kalerkantho


ডাকসু নির্বাচন : বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



ডাকসু নির্বাচন : বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে

২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁরা টেলিফোন ও ই-মেইলে অভিমত জানিয়েছেন। নির্বাচন জরুরি ছিল—সে কথা সবাই বলেছেন। বেশির ভাগই বলেছেন, নির্বাচনে কিছু অনিয়ম হয়েছে, যা কাঙ্ক্ষিত ছিল না। ফলে নির্বাচনী প্রচারণাকালে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল, তা ভোটগ্রহণের সময় যত গড়িয়েছে, তত ম্রিয়মাণ হয়েছে। একসময় বর্জনের পালা শুরু হয়। এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা ও আন্তরিকতার অভাবের কারণে হয়েছে। কেউ বলেছেন, কোনো কোনো মহল ডাকসুকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনিয়ম ঘটিয়েছে। প্রায় সবার অভিমত, সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের নির্বাচন যেন হয় এবং তা অব্যাহত রাখা দরকার। অনিয়মের অভিযোগ আর কোনো ক্ষেত্রে যেন শুনতে না হয়

 

► ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে ডাকসু। ডাকসু সংগ্রহশালা তাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ধারণ করে রেখেছে।

ডাকসু সর্বদা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ডাকসুর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ডাকসু নির্বাচন বন্ধ থাকায় জাতীয় রাজনীতিতে যোগ্য নেতৃত্বের সংকট দেখা দিয়েছে। অবশেষে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল সেই ডাকসু আবার ফিরে আসুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কে এম আলমগীর

চট্টগ্রাম।

 

► ডাকসু নির্বাচন ভালো হয়নি। তবে অনেক দিন পর নির্বাচন হয়েছে, সেটা আশার খবর। এখন সবাইকে রায় মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে এবং অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোরা, পিরোজপুর।

 

► ২৮ বছর পর অনেক আবেগ ও ব্যাপক উদ্দীপনায় ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেল। তবে কর্তৃপক্ষ কারচুপির ঘটনা অস্বীকার করলেও অনেক শিক্ষার্থী মানতে পারছে না এ নির্বাচন। ডাকসু নির্বাচন যতটা এবং যেভাবে কাঙ্ক্ষিত ছিল, সেভাবে হয়নি কারচুপির কারণে। এরই মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী অনশন ধর্মঘট পালন করছে বলে দেখা যায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায় তারা।

নুর মুহাম্মদ ওবাইদী

মীরগঞ্জ, ফেনী।

 

► ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, এটা খুশির সংবাদ। দুঃখের বিষয় হলো, যিনি ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি কিন্তু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করতে তেমন পারবেন না। যদি ছাত্রলীগের সভাপতি ভিপি নির্বাচিত হতেন তাহলে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করতে পারতেন।

সাকিব আল হাসান

রৌমারী, কুড়িগ্রাম।      

 

► জাতীয় নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ করত, তাহলে ডাকসু নির্বাচন আরো ভালো এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো। যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা ভালো কাজ করবেন। শিক্ষার্থীদের যোগ্য প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন, এটিই আশা করি।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ।

 

► ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হলো, এটা অনেক বড় ব্যাপার। যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা দেশের সব শিক্ষপ্রতিষ্ঠানের আদর্শ হয়ে উঠবেন এবং জাতীয় রাজনীতিতেও ভূমিকা রাখবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবেন। এটিই আশা করি।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবনির্বাচিত ভিপি ও জিএসের কাছে অনুরোধ, তাঁরা সঠিক নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখবেন; বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন। হানাহানি ও রক্তপাত দূর করে সবাইকে নিয়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের, ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, এটাই প্রত্যাশা।

আফিয়া ফারজানা ইরিন

খটখটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুর।

 

► দেশবাসী আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ, পক্ষপাতমূলক ও অনিয়মের নির্বাচন প্রত্যক্ষ করল। এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে। ডাকসু নির্বাচনে শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আচরণ ছিল পক্ষপাতমূলক ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্দেহজনক। রাতে ব্যালট পেপার না পাঠানো এবং ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অগ্রাহ্য করেছে। যাই হোক, দেরিতে হলেও ভিপি ও জিএসের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঘোষণা এসেছে। এ ঘোষণাকে অভিনন্দন জানাই।

মো. ইলিয়াস হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর।

 

► ডাকসু নির্বাচনে মেয়েদের হলে যেহেতু পেশিশক্তির প্রদর্শন কম হয়, তাই সেখানে খানিকটা নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে। নিরপেক্ষভাবে সেখানে জয় পেয়েছে হলের মেয়েরা। সার্বিকভাবে বলা যায়, ডাকসু নির্বাচন অনেকটাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। তা না হলে ক্ষমতাসীন দলের কাউকে হারানো সম্ভব হতো না।

ফরিদুল হক

ফুলবাড়ী সদর, কুড়িগ্রাম।

 

► ডাকসু নির্বাচন হয়েছে। এটি সবার জন্য আনন্দদায়ক বিষয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। প্রার্থীদের অনেকের আপত্তি ছিল। ভিসি কারো কথা আমলে নেননি। এটা সুলক্ষণ নয়। অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা যা হয়েছে, তা সমর্থন করা যায় না। ডাকসুর নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। তিনি বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখবেন কি?

ডা. সৈয়দ আজিজুল হক

স্টেডিয়ামপাড়া, মাগুরা।

 

► ডাকসু নির্বাচন দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাণের দাবি ছিল ডাকসু নির্বাচন। সেই দাবি পূরণ হয়েছে। সব মিলিয়ে বলব, নির্বাচনের পরিবেশ ছিল ভালো। কিন্তু একটি হলে কিছু ব্যালট পেপারে সিল মারা ছিল। সেটি আমরা গণমাধ্যমে দেখতে পেয়েছি। জাতির জন্য সেটি লজ্জাজনক। কারণ যেখানে মানুষকে নৈতিকতা শেখানো হয়, সেখানে যদি অনৈতিক কাজ করা হয়, তাহলে সেটি মেনে নেওয়া কঠিন। এটি কখনো কাম্য নয়। যারা এই ব্যালট পেপারে সিল মারার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের কি বিচার হওয়া উচিত নয়? তারা কি অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে? জাতি চেয়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দিকে। তারা কি সিদ্ধান্ত নেয় তা দেখার জন্য। সবারই প্রত্যাশা, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কার্যক্রম চলুক।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► ডাকসু নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, যাঁদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় তাঁরাই সংসদে যান, সরকার গঠন করেন, স্থানীয় সরকার চালান। ডাকসু নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, পেশিশক্তির ব্যবহার আর অপকৌশল হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় ভিপির পদে কোনো চাপের কাছে মাথানত করেনি বা সেটির ক্ষেত্রে অপকৌশলও কাজে দেয়নি। এ অবস্থায় আমি মনে করি যাঁরা জয়ী হয়েছেন তাঁদের সবার উচিত নিজ নিজ দায়িত্ব গ্রহণ করা। ডাকসু সক্রিয় এবং ক্রিয়াশীল থাকলে আগামী বছর নির্বাচনে এবারের মতো অন্তত এতটা নৈরাজ্য কেউ করতে পারবে না। হাজারো শিক্ষার্থীর ভোটে ভিপি হয়েছেন নুর, কয়েকটি হলে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সরকারি ক্ষমতার বিরুদ্ধে এ জয় একেবারে সহজ কোনো কথা নয়। আপনারা দায়িত্ব নিলে তা ভোটারদের উল্লসিত করবে এবং ক্যাম্পাসে আনন্দময় পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে। এ জয় ধরে রাখতে এবং কাজে লাগাতেই ডাকসুর ভিপিসহ নির্বাচিত সবার উচিত দায়িত্ব গ্রহণ করা এবং সক্ষমতা প্রমাণ করা।

আব্দুর রহমান

দক্ষিণ বিজয়পুর, গৌরনদী, বরিশাল।

 

► ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুনাম আছে। কিন্তু এ কী দেখল জনগণ ১১ মার্চ নির্বাচনে? অনাকাঙ্ক্ষিত সব ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। এত বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে যে নির্বাচন হয়েছে, তা কতটা সফলতা বয়ে আনবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কয়েক দিন আগেও দেখেছিলাম এই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে এক ধরনের আনন্দ ও আবেগ। নির্বাচনের পর তারাই এখন দোলাচলের মধ্যে আছে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দেশের সচেতন রাজনীতি করা জনগণ বিপুল আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন থেকে জনগণ কী শিক্ষা পেল? আর এত বছর পর এই ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের আরো বেশি সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► ডাকসু নির্বাচন দু-একটা অঘটন ও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া ভালো হয়েছে। এখন দলের লেজুড়বৃত্তি ছেড়ে ছাত্রদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে ছাত্রনেতারা কাজ করবেন বলে আমি আশা করি। নির্বাচিত ভিপি নুর ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন তা জানতে এত দেরি হলো কেন? এখন জরুরি কাজে নেমে পড়া।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনের নির্বাচন নিয়ে এমন কাণ্ড শোভন নয়। গ্রহণযোগ্যও নয়। এখান থেকে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কী শিখবে? আবার নির্বাচনের দাবি উঠেছে। এটা যৌক্তিক বলে মনে করি।

তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন হয়েছে। যা হয়েছে মন্দ কি?। জয়-পরাজয় সবার মেনে নেওয়া উচিত। তবে কিছু শিক্ষার্থীর বাড়াবাড়ি আমাদের বড্ড আহত করেছে। ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে আমি বড়ই আনন্দিত। যা হয়েছে ভালো হয়েছে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। তবে ছাত্রীদের হলে কয়েক জায়গায় নির্বাচন ভালো হয়েছে। মন্দের ভালো যে নির্বাচন হলো। এখন দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজে নেমে পড়তে হবে। ভালো দৃষ্টান্ত রাখতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► সুদীর্ঘ তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দ্বার খুলে দিয়েছে জনগণের শেষ ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত মহামান্য হাইকোর্ট। আর সেই নির্বাচনকে বিতর্কিত করেছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও দলগুলোর দাবি ছিল স্বচ্ছ ভোটের বাক্স সরবরাহ করা, আসল-নকল যাচাইয়ের জন্য ব্যালটে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সিল দেওয়া, আবাসিক হলগুলোর বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা, পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতির সুযোগ দেওয়া, ভোটগ্রহণের শেষ সময় বাড়ানো। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব দাবির প্রতি কোনো ধরনের সম্মান প্রদর্শন না করে ভোটগ্রহণ করতে গিয়ে যেভাবে নিজেরা নাজেহাল হয়েছে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করেছে, তা ইতিহাসে বিরল।  

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও এ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবু যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন তাঁদের অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে এখনো সারা দেশে আলোচনা-সমালোচনা চলছে; ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলছে। ক্লাস বর্জন চলছে। এসব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার। ছাত্রসমাজ দেশের ভবিষ্যৎ। ছাত্রনেতারা একদিন জাতীয় নেতা হবে। দেশের বড় বড় রাজনীতিকরা একসময় ছাত্ররাজনীতি করেছেন। নেতৃত্বের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য ডাকসু নির্বাচনসহ সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচন দরকার। অথচ তা হয়নি। অবশেষে ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হলো। এটা জরুরি ছিল। নবনির্বাচিত নেতাদের উদ্দেশে বলব, শিক্ষার জন্য অস্ত্র নয়, কলম দরকার। সেই কলম হয়ে উঠুক উন্নয়নের হাতিয়ার। বর্তমানে ক্যাম্পাসে যে অসন্তোষ চলছে তার অবসান হোক।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন। ছাত্র আন্দোলনকে স্বাগত জানাই, তা নিয়ম-নীতির মধ্যে হোক। সাধারণ একজন ছাত্র ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন, এটি আশাপ্রদ ব্যাপার। তাঁকে অভিনন্দন।

রাশেদুল ইসলাম

ভাঙ্গুরা, পাবনা।

 

► ডাকসুকে বলা হয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে ডাকসু। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে। ডাকসু থেকে উঠে এসেছেন দেশের অনেক জাতীয় নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছেও ডাকসু অন্য রকম এক ভালো লাগার বিষয়।

শাহা আলম ইসলাম

আকবপুর, মিঠাপুকুর, রংপুর।

 

► ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রশ্নাতীত হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। দুর্ভাগ্য, কর্তৃপক্ষ তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের সন্তানরা যেভাবে আহত হয়েছে, তার ক্ষত কিভাবে দূর করা যাবে তা আমার ঘিলুতে ঢোকে না। স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে যারা ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রয়োজন বলে মনে করি। ভবিষ্যতে দৃঢ় ঐক্যে বাংলাদেশকে দাঁড়াতে হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মননশীলতায় গড়তে হবে। সবাইকে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে। দাবি আদায়ে উচ্ছৃঙ্খলতা কাম্য নয়।  

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে যেমন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না, এ ক্ষেত্রেও সেই একই পরিস্থিতি দেখতে পেলাম। জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা সবাই নির্বাচনের মাঠ সমতল করার কথা বলে এসেছি। ডাকসু নির্বাচন সামনে রেখেও আমাদের একই দাবি ছিল। সব ছাত্রসংগঠন যাতে ক্যাম্পাসে সমভাবে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে পারে, তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি। আশা করেছিলাম, ডাকসু নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সবার অংশগ্রহণে ও কোনো রকম অনিয়ম ছাড়াই অনুষ্ঠিত হোক; কিন্তু তা আর হলো কই?

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

 

► অবশেষে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, আমরা খুশি। ভবিষ্যতে নেতৃত্ব তৈরি করবে, কিন্তু ডাকসু কি গণতন্ত্র চর্চায় ভূমিকা রাখতে পারবে? এখন তো নির্বাচন মূলত নিজের ইচ্ছামতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও যদি সংসদ নির্বাচনের মতো ভোট কারচুপি করা হয় তবে নির্ঘাত গণতন্ত্র বলতে কিছুই থাকবে না। ছাত্রলীগ নুরকে ভিপি মেনে নিত না, যদি তারা কারচুপি না করে বিজয়ী হতে পারত বাকি পদগুলোতে। নির্বাচন হলে তারা গুরুত্বপূর্ণ বাকি পদগুলোতে বিজয়ী হতে পারবে না। এ জন্য তারা ভিপি পদে নুরকে নির্বাচিত হতে দিয়েছে।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান

পাংগা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।



মন্তব্য