kalerkantho

জোরেই চলছে মোটরসাইকেল!

পার্থ সারথি দাস   

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



জোরেই চলছে মোটরসাইকেল!

মডেল : তারেক ও অর্ণব ছবি : কাকলী প্রধান

রাজধানী ঢাকাসহ দেশে মোটরসাইকেলের বাজার বাড়ছে। জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় এই বাজার সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা নতুন স্বপ্ন দেখছেন। গণপরিবহন সংকট থেকে রেহাই পেতে মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৬ সালে তিন লাখ ৩২ হাজার মোটরসাইকেল নিবন্ধিত হয়েছে। আগের বছরের চেয়ে এই হার ৪০ শতাংশ বেশি। বিআরটিএর তথ্যানুসারে, দেশে ৩০ লাখের মতো নিবন্ধিত মোটরযান আছে। এর মধ্যে ১৮ লাখের বেশি মোটরসাইকেল।

রাজধানী ঢাকায় দিনে যোগ হচ্ছে দুই হাজার নতুন মুখ। বাড়তি মানুষের চলাচলে গণপরিবহনের সংকট তীব্রতর হচ্ছে। সংকট থেকে রেহাই পেতে মোটরসাইকেলের ব্যবহার হু হু করে বাড়ছে।

বিআরটিএর তথ্যানুসারে, ঢাকায় সব ধরনের গাড়ি নিবন্ধিত আছে গত মে মাস পর্যন্ত ১১ লাখ ১৪ হাজার ১৯১টি।

এর মধ্যে ৪১ শতাংশই মোটরসাইকেল। একই সময়ে সারা দেশে মোটরসাইকেল রয়েছে ৬০ শতাংশ। প্রতিদিন ঢাকাসহ সারা দেশে বাড়ছে মোটরসাইকেল। দাম কম আর অল্প তেলে বেশি পথ চলতে পারায় ১০০ থেকে ১১০ সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেলের বিক্রিই বেশি। এরপর চাহিদা ১৫০ সিসির। এগুলোর তুলনায় কিছুটা কম চলে ১২৫ থেকে ১৩৫ সিসি।

রাজধানীতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পরিবহনসেবার সম্প্রসারণ ঘটছে। অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবা বাড়ছে। এ জন্য বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে এ নীতিমালার খসড়া তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবহনসেবা দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ৩০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে পাঠাওসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান সেবা দেওয়া শুরু করেছে। তাতে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া গোনা হয়। ঢাকায় নতুন এই ধারার যাত্রীসেবায় যুক্ত হয়েছে মোটরসাইকেলও।

আমেরিকাভিত্তিক ডাটা ভক্সেল ইনকরপোরেটের সহযোগিতায় ডাটা ভক্সেল লিমিটেড ঢাকায় অ্যাপসভিত্তিক মোটরসাইকেলসেবা দিচ্ছে ২১ নভেম্বর থেকে। প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন যাত্রী এ সেবা নিচ্ছে। মোটরসাইকেলের চালক সঙ্গে একজন যাত্রী পরিবহন করছেন। প্রতিষ্ঠানটি এ জন্য মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে।

ঢাকায় যানজট এখন প্রকটতর। বেড়ে চলা গাড়ি সীমিত সড়কে প্রবল চাপ ফেলছে। স্থবির হয়ে পড়ছে নগরী। তবে গাড়িজটের মধ্যেও যাত্রীদের যাতায়াতে মোটরসাইকেল নতুন অনুষঙ্গ হয়ে হাজির হয়েছে।

তরুণদের কাছে ভারি পছন্দের যান মোটরসাইকেল। যানজটের মধ্যেও চলার সুবিধা থাকা এর প্রধান কারণ। সঙ্গে ইচ্ছামতো চালানোর জন্য স্বাধীনতা রয়েছে এ বাহনে। বড় রাস্তা ছাড়াও অলিগলিতে অনায়াসে চলে।

বিক্রি বাড়ায় মোটরসাইকেলের দাম আগের চেয়ে কমছে। বড় হচ্ছে বাজার। দেশের বাজারে ১৫টি প্রতিষ্ঠিত মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড আছে। বাজাজ, হিরো, টিভিএস, হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি, মাহিন্দ্রা এবং চীনের কিছু ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল আমদানি করে বিক্রি হচ্ছে। রানার, যমুনা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল তৈরি হচ্ছে দেশে। দেশে তৈরি মোটরসাইকেলগুলোর ইঞ্জিন আমদানি করা হলেও অন্যান্য উপকরণ তৈরি করা হচ্ছে এখানেই।

মোটরসাইকেলগুলোর বেশির ভাগই আসে ভারত ও চীন থেকে। দেশের মোটরসাইকেল বাজারের ৮৬ শতাংশই আমদানিকারকদের হাতে। বাকি ১৪ শতাংশ দেশীয় নির্মাতাদের দখলে।


মন্তব্য