kalerkantho


সব পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সব পক্ষের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না

নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে অংশগ্রহণকারীরা অর্থাৎ রাজনৈতিক দল বা জোট ও প্রার্থীরা সহযোগিতা না করলে তা সম্ভব নয়। তারা যদি কমিশনের আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা চালায়, কালো টাকার ব্যবহার না করে, পেশিশক্তি প্রয়োগ না করে, সংঘাত-সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকে—তাহলে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ক্ষুণ্ন হওয়ার কারণ নেই। দলের বা জোটের নৈতিক দায়িত্বও আছে। নির্বাচনকালে সরকারের ভূমিকা সহায়তামূলক, কর্তৃত্বমূলক নয়। সরকারি দলকে বা জোটকে এ কথা মরমে রাখতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক দল বা জোটের সম্পর্ক সহায়ক ও পরিপূরক হতে হবে। ভোটের ফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা সব দলে থাকতে হবে। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

►    অবাধ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন আমরা দেখতে চাই। এ জন্য কোনো রাজনৈতিক দল ও জোট দাগি সন্ত্রাসী, গুণ্ডাপাণ্ডা, খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না—এটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। অসৎ, আদর্শহীন, নীতিহীন, ঋণখেলাপি, লুটেরা—এরা যাতে নমিনেশন পেতে না পারে, এদিকে প্রতিটি দল ও জোট সচেতন থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায়। মনোনয়নপত্র কিনতে এসে শোডাউনের নামে যে নেতার কর্মীরা পুলিশের যানবাহন পুড়িয়েছে, হামলা চালিয়ে পুলিশকে আহত করেছে, নিশ্চয়ই তারা ওই নেতার লালিত ও পালিত সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী লালন-পালনকারীরা যাতে নির্বাচনে নমিনেশন পেতে না পারে সেদিকে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও জোট সচেতন থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। সবাইকে এটাও মনে রাখতে হবে, শিক্ষিত ও জ্ঞানী ভদ্রলোকেরা নমিনেশন পেলেই দেশে সুন্দর একটি নির্বাচন হতে পারে, নতুবা নয়।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রায়বাহাদুর রোড, আদর্শপাড়া, পিরোজপুর।

 

►    গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক কিছু করার আছে। জনগণ চিন্তাভাবনায় অনেক এগিয়েছে, তাদের পরিবর্তিত মনোভাবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসূচি ঠিক করতে হবে, ভোটকেন্দ্র যাতে সংঘাতমুক্ত রাখা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে এবং গ্রহণযোগ্য, সৎ ও দক্ষ লোকদের মনোনয়ন দিতে হবে।

সামসুদ্দিন বাহার

নোয়াখালী সদর।

 

►    সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে, পুলিশ ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। সরকারকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, মন্ত্রীদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সেনাবাহিনীকে নির্বাচনী কাজে সহায়তার দায়িত্ব দিতে হবে। এসব করতে পারলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

মো. তৌহিদুর রহমান টিটো

রাধানগর, পাবনা।

 

►    সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে আন্তরিকতা, সচেতনতা ও সহযোগিতার মনোভাব থাকতে হবে। সব দল ও জোট যদি এসব বিষয় নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

►    ক্ষমতা দখলের ঢাল হিসেবে নির্বাচনকে না নিয়ে জনগণের সেবক হওয়ার সুযোগ চাওয়া, মননশীলতা ও  মানসিকতায় সমৃদ্ধ হওয়াই সব দল ও জোটের এক নম্বর করণীয় বলে মনে করি। সুষুম ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়ার দায়িত্বে যাঁরা নিয়োজিত আছেন, তাঁরা কঠোর হস্তে যেকোনো অপকৌশল ব্যর্থ করবেন—এটা সব দল ও জোটকে অনুধাবন করতে হবে। জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। তাদের আনন্দঘন পরিবেশ উপহার দেওয়াই রাজনৈতিক দল ও জোটের কৌশল হতে হবে। একটা শক্তি ইলেকশনে পানি ঘোলা করে ফায়দা লোটার চেষ্টায় আছে, সব দল ও জোটকে এটা বুঝে কর্মপন্থা ঠিক করতে হবে। তারা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবর্তিত পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশাত্মবোধ জাগ্রত রেখে জনগণের দ্বারস্থ হলে ও নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করলে নির্বাচন অবাধ, সুষুম, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

►    দেশ ও জনস্বার্থে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন প্রয়োজন। সরকার ও নির্বাচন কমিশন আন্তরিকভাবে চাইলে সুন্দর নির্বাচন সম্ভব বলে আমি মনে করি। কোনো ধরনের পক্ষপাত ও প্রভাব যেন না থাকে। এটা কাম্য নয়। ভোটের আগে মামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। মাস্তানদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া চলবে না। তাহলেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►    সব দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। ঢাকঢোল পিটিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় না। সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও নীতি চালু রাখতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের যার যার ভূমিকা যেন ইতিবাচক থাকে, সে জন্য আন্তরিক হতে হবে। কারো কোনো প্রভাব ও ক্ষমতা প্রদর্শন করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মো. মিজানুর রহমান

বানাশুয়া, কুমিল্লা।

 

►    একদল ক্ষমতার ভেতরে আর একদল ক্ষমতার বাইরে—এভাবে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে বলে মনে করি না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসিকে শক্ত ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে। সব দলের সমান সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সর্বোপরি সব দলের আন্তরিকতা, সচেতনতা এবং বিশ্বাসের সমন্বয়ে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

মু. মোকাদ্দস হোসাইন

গ্রামপাঙ্গাসী, সিরাজগঞ্জ।

 

►    সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব দলকে নির্বাচনী আচরণ ও বিধি মেনে চলতে হবে। ইসিকে আন্তরিক হতে হবে। হট্টগোল না করে সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব যেমন ইসির, তেমনি সব দলেরও। পুলিশকে ব্যবহার না করে তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। কোনো গোলযোগ হলে তদন্ত করে দ্রুত সমাধান বের করে প্রয়োজনে কেন্দ্র স্থগিত করে দিতে হবে। 

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

►    এবারে ইসি সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে চলেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাদের ভালো একটি নির্বাচন উপহার দেবেন বলে মনে করি। তাই দরকার সব দলের নির্বাচনী আচরণ মেনে চলা, কোনো কিছু নিয়ে নির্বাচন বন্ধ বা বয়কট করার চিন্তা না করা। সবার আন্তরিকতা, অংশগ্রহণ এবং প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►    রাজনীতি মানেই হচ্ছে দেশ ও জনগণকে সামনে নিয়ে আসা, মানুষের জন্য কথা বলা। ক্ষমতা বিষয়টির চেয়েও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো সবার সংসদে কথা বলার ব্যাপারটি সামনে নিয়ে আসা। যখন কোনো সরকার নির্বাচিত হয় তখন যাঁরা বিরোধী থাকেন তাঁরা সরকারের ভালো ও মন্দ দিক নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু এখনো আমাদের দেশে কারা নির্বাচনে যাবে আর কারা যাবে না—এ সিদ্ধান্তগুলো নিয়েই বারবার আলোচনা করা হয়। এতে বিঘ্ন হয় সামনের দিনগুলোতে করণীয় ঠিক করা নিয়ে, ঢাকা পড়ে যায় সঠিক উদ্দেশ্য। যখন কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তখন সাংবিধানিক উপায়ে সবার প্রথমে গুরুত্ব দেওয়া উচিত কিভাবে নির্বাচনটি সুষ্ঠু করে নিজেদের সংসদের একজন সদস্য হিসেবে জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য ব্যবস্থা করা যায়। প্রয়োজন সবাই মিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। ভালো একটি ইশতেহার, দেশকে নিয়ে সুন্দর একটি ভাবনা ও সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় ঠিক করতে পারলেই সেটা ভালো রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য বলে বিবেচনা করা যায়। আশা করি সব রাজনৈতিক দল দেশের ও নিজেদের স্বার্থেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। 

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

►    একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য নির্বাচন হওয়া চাই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। দেশের আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য নির্বাচন কমিশন, সরকার, নির্বাচকমণ্ডলী ইত্যাদির পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোরও করণীয় বিষয় রয়েছে। রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর উচিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। কোনো ধরনের বিরূপ বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ না করে বরং একে অন্যের সঙ্গে রাজনৈতিক আচরণ করা। নির্বাচনী প্রচারণায় অন্য দলের বিরুদ্ধে কোনো বানোয়াট বা প্রতিহিংসামূলক ধারণা জনসমক্ষে প্রচার না করে বরং নিজেদের বাস্তব রূপ ও ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য উপস্থাপন করা। অযৌক্তিক কোনো দাবি তুলে কোনো ধরনের আন্দোলন বা নির্বাচন কমিশনকে তাদের কাজে অসুবিধা সৃষ্টি না করা। এমন কোনো সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা না করা, যেগুলো জনদুর্ভোগ ডেকে আনে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সহিংসতা ও সব ধরনের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার উদ্দেশ্যে সব রাজনৈতিক দল ও জোটকে সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সর্বাবস্থায় রাজনৈতিক আচরণবিধি মেনে চলা। এমনটা হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশা করা যায়।

মুহম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

►    নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক জোট নতুন কিছু নয়। এর আগেও জোটের এমন চিত্র দেখা গেছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দল ও জোটের শুধু সমঝোতা ও নিঃশর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া অন্য কোনো করণীয় আছে বলে মনে করি না। তবে নির্বাচনে জিতলে সব ঠিক আছে আর হারলেই কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের নামে জনভোগান্তি সৃষ্টির মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে যা করার নির্বাচন কমিশনকেই করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এটাই উপযুক্ত সময়, যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে সর্বস্তরের জনগণের আস্থার প্রতিদানের পাশাপাশি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার।

মো. আল-আমিন ইসলাম

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

►    সরকার ও বিরোধী দল সবার রাজনীতি হতে হবে কল্যাণকর ও অর্থনীতিবান্ধব। ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন জাতির জনকের স্নেহধন্য জাতির মেধাবী সন্তান নির্ভীকচিত্তে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সৎ মানুষের রাজনীতি গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং আইন ও সুশাসনের প্রতি নৈতিক অবস্থান—স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির মধ্যে লড়াই জনগণ সাদরে গ্রহণ করবে। সব রাজনৈতিক দলের সমান দায়িত্ব হবে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা। ক্ষমতাসীন দল সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে, নির্বাচনের তারিখ পিছিয়েছে, এসব ভালো দিক। গণতন্ত্রের হাতকে শক্তিশালী করতে চাই দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এবং জাতির জনককে স্বীকার করে নীতি ও আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে গঠনমূলক সমালোচনা। গণতন্ত্রের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে সমান দায়িত্বের পরিচয় দিতে হবে। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকলে, সব দলের ভেতরে ও বাইরে নির্বাচনী আচরণ ও বিধি মানলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

►    সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা; কালো টাকার মালিকদের মনোনয়ন না দেওয়া, পেশিশক্তির ব্যবহার না করা। সব দলকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, ফল যা-ই হোক, তারা মেনে নেবে। সংঘাতে জড়ানো যাবে না।

হুমায়ুন কবীর বাবু

দক্ষিণ বানিয়াগাতি, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

 

►    সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পথে একটি বড় বাধা। এ অবস্থায় সবচেয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সহজ হবে না। জোটের ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল সংলাপে নির্বাচনের পূর্বাপর সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আরো জোরালোভাবে সরকারের সঙ্গে আলাপ করা, জোর দিয়ে বোঝানো কোন বিষয়গুলোর সমাধান করা। বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি যতটা জোরালোভাবে পেশ করা হয়েছে, সংবিধানের এই অনুচ্ছেদটি সংশোধনের ব্যাপারে ততটা জোরালো দাবি সামনে আসেনি। দলীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলেও বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে এই সরকারের অধীনেই অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রত্যাশা যে, আগামী নির্বাচন গত নির্বাচনের মতো পক্ষপাতদুষ্ট হবে না। সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

►    রাজনৈতিক দল বা জোটের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার মানসিকতা থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা ও প্রতিপক্ষকে সমান সুযোগের ব্যবহার করতে দেওয়ার মানসিকতা অবশ্যই থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, পুলিশকে সেভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে। তবেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে সরকার, বিরোধী দল ও জোট, নির্বাচন কমিশন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। বেশির ভাগ মানুষ চায়, নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক। রাজনীতির মারপ্যাঁচ তারা বোঝে না, তাদের কাছে নির্বাচন উৎসব। সেটা সুষ্ঠুভাবে হলেই তারা খুশি। ভালো কাজ করলে নির্বাচনে জয় কঠিন নয়। নির্বাচন এখন টাকার খেলা, পেশিশক্তির মহোৎসব। রাজনৈতিক দল বা জোটকে এসব বন্ধ করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দল ও প্রার্থীকে সহনশীল  হতে হবে।

আবদুল খালেক

দাসপাড়া, নরসিংদী সদর।

 

►    রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থায় ড. কামাল হোসেন প্রকৃত অভিভাবকের আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে সরকারবিরোধী প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে একটি ছাতার তলে এনে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির যে সবক দিয়েছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। তাঁরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদার মন-মানসিকতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় আজ প্রায় সব বিরোধী রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য সর্বত্র সরব। এই সরবতাকে অক্ষুণ্ন রাখার মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে সরকার ও সরকারি দল এবং তাদের দলভুক্ত রাজনৈতিক জোটকে। সরকার যদি বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের ভাষায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর পথ প্রশস্ত করে দেয়, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে কোনো কোনো দল বা জোটের যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে তা যে বাহ্যত কেটে যাবে, এটা শতভাগ নিশ্চিত। কোনো ধরনের হঠকারিতা ও জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির আশ্রয় না নিয়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিজ নিজ অবদান রাখতে সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট থাকবে। স্মরণ রাখতে হবে দেশ সরকারি বা বিরোধী দলের নয়; দেশ আমাদের সবার।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

►    নির্বাচন সফল করতে হলে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অকারণে মামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীর পক্ষ থেকে সব দলেরই একজন করে এজেন্ট থাকা দরকার, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে এক সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের এই সম্মানজনক অবস্থান ধরে রাখতে হলে অবশ্যই দূরদর্শী, বিচক্ষণ, দৃঢ়চেতা ও সাহসী এবং রাজনীতিতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন। সুতরাং সাম্প্রতিক সংলাপের সাফল্য-ব্যর্থতা, জয়-পরাজয় ইত্যাদির হিসাব না করে দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের মঙ্গলের জন্য সব দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। এ জন্য রাজনৈতিক দল বা জোটকে আগ্রহী হতে হবে।

মো. মিজানুর রহমান

পাংগা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।

 

►    সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু করণীয় আছে বলে মনে হয় না। রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিহিংসাপরায়ণ। গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করে হলেও ক্ষমতায় যেতে হবে—এ চেষ্টায়ই থাকে তারা। নির্বাচন কমিশনকেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সহিদুল মোড়ল

নলিয়ান, দাকোপ, খুলনা।

 

►    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান ইসি এখন পর্যন্ত নিজেদের নিরপেক্ষতার যথেষ্ট প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি বিরোধী দলগুলোর ক্ষেত্রে একটু জোরালোভাবে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিরা মিলে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করলে জনগণ আশার আলো দেখতে পায়। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট জনগণের আশানুরূপ রাজনৈতিক পটভূমি তৈরিতে ব্যর্থ। সরকারের সঙ্গে সংলাপ খুব ফলপ্রসূ নয়। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে ইসিকেই। আসন্ন নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ শেষ পর্যন্ত হবে কি না তা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের আচরণের ওপর। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশনকে প্রয়োজনবোধে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। প্রতিটি দলে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা প্রতিনিধি হিসেবে প্রাধান্য পাক, এটিই কাম্য।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

 

►    গণতন্ত্রে নির্বাচনের মূল চালিকাশক্তি হলো জনগণ। জনগণই তৈরি করে দিতে পারে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি। প্রতিটি মানুষই চায় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলের নির্বাচনে আসা জরুরি। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে রাজনৈতিক জোট ও দলের কোনো অপশক্তিকে ব্যবহার করা উচিত হবে না। সুষুমভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য দরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সৎ ও কঠোর ভূমিকা।

মো. সোহেল মোল্যা

রামকান্তপুর, সালথা, ফরিদপুর।

 

►    সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব রাজনৈতিক দলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী বিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা চালানো উচিত। যেহেতু বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে তাদেরই ভূমিকা নিতে হবে। সব দল যাতে বাধা ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে সে ব্যাপারেও তাদের ভূমিকা রাখতে হবে। সব দল ও জোটকে সহমর্মিতার পরিচয় দিতে হবে।

মুহাম্মদ আবু তালহা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল।

 

►    অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকাকেও গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করতে হবে। প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক মিডিয়াকেও সমানভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি, নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী সময়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করার গুরুদায়িত্ব গণমাধ্যম পালন করতে পারে। সবচেয়ে জরুরি হলো গণমাধ্যমগুলোর বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। সর্বোপরি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কামনা করছি।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।



মন্তব্য