kalerkantho


কোটার যৌক্তিক সংস্কার কাম্য

৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



যারা রাজপথে নেমে এসেছিল বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতির একটা যৌক্তিক সংস্কারের দাবি নিয়ে, তাদের সেই দাবি তো পূরণ হয়নি। কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন তীব্র রূপ ধারণ করেছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, কোটা নিয়ে যখন এত ঝামেলা, তখন কোটাই থাকার দরকার নেই। শেষমেশ তাঁর ঘোষণাটাই সত্যি হলো। যদিও সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছে সচিবপর্যায়ের বিশেষায়িত কমিটির সুপারিশ অনুসারেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কোটা প্রথা পুরোপুরি বিলুপ্ত করাটা আন্দোলনকারী ছাত্রদের দাবির কোথাও ছিল না। তারা যতবারই তিন দফা বা পাঁচ দফা দাবি তুলেছে, কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছে। সরকারি চাকরিতে শতকরা ৫৬ জন কোটায় সুযোগ পাচ্ছে, এটা একেবারেই অযৌক্তিক এবং অমানবিক। তারা বলেছিল, মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকুক, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী বা পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্যও কোটায় একটা নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ রাখা হোক। কিন্তু সেটি যেন সহনীয় মাত্রার হয়। বর্তমান সরকার বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বও ছিল তাদের হাতে। কাজেই আমরা সাধারণ মানুষ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, কোটা বাতিল হলেও পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী বা আদিবাসীদের জন্য কোটা ভীষণ দরকার। তাদের পাশে কে দাঁড়াবে? কোটা বাতিল করে দেওয়াটা কোনো সমাধান নয়, কোটা বাতিলের দাবিও কেউ তোলেনি। সবাই একটা যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছিল, সেই সংস্কার চেয়েই ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় মার খেয়েছে, জেল খেটেছে, মামলার খড়্গ মাথায় নিয়ে ঘুরেছে। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত সংস্কারটা কেন হলো না, তা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব নয়।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।



মন্তব্য