kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

সরদার জয়েনউদ্দীন   

২২ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

কথাসাহিত্যিক সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামে কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় খলিলপুর হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৩৯) পাস করে তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন। এরপর সেনাবাহিনীর হাবিলদার ক্লার্ক পদে যোগ দেন। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকার বিজ্ঞাপন বিভাগে যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি ঢাকায় কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫১ সালে দৈনিক সংবাদে বিজ্ঞাপন বিভাগে ম্যানেজার পদে নিযুক্ত হন। এরপর একে একে দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলা একাডেমির প্রকাশনা ও বিক্রয় শাখাসহ নানা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। সর্বশেষ বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ডের ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ পদে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

সরদার জয়েনউদ্দীনের লেখালেখি শুরু ছেলেবেলা থেকেই। সংবেদনশীল মনের অধিকারী জয়েনউদ্দীনের লেখায় উঠে এসেছে সামাজিক সংকট, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, গ্রামীণ সমাজের অবহেলিত মানুষের বেদনা, জোতদার ও মহাজনদের শোষণ-নিপীড়নের চিত্র। গল্প, উপন্যাস ও শিশুসাহিত্যে তিনি সমকালীন এসব বিষয়কে নিষ্ঠার সঙ্গে বয়ান করেছেন। আদিগন্ত (১৯৫৯), পান্নামতি (১৯৬৪), নীল রং রক্ত (১৯৬৫), অনেক সূর্যের আশা (১৯৬৭), বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ (১৯৭৫) ইত্যাদি তাঁর উপন্যাস। এগুলোর মধ্যে 'অনেক সূর্যের আশা'র জন্য তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর ছোটগল্পের মধ্যে রয়েছে নয়ন ঢুলি (১৯৫২), বীরকণ্ঠীর বিয়ে (১৯৫৫), খরস্রোত (১৯৫৫), বেলা ব্যানার্জির প্রেম, অষ্টপ্রহর ইত্যাদি। এ ছাড়া শিশুসাহিত্যের মধ্যে রয়েছে উল্টো রাজার দেশ, আমরা তোমাদের ভুলব না, অবাক অভিযান ইত্যাদি। কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সরদার জয়েনউদ্দীন ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

 

 



মন্তব্য