kalerkantho


আন্তরিকতা থাকলে সংলাপে ফল মিলতেও পারে

৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আন্তরিকতা থাকলে সংলাপে ফল মিলতেও পারে

অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের প্রয়োজনে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সরকার ও সরকারি দলের আলোচনা তথা সংলাপ শুরু হয়েছে। সংলাপ ফলপ্রসূ হবেই এ কথা নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায় না। আগেও সংলাপ হয়েছে, কিন্তু সফল হয়নি। এ নেতিবাচক অভিজ্ঞতা জনগণের রয়েছে। তবু আলোচনা যে শুরু হয়েছে, প্রারম্ভিক পর্বে এটাই আশাব্যঞ্জক। সব পক্ষই যদি হুঁশে থেকে দাবি উত্থাপন করে এবং আলোচনা করে, তাহলে চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উপায়ের সন্ধান মিলতেও পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহিষ্ণুতা বেশি প্রয়োজন। গণতন্ত্রকে সাবলীল করতে গেলে সংলাপ-সমঝোতার বিকল্প নেই। শুধু নির্বাচন নয়, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সংলাপ হতে পারে। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► সংলাপ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সবাই নির্বাচন চায়, কিন্তু সংলাপের বিষয় ও নির্বাচনী ভাবনাগুলো সবাই যেভাবে চায়, তা কি বাস্তবায়ন হবে? সংলাপের চেয়েও যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, নির্বাচনের আগে দেশকে স্থিতিশীল রাখা। দেশের অর্থনীতি নির্বাচনের সময়ে এসে হোঁচট খায়। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে যে রাজনীতি প্রত্যাশিত, সেই পথে জাতীয় নেতারা এগিয়ে যাবেন। এ জন্যই সব দলের অংশগ্রহণ ও সহনশীল মনোভাব প্রয়োজন। সংলাপ শেষে এবং নির্বাচনের আগে আমরা দেখতে চাই, সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। সব দলের অংশগ্রহণে সংসদে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হবে। এই প্রক্রিয়া চালু হলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরো উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► কৃষ্ণ মেঘমালা গলতে শুরু করেছে। সংলাপে উন্নতি কিছুটা হলেও হবে। শতভাগ স্বপ্ন কখনো সফল হয় না। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুয়ার যে সব সময় সবার জন্য খোলা, তা আবারও প্রমাণিত হলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে। কাজেই আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এই সংলাপ জরুরি ছিল।

মোমিন হৃদয়

ফুলজোর, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

► বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। যে দেশের সব ক্ষমতার উৎস একমাত্র জনগণ। নির্বাচন হলো জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যম। কয়েক দিনের মধ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর এদিকে ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি ছিল। তবে প্রধান দাবি ছিল সংসদ ভেঙে দিয়ে সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছুই করা হবে না। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল যদি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলেই সুষ্ঠু হতে পারে নির্বাচন। আমাদের প্রত্যাশা, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► রাজনীতির সুষ্ঠু চর্চার জন্য সংলাপ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার হয়তো বিরোধী দলের সব দাবি মেনে নেবে না, তবুও কিছু বিষয়ে সুরাহা হবে। এতে দুই পক্ষেরই উপকার হলো বলে মনে করি। বিরোধী দলকে এগিয়ে যেতে সংলাপ সহায়তা করবে বলে মনে করি।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক অশান্তি থেকে মানুষ মুক্তি পেতে চায়। এটা প্রাথমিক পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু খুব একটা আশার আলো দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগবিরোধী দলগুলো ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার মধ্য দিয়ে সমাজের স্বীকৃত ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে সরকার পরিচালনায় আসতে চায়। সরকার নানাভাবে বিরোধী দলের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে রাজনৈতিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হবে বলে মনে হচ্ছে না। কিছু দাবি বাদ দিয়ে বিরোধী দলের দাবি মেনে নিলে বরং সাধারণ মানুষের উপকার হতো।  সময় ও প্রয়োজন অনুসারে সংবিধান কমবেশি করা যায়। বিরোধী দলকে স্বাভাবিক সুযোগ ও কর্মতৎপরতা চালাতে দিতে হবে। বাধা তৈরি করা সমীচীন হবে না।

শহীদুল মোড়ল

দাকোপ, খুলনা।

 

► ঐক্যফ্রন্টের উচ্চপর্যায়ের নেতারা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন জোটের নেতাদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছেন। সংলাপে উভয় পক্ষই নিজ নিজ বক্তব্য অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপনে সক্ষম হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে করা এবং না-করা নিয়ে মতদ্বৈধতা হয়েছে। বর্তমান রাজনীতির নতুন মেরুকরণ ভেলকিবাজি ছাড়া আর কিছুই নয় বলে সাধারণ জনগণের অভিমত। তবে আসন্ন সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করার জন্য পুলিশকে বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেপ্তার থেকে নিবৃত্ত করা, গায়েবি মামলা থেকে বিরত থাকা, নির্বাচন সামনে রেখে অহেতুক গ্রেপ্তার বাণিজ্য করে প্যানিক সৃষ্টি না করা, বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার প্রতিরোধ করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কড়া তৎপরতা পরিচালনা করা, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসারের সংখ্যা বাড়ানো এবং চিহ্নিত প্রার্থীদের প্রতি নজর দেওয়া আবশ্যক। সংলাপ ভালো হয়েছে। আমরা এই ভালোকে কেন্দ্র করে আরো ভালোর দিকে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাক—এটাই প্রত্যাশা করছি।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► সংলাপ শুরু হয়েছে। আশা করি রাজনীতির ধূম্রজাল কেটে যাবে। গণতন্ত্রের মানেই হলো আপস। আপস মানে পারস্পরিক সমঝোতা, মীমাংসা। প্রচলিত আছে—রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। কিন্তু এ কথা স্বীকার করতে হবে, সবার ওপরে দেশ। সুষম গণতন্ত্রের জন্য সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সরকারপ্রধান বলেছেন, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করতে চান না। তাই তিনি ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে সংলাপের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সংলাপ চলবে। এ সংলাপ যেন লোক দেখানো না হয়। ‘বিচার মানি, কিন্তু তালগাছটা আমার’—এমন মানসিকতা থাকলে সংলাপ সফল হবে না। আশা করি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

 

► সংলাপে আওয়ামী লীগ সাড়া দিয়েছে। সংলাপ শুরু হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসে এ প্রক্রিয়া শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যান্য দলের সঙ্গেও সংলাপ হবে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যই সংলাপ। তবে সংবিধানের বাইরে কিছু করা যাবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রস্তাব ও পরামর্শ দেওয়া।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ হলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। কারণ ক্ষমতাসীনরা কখনো ঐক্যফ্রন্টের দাবি মেনে নেবে না। তারা লোক দেখানো সংলাপ করবে আর আশ্বাসের বাণী আওড়াবে। সংলাপের নামে তারা সময়ক্ষেপণ করবে, যাতে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে উঠতে না পারে। এটা আওয়ামী লীগের একটা কৌশল। সেই কৌশলের ফাঁদে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা পা দিয়েছেন। সাত দফা দাবির জন্য রাজপথের বিকল্প নেই। এটা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বুঝতে হবে। খালেদা-তারেককে ক্ষমতার বাইরে রাখার যত ধরনের কৌশল আছে, তার প্রয়োগে কিছুই আর বাকি নেই। বলা চলে, তারা এখন বিএনপি থেকে আউট। রায়ের আগে সংলাপ হলে হয়তো খালেদা-তারেকের সাজা স্থগিত রাখা সম্ভব হতো। সংলাপে বসে বিশেষ ফায়দা হবে না—এটা এখন অনেকটা পরিষ্কার। সংলাপের আগেই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সংবিধানের বাইরে কোনো আলোচনা হবে না। সংবিধান পরিবর্তনের সময়ও নেই। এ সংলাপ যে লোক দেখানো, তা এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে।

মো. তাওহীদ সরদার নাঈম

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

► রাজনীতিতে নির্বাচন সামনে এলে আমাদের মাথায় আসে সংলাপের বিষয়। গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার হিসেবে দল ও নেতাদের ভালো-মন্দ নিয়ে কথা বলা হয় এই সংলাপে। জনগণই তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগে সচেষ্ট হয় এই সংলাপের মাধ্যমে। তাই সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শুরু হয়ে গেছে সংলাপ। নির্বাচন কমিশন সব রাজনৈতিক দল ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের দিকে নজর রেখে সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনী রাজনীতি সফল করবে—এটাই রাজনীতির নিয়ম। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ নিয়ে চারবার সংলাপের আয়োজন করা হলো। আগে যে তিনবার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলো সফল না হলেও এবারের সংলাপ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সব রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ দাবিতে অনড় থাকায় এবারও সফলতা ছাড়াই সমাধানবিহীন সংলাপ শেষ করতে হলো। ফলে জনগণ এখন হতাশ। এবারের সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে উজ্জীবিত হয় বিএনপি। কিন্তু তাদের সাত দফা দাবির প্রথমটি ছিল খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি। ফলে সংলাপ ফলপ্রসূ হয়নি। আসলে প্রথম সংলাপই যে সফলতার মুখ দেখবে, বিষয়টা এমন নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের লক্ষ্যে যে আলোচনা বা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, এটাই আমাদের কাছে অনেক পাওয়া।

মাহিন চৌধুরী

মদন থানা, নেত্রকোনা।

 

► সংলাপ শুরু হয়ে গেছে। যাঁরা সংলাপে বসেছেন, তাঁরা তাঁদের মনের কথাই বলেছেন। যে কথাগুলো মূল্যহীন, তা জনগণ আর সংলাপে শুনতে আগ্রহী নয়। শুধু দাবিদাওয়া আর দাবিদাওয়া। ওই সব দাবিদাওয়া জনগণের কাছে মূল্যহীন। সংলাপে এসে রাজনীতিকরা বলেননি দেশের উন্নয়নধারা ধরে রাখতে হবে। দেশ এগিয়ে চলছে, এগিয়ে চলুক। যদি কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে পারি, তবে আর লুটপাট করব না, জনগণকে ধোঁকা দেব না। দেশকে ভালোবাসব, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে বাধ্য থাকব। খাম্বার টাকা আর কোনো দিন পকেটে ভরব না। সংলাপে উঠে আসতে পারে, বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি। আবার ফিরে যাব বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রে। সংলাপে চার মূলনীতির কথা উত্থাপন করলে বুঝব, দেশের সবাই একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাস করেন। সংলাপে জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ সব দল মেনে নেবে, এটাও উত্থাপন হওয়া প্রয়োজন।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► সবাইকে প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে। বিরোধী যে ফ্রন্ট রয়েছে, তাদের ভেতরে কিছু কিছু দল আছে যেমন প্রতিহিংসার রাজনীতি, সন্ত্রাসের রাজনীতি করে, জঙ্গিবাদী রাজনীতি করে। তারা যদি এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, তাহলে সুন্দর সমাধান হবে। জঙ্গিবাদ, সহিংস রাজনীতি, পেট্রলবোমার রাজনীতি, আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতি থেকে যদি তারা বেরিয়ে আসতে পারে, অনেক কিছুই সমাধান সম্ভব।

তপন কুমার মহন্ত

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► প্রধানমন্ত্রীর সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রত্যাশিত সমাধান না পাওয়ার মাধ্যমেই শেষ হলো বহুল আকাঙ্ক্ষিত সংলাপ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তেমন কিছুই বলেননি। সংলাপ যেহেতু সাত দফার ওপর ভিত্তি করে ছিল, সেহেতু এ ব্যাপারে তাঁর বিস্তারিত মতামত বা সিদ্ধান্ত সবার প্রত্যাশিত ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়ায় সংলাপের ফলাফলের ব্যাপারে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও সভা-সমাবেশে বাধা থাকবে না, গণগ্রেপ্তার বন্ধ হবে জানানো হয়েছে। এটা কতটা পালনযোগ্য হবে এবং বিরোধীপক্ষ নিশ্চিত থাকতে পারবে কি না, সেটা আলোচনাযোগ্য। সংলাপ শেষ হওয়ার পরও যদি কোনো সমঝোতায় না আসা যায়, তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ভালোর বদলে খারাপ প্রভাব বেশি পড়ারই সম্ভাবনা বেশি। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থার বিষয়ে সমঝোতা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

মুহাম্মদ আবু তালহা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল।

 

► সংলাপে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে বলে মনে হয় না। কারণ আমাদের দেশে জনগণের সেবক পরিচয়দানকারী রাজনৈতিক নেতারা সবাই তাঁদের আগের কর্মফল ভোগ করছেন। আমরা যখন জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম তার আগে ৭ই মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে অনেক দিন সংলাপ হয়েছিল। তাতে আমাদের লাভ হয়নি, বরং ক্ষতি হয়েছিল। বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের সংলাপ সফল হয়নি। সিরিয়াস অবস্থায় কোনো হার্টের রোগীর পক্ষে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় আসা কি সম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপের সেই দশা। সংলাপ নিয়ে চলমান উত্তেজনা কয়েক দিন পরেই কেটে যাবে।

আবদুল খালেক

দাসপাড়া, নরসিংদী সদর।

 

► সংলাপের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের দ্বার উন্মুুক্ত হলো। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। কারণ অনেক দিন ধরেই সরকার ও বিরোধী দলের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল। সেটা এতে ঘুচে গেল। নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হলো। পৌনে তিন ঘণ্টার সংলাপে অনেক কথা উঠে এসেছে। এতে কিছু সমস্যার হয়তো সমাধানও হবে। গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এটা দরকার ছিল। সংলাপ নানা কারণেই দরকার।

এম এ সাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।

 

► গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী সেই সুযোগ দিয়েছেন গণতন্ত্রের খোলা দরজায়। ঐক্যফ্রন্টের নেতা পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেছিলেন। সংবিধানপ্রণেতা জাতির জনকের নিকটজন হিসেবে ছিলেন আস্থাভাজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই জাতির জনকের কন্যার সঙ্গে জাতির জনকের আপনজনের সংলাপ, গণতন্ত্রের বাতাস প্রবাহিত হোক। সফল গণতন্ত্রের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হোক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। উভয়ের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে ১৬ কোটি মানুষের ভোট উৎসব। নির্ভেজাল গণতন্ত্রের চর্চায় অগণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, গোঁড়া ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক শক্তি আশ্রয় না পায়—ক্ষমতাসীন দল তথা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে এটাই প্রত্যাশা। ভোট প্রদান করে জনগণ তার নৈতিক দায়িত্ব পালন করে সুখনিদ্রায় যাবে, বিনিদ্র রজনীতে যেন রাত কাটাতে না হয়—এ দায়িত্ব ও আস্থা তৈরি করতে হবে। আমরা দেখতে চাই জনগণের জন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন, আর এই উন্নয়নে যিনি আত্মনিয়োগ করবেন তিনিই হবেন দেশের জনগণের ক্ষমতার অধিকারী। সব কিছু নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর। নির্বাচনের প্রার্থী যেন জনগণের মধ্যে পুঁজি বিনিয়োগ না করে, ব্যবসার ফাঁদ না পেতে, প্রকৃত জনসেবায় আত্মনিয়োগ করে। রাষ্ট্রের জনগণ এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে থাকবে, কারণ সংলাপে সমাধানের পথ খুলে যাবে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

►  খোলামেলা আলোচনা ইতিবাচক। সংলাপ চালিয়ে যেতে হবে। জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এটাই আশা।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► এ সংলাপে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। বর্তমানে কোনো পক্ষই বিন্দুমাত্র ছাড়ের অবস্থানে নেই। উভয়ের টার্গেট ক্ষমতা। মানুষ চায় নিজেদের মতো করে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে। এ কথা সব দলকেই বুঝতে হবে। নয়তো সংলাপ সময়ক্ষেপণ মাত্র।

ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ

বারইয়ারহাট, মীরসরাই, চট্টগ্রাম।

 

► সংলাপে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে কি না জানি না। তবে এতে আশার সঞ্চার হয়েছে। সারা দেশে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ অবাধে করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার বন্ধ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ঐক্যফ্রন্টের বাকি দাবিগুলো নিয়ে আরো আলোচনা হবে। এতে বাংলাদেশে সহাবস্থানের সমসুযোগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দেশকে সমৃদ্ধ করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এবারের সংলাপ একটু ভিন্ন। এতে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারকদের অনেকেই অংশ নিলেন। সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করতে হয়। সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের দ্বিমত সত্ত্বেও গণতন্ত্রের স্বার্থে একা দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আলোচনার টেবিলে বসেছেন। অনেক বিষয়ে তিনি ছাড় দিয়েছেন। প্রত্যাশিত সমাধান জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখনো পায়নি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসী আশ্বস্ত হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের পরিবেশ থাকবে বলে আশা করি।

মুহা. আব্দুল হান্নান

মানপুর, লাখাই, হবিগঞ্জ।

 

► সংলাপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান সম্ভব। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ড. কামাল হোসেনের গড়া ঐক্যফ্রন্ট সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দেয়। প্রধানমন্ত্রীও সংলাপের দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন। সমাঝোতা ও সংলাপ ছাড়া দেশের পরিস্থিতি ভালো দিকে নেওয়া সম্ভব নয়। বহির্বিশ্বে দেখা গেছে বড় বড় সমস্যা সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করা হয়েছে। রাজনৈতিক অবস্থা যখন উত্তাল হয়ে পড়ে, তখন জনগণের ভেতর ভয়ভীতি কাজ করে। নির্বাচনে জনগণ যদি সুষ্ঠুভাবে তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে না পারে, তাহলে হতাশা কাজ করে। সরকারি দল ও বিরোধী দল আলোচনার মাধ্যমে ভালো কিছু বয়ে আনবে, এটাই সবার প্রত্যাশা। সংলাপে যে দাবি মানা সম্ভব নয়, সেই দাবি তুলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করাই ভালো।

মো. সোহেল মোল্যা

রামকান্তপুর, সালথা, ফরিদপুর।

 

► সংলাপে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না বলে মনে করি। কারণ এ সরকার পাঁচ বছর ধরে বিরোধী নেতাকর্মীদের জেল-জরিমানা করেছে, হয়রানি করেছে। কেউ এলাকায় শান্তিতে থাকতে পারে না। মানুষকে বোকা বানানোর জন্য সরকার সংলাপের ব্যবস্থা করেছে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► সংলাপ শুরু হওয়ায় সুবাতাস বইছে। স্বাধীনতার পর যত সংলাপ হয়েছে, কোনোটিই সফল হয়নি। সরকারের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ হয়েছে। এটি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। শ্রমিকরা সংলাপের পক্ষে। সংলাপ সফল হোক।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস টার্মিনাল, ঝিনাইদহ।



মন্তব্য