kalerkantho


রাজনীতিকদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সাম্প্রতিক সংলাপের মধ্য দিয়ে প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা অপরাজনীতির কবল থেকে দেশ মুক্ত হতে চলেছে। প্রতিহিংসা, সংঘাত-সংঘর্ষের রাজনীতিতে সমঝোতা ও সহনশীলতার সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। এ কারণে সারা দেশে উত্সবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা আগে দেখা যায়নি। দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। সব পক্ষকে আরো সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। উসকানিমূলক, অসত্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, বিরোধিতা থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা বা সংঘাত চলতে দেওয়া যায় না। মিথ্যাচার ও নেতিবাচক রাজনীতির ধারা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। যেকোনো ঘটনার জন্য অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো অবস্থায়ই কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছৃঙ্খলতাকে সমর্থন দেওয়া যাবে না। দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে শীর্ষ নেতৃত্বকে অবশ্যই দায়িত্বশীল হতে হবে। সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব ইসিকে অবশ্যই পালন করতে হবে। শুধু সব দলের অংশগ্রহণই নয়, নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও প্রার্থীর অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ‘জিতলে ভালো আর হারলে খারাপ’ অর্থাত্ হেরে গেলে নির্বাচন মানি না, এ সংস্কৃতি থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জয়-পরাজয় দুটিই মেনে নিতে হবে। পুরো নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করে না—এমন সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি মেনে নেওয়াই উচিত। তবে বড় ধরনের অনিয়ম অবশ্যই মেনে নেওয়া যাবে না। নির্বাচন বর্জন বা বয়কটের সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। নির্বাচনের মাঠে থেকেই অনিয়ম ও ত্রুটি-বিচ্যুতির প্রতিবাদ জানাতে হবে। মানুষ আর হামলা-মামলা ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতি দেখতে চায় না। সবাই চায়, দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি ফিরে আসুক, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকুক, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

 



মন্তব্য