kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

মুকুন্দ দাস   

১৮ মে, ২০১৪ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

'একবার বিদায় দে মা, ঘুরে আসি', 'ভয় কি মরণে, রাখিতে সন্তানে'- কালজয়ী এ গানগুলোর স্রষ্টা চারণ কবি মুকুন্দ দাস। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, যাত্রাপালা রচয়িতা ও সংগীতকার। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও স্বদেশি আন্দোলনের সময় এমন অনেক গান সৃষ্টি করে মুকুন্দ দাস খ্যাতি অর্জন করেন। ১৮৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান মুন্সীগঞ্জের বানরী গ্রামে তাঁর জন্ম।

বাবা গুরুদয়াল দে, মা শ্যামা সুন্দরী। তাঁর জন্মের পরেই তাঁদের গ্রাম পদ্মায় তলিয়ে যায়। তখন তাঁরা গুরুদয়ালের কর্মক্ষেত্র বরিশাল শহরে চলে আসেন। সেখানে ব্রজমোহন স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু। একপর্যায়ে বরিশালের বৈষ্ণব সন্ন্যাসী রামানন্দ মুকুন্দর গান শুনে মুগ্ধ হন। পারিবারিক নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর দে। ওই সন্ন্যাসীই নাম দেন মুকুন্দ দাস। ১৯ বছর বয়সেই মুকুন্দ দাস সাধন সংগীত নামে ১০০টি গানের একটি সমৃদ্ধ বই রচনা করেন। বরিশালের অশ্বিনী কুমার দত্তের সংস্পর্শে মুকুন্দ দাস রাজনীতিতে আসেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন শুরু হলে তিনি একের পর এক গান লিখে বাঙালির জাতীয় জীবনে ব্যাপক প্রেরণা ও উদ্দীপনা সঞ্চার করেন। এরপর ব্রিটিশ সরকার তাঁকে রাজদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ও আড়াই বছর জেলে আটকে রাখে।

১৯১৬ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের আমন্ত্রণে যাত্রার দল নিয়ে কলকাতা যান। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি গান, যাত্রাপালা, নাটক লিখে গ্রামে গ্রামে প্রচার করতেন বলে চারণ কবি উপাধি দেওয়া হয়। তাঁর রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাতৃপূজা, আদর্শ, সমাজ, পল্লীসেবা, সাথি ইত্যাদি। ১৯৩৪ সালের ১৮ মে যাত্রা পরিবেশন করতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।

 

 

 



মন্তব্য