kalerkantho


ইভিএম নিয়ে হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি কাম্য নয়

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ইভিএমসহ যেকোনো ধরনের প্রযুক্তি নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য আগে থেকেই সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্য দরকার। যেখানে আগের সংলাপে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলই ইভিএমের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কেন ইভিএমে ভোটগ্রহণে ইসির এত আগ্রহ? আগে থেকেই প্রকল্প নিয়ে সব কিছু ঠিকঠাক করে দলগুলোকে সংলাপে ডাকা হলে ‘সরষের মাঝে ভূতের’ মতো কোনো নেতিবাচক বার্তা ভোটারদের কাছে যাবে কি না, আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে এটি নেতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা যাচাই-বাছাই করতে হবে। এসব বিষয় ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্বাচন যখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে, তখন অতি উৎসাহী কোনো সিদ্ধান্ত যেন কাউকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ করে না দেয়—ইভিএমে ভোট নেওয়া, না নেওয়ার চেয়ে তা নিশ্চিত করা বেশি জরুরি। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের ঐকমত্য ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত যে হবে না, তার কী নিশ্চয়তা আছে? আগের সংলাপে যেহেতু অনেক দল ইভিএমের বিরোধিতা করেছে, সেহেতু নতুন করে সংলাপ ডাকা হলে তারা এর পক্ষে কথা বলবে, তার নিশ্চয়তা কী? সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসি নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু সে সিদ্ধান্ত যেন অপ্রীতিকর কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করে এবং প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে না ফেলে। আরপিও সংশোধন, প্রকল্প পাস, সংলাপ ও ভোটগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষিত করে তোলা যাবে কি না, সেটিও ভেবে দেখার বিষয়। সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোকে ইসি সামনে অগ্রসর হবে এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সচেষ্ট হবে—এটাই আমাদের কাম্য।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।



মন্তব্য