kalerkantho


রাজনীতির কয়েক অবস্থা

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



দেশের রাজনীতিতে তিনটি অবস্থান তৈরি হয়েছে। সেসব অবস্থানের আলোকেই আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্ন বিবেচিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা কোনো রাজনৈতিক সংকট দেখছে না, কেননা বিরোধী দলগুলো ক্ষমতাসীনদের জন্য এখনো কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয় অবস্থানটি হলো এই বিবেচনা যে আসন্ন নির্বাচন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং বিরাজমান দোআঁশলা শাসনব্যবস্থা ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম পদক্ষেপ। এটি অনিবার্য পদক্ষেপও। এই বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই কমবেশি সব বিরোধী দলের দাবিনামা প্রণীত হয়েছে এবং ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠনের তাগিদ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে বা এককভাবে এমন একটা নির্বাচনের দাবি করছে, যেখানে সবার অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। তবে নির্বাচনে-আন্দোলনে কে কার সঙ্গে থাকবে, কে কতটুকু ছাড় দেবে, তা এখনো অস্পষ্ট। বিএনপি নেতাদের অন্যতম সিদ্ধান্তের বিষয় হচ্ছে, তাঁদের কাছে প্রাধান্য পাবে কোনটা—ক্ষমতার হাতবদল নাকি তাঁদের ভাগ্যবদল, নাকি বিরাজমান ব্যবস্থার অবসানে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপে যুক্ত হয়ে সহযোগিতা করা। ত্যাগ স্বীকারের প্রসঙ্গটিও আসে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির আন্তরিকতার দিকেই সবার নজর থাকবে। নির্বাচন শুধু উল্লম্ব  জবাবদিহির সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু আনুভূমিক  জবাবদিহির নিশ্চয়তা ছাড়া গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব। বিএনপি সবার অংশগ্রহণে স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি থেকে সরে যায়নি। তবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্যপ্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিকল্পধারার যোগদান না করার যেসব কারণ বলা হচ্ছে, সেসবের মধ্যেও এমন একটি যুক্তি রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে যারা আছে, তাদের একেবারে নাকচ করে দেওয়া অসমীচীন। শুধু ইতিহাস নয়, সম্ভাব্য ভবিষ্যেক বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে—এটি তারা নিশ্চয়ই বিবেচনায় রাখছে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সমালোচকরাও এটা স্বীকার করছেন যে সবচেয়ে খারাপ গণতন্ত্রেও মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত বদলের এবং ভুল নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকে। আসন্ন নির্বাচনের প্রশ্নে বাংলাদেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর এই অবস্থান হচ্ছে বাস্তবতা। ভবিষ্যতে নাটকীয় পরিবর্তন না ঘটলে এসব অবস্থানই বলে দেবে, নির্বাচনের আগে কী ঘটবে, কী ধরনের নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনের পরে রাজনীতির পথরেখা কী হবে।

মুহাম্মদ আহসানুল করিম

সিইপিজেড, চট্টগ্রাম।



মন্তব্য