু এ রকম সাহসী সংগ্রামের ঘটনা তো আরো হয়েছে। সেগুলো তো আমরা তেমনভাবে পালন করি না, যেমনভাবে করি একুশে ফেব্রুয়ারি। এর কারণ কী? একুশের আন্দোলনের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আবেদন ছিল, যা অন্য কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা শ্রেণিগত আবেদনের চেয়ে অনেক বেশি করে মানুষকে স্পর্শ করে। দ্বিতীয়ত, আরেকটি প্রশ্নও মনে জাগে। তা হলো বায়ান্নর একটি গুলি ও কয়েকজন ছাত্র এবং সাধারণ মানুষের শাহাদাতবরণের ঘটনা কিভাবে গোটা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টে দিতে পারল। এর কারণ এই আন্দোলন ব্যাপক কৃষক সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। স্তালিন বলেছেন, জাতীয় আন্দোলন মূলত কৃষকের আন্দোলন। আমাদের এই বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শ্রমিক শ্রেণি তেমন বিকশিত ছিল না। মেহনতি মানুষ বলতে ছিল কৃষক প্রজা। পাকিস্তান হওয়ার পর কৃষকের সন্তানরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে শুরু করল। সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা পড়তেন তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল কৃষকের সন্তান। প্রথম প্রজন্ম যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। সেই সন্তানদের ঘিরে বহু স্বপ্ন কৃষক মা-বাবার। তাঁদের গুলি করেছে, এটা সহ্য করা যায় না। গোটা কৃষক সমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। তদানীন্তন জনৈক কৃষক নেতা এভাবে সেই সময়ের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছিলেন। যে কৃষক একবার ভুলভাবে পাকিস্তানের পক্ষে সোচ্চার ছিল, সেই কৃষকের ভুল ভেঙেছিল খুবই দ্রুত। আমাদের দেশের যে শ্রমজীবী, প্রধানত কৃষক একবার সুফি মতবাদী উদারদৃষ্টি দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল, তারা অন্তরে সেই উদার দৃষ্টিভঙ্গিই লালন করে। ধর্মনিরপেক্ষতা সেই উদার দৃষ্টিভঙ্গির সহজাত অঙ্গ। তাই এ দেশে ধর্মীয় গোঁড়ামি কোনো দিন জায়গা করতে পারেনি। মধ্যপ্রাচ্যের মতো ধর্মীয় মৌলবাদও এ দেশের জনমনে ঘাঁটি করতে পারবে না। একুশের চেতনার মধ্যেই রয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার বৈশিষ্ট্যগুলো। একুশের চেতনা আমাদের বারবার ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় চেতনায় উদ্দীপ্ত করবে। তবু বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ইসলামী মৌলবাদের প্রসার এবং এ দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির পর্বতপ্রমাণ দুষ্কর্ম ও পাশাপাশি বাম শক্তির ব্যর্থতার কারণে মৌলবাদ কিছুটা জায়গা তৈরি করেছে। এ কথা অস্বীকার করা মানে হলো চোখ বুজে থেকে বাস্তবজগৎকে অস্বীকার করা। একুশের চেতনা দ্বারা মৌলবাদী ধ্যান-ধারণাকে পরাজিত করতে হবে। তাই আজও একুশে ফেব্রুয়ারির প্রয়োজনীয়তা মোটেও ফুরায়নি, বরং বেড়েছে। একুশে পালন কেবল কিছু আনুষ্ঠানিকতাই নয়, গভীর রাতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াই নয়। আরো বড় কিছু। একুশের চেতনা যাতে সবাই ধারণ করতে পারে এবং তাকে আরো অগ্রসর করে নিতে পারে, সে উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা উদার গণতান্ত্রিক চিন্তার অধিকারী সবাইকেই নিতে হবে। একুশের চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতার অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ আরো উজ্জ্বল হয়ে গোটা জাতিকে পথ দেখাবে- সে কামনাই করছি। লেখক : রাজনীতিবিদ