kalerkantho

নেতৃত্ব বিকাশের প্রক্রিয়ায় আবার শুরু হোক ডাকসুর পথচলা

২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



নেতৃত্ব বিকাশের প্রক্রিয়ায় আবার শুরু হোক ডাকসুর পথচলা

প্রায় তিন দশক পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ-ডাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১১ মার্চ। বিষয়টি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যও সুখবর। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবার নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা যায়। এ দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে ডাকসুর ভূমিকার কথা স্মরণ করে, এর ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেবে এবং সরকার তাতে সহযোগিতা করবে—টেলিফোনে ও ই-মেইলে এ আশা ব্যক্ত করেছেন কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা

 

►ছাত্ররাজনীতি মূল রাজনীতির প্রাণ। ছাত্ররাজনীতি কয়েক যুগ ধরে প্রাণ হারিয়েছে। ছাত্রদের রাজনীতির বর্তমান কথা হলো, সরকারি দলের অন্তর্ভুক্ত যারা থাকবে তারাই রাজনীতি করার অধিকার রাখে। অন্য কোনো ছাত্রসংগঠন উঠে দাঁড়াতে চাইলে তাদের সুযোগ দেওয়া হয় না। এটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব পরিস্থিতি বদলে দিতে হলে ডাকসু নির্বাচন হওয়া চাই স্বচ্ছ ও স্বাধীন। এ নির্বাচনে সব ছাত্রসংগঠনের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া এ নির্বাচনে পেশিশক্তি ব্যবহারে কেউ নির্বাচিত হলে বুঝতে বাকি থাকবে না ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। ছাত্রদের ভালোমন্দ বিবেচনা করে ডাকসু নির্বাচনের দরকার ছিল এবং তা যেন ছাত্ররাজনীতির প্রাণ ফেরায় এদিকে খেয়াল দেওয়া দরকার।

মুহসিন মুন্সী

দৌলতপুর, খুলনা।

 

► ডাকসু একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এই সংগঠনের কার্যক্রম সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে বিপুল প্রভাব রেখেছে। আমরা মনে করি, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নতুন করে ছাত্ররাজনীতি প্রাণ ফিরে পাবে এই সংগঠনটির মধ্য দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির নতুন হাওয়া বইবে আশা করি।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► প্রায় ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটা বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক ঘটনা। সুন্দর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি ভালো পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করি। আমলাতান্ত্রিক ও বণিকের রাজনীতি কমে গিয়ে নতুনভাবে দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি থেকেই গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজনীতির ধারাবাহিকতা আবার ফিরে আসবে। কাজেই এটা জরুরি। রাজনীতিচর্চার মধ্য দিয়ে নেতা আসুক ভবিষ্যতে। ডাকসু এতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► ডাকসু নির্বাচন আজ সময়ের দাবি। নির্বাচন না হলে নেতৃত্ব তৈরি হয় না। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধার সমাধান কম হয়। নিরপেক্ষ ডাকসু নির্বাচন হতে হবে। পাশাপাশি ছাত্রসংগঠনগুলো যেন মূল দলের লেজুড়বৃত্তি না করে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আইবুড়ো, সন্ত্রাসীরা যেন ছাত্ররাজনীতে না থাকেন। সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্ররাজনীতি দোষের কিছু নয়, যদি ছাত্রদের কল্যাণে হয়। রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্ররাজনীতিকে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থের জন্য। এটা বন্ধ করতে হবে। তবেই ছাত্ররাজনীতি কল্যাণ বয়ে আনবে দেশ ও জাতির জন্য।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

বানারীপাড়া, বরিশাল।

 

► ডাকসু নির্বাচন হলে ভালো কিছু হবে আশা করা যায়। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে থাকে গোটা দেশ। এখান থেকেই অনেক ঐতিহাসিক আন্দোলন ও কর্ম সাধিত হয়েছে। আমরা মনে করি, ডাকসু নির্বাচন হলে নতুন করে প্রাণ আসবে ছাত্ররাজনীতিতে।

নীলিমা চৌধুরী

ফার্মগেট, ঢাকা।

 

► আমাদের দেশের অতীতে সব সংগ্রামে প্রথমে ছাত্ররাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে, সেই বীরসন্তানদের অবদান আমরা কখনো ভুলব না। সন্তান শুধু পরিবারের সম্পদ নয়, দেশেরও সম্পদ। বর্তমানে সেই সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা নেই, যখন-তখন খুন বা গুম হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাই কোনো মা-বাবা রাজনীতিতে তাঁদের সন্তানদের জড়িয়ে পড়তে দিতে চান না। তবে এটা ঠিক যে দেশের মানুষ চায় তারা আগের মতো সততার সঙ্গে রাজনীতিতে ফিরে আসুক।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আড়জতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচন। এতে সবার মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর হচ্ছে এ নির্বাচন। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরাও উজ্জীবিত। দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই শুরু হয়েছিল ডাকসু থেকে সব ধরনের আন্দোলনের সূত্রপাত। আর যাঁরা এতে আগে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁরা এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন। তাই তাঁরা এখন ছাত্র-ছাত্রীদের মৌলিক চাহিদাগুলো সম্পর্কে অবগত আছেন। আমার মতে, এ নির্বাচনের মাধ্যমে আবার প্রাণ ফিরে পাবে ছাত্ররাজনীতির ধারা। এটা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গৌরবের বিষয়। আমার জানা মতে, ডাকসুর শেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৬ জুন। এরপর মেয়াদ শেষ হলেও আর কোনো নির্বাচন হয়নি। নানা জটিলতার কারণে এটা প্রায় বন্ধ ছিল। এ সরকারের এ মেয়াদকালে আবার ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচনের পালে হাওয়া লাগায় সবার মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এখন আমরা আশা করব, সুন্দরভাবে ডাকসু নির্বাচন করে আরো একটি গণতান্ত্রিক মাইলফলক ছুঁয়ে যাবে আমাদের দেশ। আমরা চাই কোনো সংঘাত নয়, একটি সুস্থ সুন্দর লেখাপড়ার পরিবেশ পাক সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা।  ডাকসু নির্বাচনের আমেজ ছড়িয়ে পড়ুক দেশের সব শিক্ষার্থীর প্রাণে—এই প্রত্যাশা করি।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► জাতির বাতিঘর, আন্দোলন-সংগ্রামের পীঠস্থান একটা সুন্দর নির্বাচন জাতির সামনে উপহার দেবে ছাত্রসমাজ। দেশবাসী জানবে, দেখবে আমাদের সন্তানরা অতীতের সেই সংগ্রামের মশাল হাতে নিয়ে আবার নির্বাচনে এসেছে জাতির সামনে নীতিবোধের পরিচয় দিয়ে, ভবিষ্যৎ দেশের কর্ণধার হয়ে। শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচন হোক। প্রতিহিংসা নয়; সহাবস্থানে থেকে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না করে সম্মিলিত ছাত্রসমাজ তাদের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আসুক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দৃঢ় অবস্থানে থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুক। স্বাধীনভাবে শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি হোক। নৈরাজ্য পরিস্থিতি যেন সর্বোচ্চ শিক্ষাঙ্গনে সৃষ্টি না হয়, যেকোনো মূল্যে শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা রক্ষা করা, জাতির মনে আশার আলো সঞ্চার করা ছাত্রসমাজের গুরুদায়িত্ব। নতুন আশা ফুটে উঠুক ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে—এটাই আশা করি।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► প্রাচ্যের অক্সফোর্ড, স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, সামরিক সরকারগুলোর মূর্তিমান আতঙ্ক, জাতির বিবেকের মানমন্দির হিসেবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে দুই যুগের বেশি সময় ধরে গতি কম ছিল সত্য, তবে দমে থাকেনি। স্বৈরাচারী সামরিক সরকারসহ নিকট-অতীতের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভিত কাঁপানোর প্রথম পদক্ষেপ কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই নিয়েছিলেন। ডাকসু ও আবাসিক হলের নেতাদের অনেকেই আজ দেশের রাজনীতিতে নিয়ামক ভূমিকা রাখছেন। ছাত্ররাজনীতি নিয়ে দেশে কিছু বিতর্ক আছে, তবে সেটা ধর্তব্যের মধ্যে নেই। আমরা মনে করি, ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতির বন্ধ্যকরণের প্রক্রিয়ার অবসান হবে এবং সারা দেশে ছাত্ররাজনীতি প্রাণ ফিরে পাবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

মুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► ছাত্ররাজনীতি মানে কোনো বিশেষ দলকে সমর্থন নয়। বর্তমানে আদর্শিক চেতনা থেকে বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী রাজনীতির চর্চায় নামে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আবাসিক হলভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির যে ধারাটি গড়ে উঠেছে, তা অসুস্থ রাজনীতির চর্চা। ১৯৯০ সালের পর আর ডাকসু নির্বাচন হয়নি। দেশের প্রধান বাম ছাত্রসংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। চলমান পরিস্থিতিতে ডাকসু নির্বাচন কতটা সফল হবে সে প্রশ্ন তোলাই যায়। তবুও ডাকসু বা ছাত্রসংসদ নির্বাচন যে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া তাতে সন্দেহ নেই। দেশে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ছাত্রদের মধ্যে নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বিদ্যমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত পরিবেশের কারণে ছাত্রদের মধ্যে দাসত্বের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, ছাত্রসংসদ নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে—এ আশঙ্কা মোটেও অমূলক নয়। দাসত্বের প্রবণতা বন্ধ করতে হলে নিয়মিত ছাত্রসংসদ নির্বাচন দরকার। শিক্ষাব্যবস্থায়ও পরিবর্তন দরকার। ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিকে শুভ লক্ষণ হিসেবেই দেখি।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

 

► আসছে ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন। এ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতীত থেকেই বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির একটি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। আমরা দেখেছি ’৫২, ’৬৯ ও ’৯০ সালের সফল ছাত্ররাজনীতি। আমরা ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে সেই ছাত্ররাজনীতির সোনালি দিনের পুনরাবৃত্তি চাই। আশা করি এ নির্বাচনোত্তর ছাত্ররাজনীতি আরো শিক্ষাবান্ধব হবে। ছাত্রসংগঠনগুলো আবার তাদের মেধা, শ্রম, সংঘবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, হানাহানি, রক্তপাত বন্ধ করে শিক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আনবে—এ প্রত্যাশাই রইল।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, রংপুর।

 

► আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অবশ্যই ছাত্ররাজনীতি প্রাণ ফিরে পাবে। প্রায় তিন দশক পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কৃতিত্বের দাবিদার। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ সৃষ্টি এবং সহাবস্থানের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নজর দেবে বলে আশা করি। যে কয়টি প্যানেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে সবার সঙ্গে সমান আচরণ করতে হবে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতা দেখাতে হবে। দীর্ঘদিন ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় দেশের ছাত্ররাজনীতির এ কেন্দ্র ছিল উপেক্ষিত। খোলা হয়নি ডাকসু ভবন। ছাত্র নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেনি। এরশাদ সরকারের আমলে হয়েছিল সর্বশেষ নির্বাচন। তারপর কী কারণে এ নির্বাচন বন্ধ ছিল তা দেশবাসী আজও জানতে পারেনি। আদালতের মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় দেশবাসী খুশি। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিকশিত হবে নতুন নেতৃত্ব। নির্বাচনের নামে যাতে প্রহসন না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে কর্তৃপক্ষকে। শুধু ডাকসু নয়, সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসায় ছাত্রসংসদের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলে শিক্ষাঙ্গনে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে মনে করি।

মুহা. আব্দুল হান্নান

মানপুর, লাখাই, হবিগঞ্জ।

 

► ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অনেক দিন পর। ছাত্ররাজনীতির বড় একটি পরিবর্তন আশা করি সামনের দিনগুলোতে। মেধা ও মননসমৃদ্ধ শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে যত দিন না আসবে, তত দিন আমাদের রাজনীতির ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তিগুলো থেকেই যাবে। আমরা প্রতিনিয়তই যে জায়গায় অভাববোধ করি, সে জায়গাগুলো হলো রাজনীতিকদের নৈতিক চিন্তার অপর্যাপ্ততা। এখানেই ছাত্ররাজনীতি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। দিকনির্দেশক কিছু শিক্ষার্থী রাজনীতিতে আসবে, নেতৃত্বে আমরা দেখতে পাব দৃঢ়চেতা কিছু মানুষ, দূর হবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুর্দশাগুলো। এটা বড় প্রত্যাশা। নির্বাচনপ্রক্রিয়া এ কারণেই হতে হবে গঠনমূলক ও অনন্য। ডাকসু নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে—এটাই প্রত্যাশা।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► দীর্ঘদিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে অবাধে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রসংগঠনগুলো সহাবস্থানের, সম্প্রীতির চর্চা করুক। ডাকসু তার গৌরবজনক ভূমিকা আবার পালন করবে বলে আশা রাখি।

মো. হুমায়ুন কবীর বাবু

দক্ষিণ বানিয়াগাতি, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

 

► আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন। এ নির্বাচন সম্পন্ন হলে ছাত্ররা ভালো কিছু করার সুযোগ ও প্রেরণা পাবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছাত্রদের সমস্যা সমাধানের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন। এটি ইতিবাচক বিষয়। আশা করি পর্যায়ক্রমে সব ছাত্রসংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হোক।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► ছাত্ররা জাতির ভবিষ্যৎ। ছাত্ররাজনীতি জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ দেশে যুগে যুগে যত অর্জন হয়েছে, তার বেশির ভাগ ছাত্রদের মাধ্যমেই হয়েছে। ছাত্ররা নীতি ঠিক রেখে চললে দেশের লাভ। ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হলে দেশের রাজনীতিতে সুষ্ঠু আবহ সৃষ্টি হবে। ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হোক।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► প্রায় তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনের উদ্যোগ আগেও নেওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত হয়নি। ডাকসু নির্বাচন বিষয়ে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উপাচার্য। ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা সম্প্রীতি-সহাবস্থানের মনোভাব দেখিয়েছেন। আশা করা যায়, ডাকসু নির্বাচনের পর অন্যান্য ছাত্রসংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে। আমরা আশায় আছি।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস টার্মিনাল, ঝিনাইদহ।

 

► ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে ছাত্রসংগঠনগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ২৮ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্রসংগঠনগুলো ঝিমিয়ে পড়েছিল। ছাত্রসংসদ অচল ছিল। ছাত্র-ছাত্রীরা বঞ্চিত রয়েছে। ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—সব আন্দোলনেই ডাকসুর নিয়ামক ভূমিকা ছিল। ডাকসু নেতারা মুক্তিযুদ্ধেও ভূমিকা রেখেছেন। ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হোক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করি। এ নির্বাচন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির দ্বার খুলে দেবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সব ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাবেক ভিপি-জিএসদের পদচারণে ক্যাম্পাস প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আমি সৌভাগ্যবান এ জন্য যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয়ে বেগম সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রী হিসেবে ডাকসুর ভোটার হতে পেরেছি। শিশুকাল থেকে শুনে আসছি ঢাবিসহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও নেতৃত্ব বিকাশে ডাকসু ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু স্কুল ও কলেজজীবনে ডাকসু নির্বাচনের কথা শুনিনি। এবার ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছি—শুকরিয়া। সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয় নজর দেবে, এটি আশা করি। নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবাই আন্তরিক হবেন বলে আশা করি।

সুলতানা জাহান রুমি

ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

► আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি ছাত্রদের প্রাণের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। সব সংগঠনের অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক সহাবস্থান, ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন। ডাকসু নির্বাচন নতুন প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের উজ্জীবিত করবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

মন্তব্য