kalerkantho


ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এখনই উদ্যোগ নিন

২৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এখনই উদ্যোগ নিন

ঈদের সময় বেশির ভাগ মানুষ বাড়ি ফিরবে, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবে। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সবার আগে সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার করতে হবে। দেশের বেশির ভাগ সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা। বেপরোয়া গাড়ি চালনা, মহাসড়কের পাশে দোকান বসানো, ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারি—এসব বন্ধ করতে হবে। যানজট, যানবাহন ছাড়ার সময়সূচি, লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির চলাচল, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী তোলা—এসব দিকেও নজর দিতে হবে। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► ঈদের সময় অতিরিক্ত ব্যবসা করার জন্য লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি, এমনকি নছিমনও হাইওয়েতে চলাফেরা করে। গাড়ির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে যানজট লেগেই থাকে। ঈদের আগে ও পরের তিন দিন হাইওয়েতে ট্রাক ও লরি বন্ধ রাখতে হবে। ট্রেনের বগি ও বাসের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। অনলাইনে টিকিট কেনার সুযোগ ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। সব রকম অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইওয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দিতে হবে।

মো. মিজানুর রহমান

বানাশোয়া, কুমিল্লা।

 

► যানজট নিরসনে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে—অতিরিক্ত মালামাল বহন বন্ধ করতে হবে; সড়কপথে দায়িত্বরত পুলিশ বাড়াতে হবে; ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে;  চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। আর সব ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কালোবাজারে যেন টিকিট চলে না যায়। র‌্যাবের যে তৎপরতা চলছে, এটা যেন অব্যাহত থাকে। আর এ ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের সরাসরি তদারকি দরকার।

নাদিম খান

ভাইজোরা, পিরোজপুর।

 

► মানুষ আপনজনের সঙ্গে ঈদ করতে নিরাপদে ঘরে ফিরবে, এটাই আমাদের চাওয়া। সব ভাঙা ও অকেজো রাস্তা ঈদের আগে মেরামত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় রাখতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অদক্ষ ড্রাইভারকে বাদ দিতে হবে। যত্রতত্র বাজার ও পার্কিং বন্ধ করতে হবে। মানুষের বিবেক সবচেয়ে বড় আদালত, এটা মনে রাখতে হবে ও মানতে হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ।

 

► ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালগুলোয় ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের নিয়োগ দিতে হবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য। দিনের বেলায় কার্গো গাড়ি, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান এসবের চলাচল সীমিত করতে হবে। ঘরমুখো মানুষ যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। হাইওয়ে পুলিশ ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রেন ও বিভিন্ন গাড়ির টিকিট যেন কেউ ব্ল্যাকে বিক্রি করতে না পারে তার জন্য সতর্কবার্তা জারি করতে হবে।

হোসাইন শাহাদাত  

নোয়াখালী।

 

► সারা বছর চেষ্টা না করে শুধু ঈদের আগে তাড়াহুড়া করে রাস্তা মেরামতে নজর দিয়ে লাভ হবে না। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। অদক্ষ গাড়িচালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ করতে হবে। লেন মেনে গাড়ি চালাতে হবে। এ জন্য হাইওয়েতে সাইকেল ও মোটরসাইকেল যেন সঠিক নিয়মে চলে, সে জন্য তদারকি প্রয়োজন।

আবদুর রাজ্জাক নাসিম

শেরপুর, বগুড়া।

 

► মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। রাস্তা সংস্কার করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। ঈদের যাত্রায় বাস, ট্রেন ও নৌপথে বগি ও গাড়ি বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। এবার যেহেতু ঈদে ছুটি কম, তাই ছুুটি বৃদ্ধি করেও যানজট নিরসন করা সম্ভব।

এম এ সাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।

 

► ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ বাড়িতে যাবেই, এটা যেমন সত্য; সড়কপথ এত অল্প সময়ে নির্বিঘ্ন করা যাবে না, তা-ও মেনে নিতে হবে। ঈদের সময় যেহেতু চাপ বাড়ে, মহাসড়কের মেরামতের কাজ এত দ্রুত সম্ভব নয়। এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় যান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখলে যাত্রা নির্বিঘ্ন করা সহজ হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের বড় ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► জল ও স্থলপথে সার্ভে করে ত্রুটি চিহ্নিত করা জরুরি। ঈদের আগেই সব পথ চলাচল উপযোগী করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সব রাস্তার খানাখন্দ, ফেরিঘাট মেরামতের কাজ সম্পন্ন করতে হবে; মালিকদের সঙ্গে জরুরি সভা করে স্টিমার, লঞ্চ, বাস প্রভৃতির মেরামতকাজ শেষ করার তাগিদ দিতে হবে; লঞ্চ ও বাস পরিদর্শন করে দেখতে হবে সেগুলো নিরাপদ চলাচলের উপযোগী কি না। রেল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে কোচ মেরামতের কাজ হাতে নিয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে সেবার হাত বাড়িয়ে দিলে ঈদ যাত্রা আনন্দমুখর হবে সন্দেহ নেই। স্বল্প দূরত্বে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিটে যাত্রী বহন করা যেতে পারে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ বিশেষ স্পটে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। দুই-তিন স্তরে নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। যানজট নিরসনের জন্য আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে হবে। রাস্তার দুই পাশে বিঘ্নকারক কোনো স্থাপনা যেন না থাকে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► সড়ক-মহাসড়কগুলোতে হাইওয়ে পুলিশকে সক্রিয় থাকতে হবে। এতে সড়কপথের বিড়ম্বনা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। টিকিটপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে ঘরে পৌঁছানো পর্যন্ত পদে পদে বিড়ম্বনা সইতে হয় ঘরমুখো মানুষকে। তবুও প্রিয়জনের সান্নিধ্যে যেতে পারার আনন্দে পথের বিড়ম্বনার স্মৃতি ও ক্লান্তি মুছে যায়। এ ক্ষেত্রে কালোবাজারি ও অযথা হয়রানি বন্ধে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে। পথের ক্লান্তি ভুলে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষ। প্রত্যেক মানুষ এবার তাদের স্বজনদের নিয়ে আনন্দে ঈদ উদ্‌যাপন করুক, এ প্রত্যাশা করছি।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি মহিলা কলেজ, কুড়িগ্রাম।

 

► সারা দেশেই সড়ক-মহাসড়কের ভাঙাচোরা জায়গাগুলো সংস্কার করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের সংস্কারকাজ দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে। জুনের ৮ তারিখের মধ্যে ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়ক মেরামতের কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। ঈদে মহাসড়কে যানজট ও ভোগান্তি রোধে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ঈদের আগে এবং পরে অন্তত এক সপ্তাহ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে উন্নয়নকাজ স্থগিত রাখতে হবে। যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়ক দখলমুক্ত করতে হবে। সড়কের পাশ ঘেঁষে তৈরি সব স্থাপনা সরাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি। অস্থায়ীভাবেও দোকানপাট বসানো যাবে না। যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে তৎপর হবে বলে আশা করি। লক্কড়ঝক্কড় মার্কা গাড়ি যেন রাস্তায় চলতে না পারে সে জন্য বিআরটিএকে ব্যবস্থা নিতে হবে। পুরনো যানবাহন চালাতে হলে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে তবেই নামাতে হবে। শিল্পাঞ্চলে বিশেষ পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া যায় কি না ভেবে দেখা দরকার। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পুলিশের পর্যাপ্ত উপস্থিতি থাকতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে শৃঙ্খলা রাখতে হবে। ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে যান চলাচলে ব্যত্যয় ঘটুক তা কাম্য নয়।

মো. শোয়েব

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যা করণীয়—সব বেহাল সড়ক এক সপ্তাহের মধ্যে সংস্কার করা; বেপরোয়াভাবে বা প্রতিযোগিতা করে বাস না চালানোর জন্য চালকদের সতর্ক করে দেওয়া; যাত্রীদের গন্তব্যস্থানে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা; মহাসড়কের পাশে বিক্রেতাদের পণ্যসামগ্রী নিয়ে বসতে না দেওয়া; ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া; সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নেওয়ার ব্যবস্থা করা; যানজট যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা; যানবাহন সময়সূচি অনুযায়ী ছাড়ার ব্যবস্থা করা, যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাতে যাত্রী ওঠাতে না পারে সেদিকে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের নজরদারি; মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কড়ঝক্কড় বাস রং করে যেন মহাসড়কে নামাতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি দেওয়া; অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা; কিছু দূর অন্তর অন্তর ট্রাফিক পোস্ট বসানো; নদীপথে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তুলতে না দেওয়া এবং ফিটনেসবিহীন লঞ্চ নামাতে না দেওয়া।

মহাসড়কে চালকদের সতর্কাবস্থায় যানবাহন চালাতে হবে। লঞ্চের মালিক, সারেং—উভয়কে সচেতন থাকতে হবে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রায়বাহাদুর রোড, পিরোজপুর।

 

► গত বছর ট্রেনের টিকিটের জন্য জমায়েত লোকদের পত্রিকায় ছাপানো ছবি দেখে মনে হচ্ছিল কোনো জনসভায় আগত ব্যক্তিদের ছবি। ঈদ যাত্রা পুরোপুরি নির্বিঘ্ন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষ চাইলে অনেকটাই নিরাপদ করতে পারে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে। টিকিট কালোবাজারি থেকে রোধ করতে হবে। কাউন্টার থেকেও উচ্চমূল্যে টিকিট বিক্রি বন্ধ করতে হবে। ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি আরো বৃদ্ধি করতে হবে। সম্ভব হলে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যানবাহন যত্রতত্রভাবে চালানো, যানবাহনকে রংসাইডে নিয়ে আসার জন্য বেশির ভাগ যানজটের সৃষ্টি হয়। ড্রাইভাররা যেন সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন পরিচালনা করে, হাইওয়ে পুলিশকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করতে হবে। ঘষামাজা করা পুরনো বাস ও লঞ্চ যেন কোনোভাবেই চালু করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► ঈদ আসে আর মানুষের বিড়ম্বনা বাড়ে, এ যেন নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার অমানবিক কষ্টের মধ্যেও মানুষকে পড়তে হচ্ছে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের কবলে। ছিনতাইকারীরা ছিনতাই কাজে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার ব্যবহার করছে। তারা ধরা পড়ছে, সাময়িক শাস্তি হচ্ছে, আবার বের হয়ে বর্ধিত আকারে তাদের কাজ করে যাচ্ছে। এর থেকে নিস্তার পেতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একমাত্র ভরসা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে এদের নির্মূল করতে পারলেই ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করা সম্ভব। পাশাপাশি রাস্তার কাজ দ্রুত সমাপ্ত করতে হবে। যানজটের কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রেন, বাস ও লঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। আর টিকিট কালোবাজারি রোধ করতে হবে।

সাদিয়া আফরোজ মরিয়ম

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য বেশির ভাগ শহরবাসী মানুষ বাড়িমুখো হয়। বাড়ি না পৌঁছা পর্যন্ত বলা যায় না ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন হয়েছে। কে কার আগে বাড়ি যাবে, এ নিয়ে শুরু হয় হুলুস্থুল। অতিরিক্ত বোঝাই বাসে-লঞ্চে চড়ে আমরা প্রাণ হারাই। এ ব্যাপারে পরিবহন কর্তৃপক্ষের সতর্ক থাকা যেমন জরুরি, তেমনি যাত্রীদেরও সতর্ক থাকতে হবে। আনফিট যান যেন না চলে; অনভিজ্ঞ চালকদের এ সময়ে যান চালানোর জন্য নিয়োগ করা যাবে না।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার করতে হবে, সড়কের পাশের বাজার অপসারণ করতে হবে, সড়কে যানবাহনের সংখ্যা এবং রেলের বগির সংখ্যা বাড়াতে হবে, অভ্যন্তরীণ সব রুটে বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে, ঈদের তিন সপ্তাহ আগে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও মালবাহী ট্রাকের চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► সব শ্রেণির মানুষ ঈদের সময় ঘরমুখী হয়। নাড়ির টান বা প্রাণের টান যা-ই বলা হোক, সবাই টান অনুভব করে। বেঁধে দেওয়া ছুটির সময়ের মধ্যেই সব সারতে হবে—এটা খুব বড় তাড়া। তাই সবাই ছুটে। আর জল-স্থল-আকাশপথে একসঙ্গে চাপ পড়ে যায়। সরকারি-বেসরকারি অফিসে আগে-পিছে ছুটির ব্যবস্থা করা হলে ভালো হয়। সারা বছরের মোট ছুটি থেকে কেটে ঈদের সময় তিন-চার দিনের ছুটি বাড়ানোই শ্রেয়। মহাসড়কে পাশের অস্থায়ী দোকান ঈদের আগে উচ্ছেদ করা দরকার। দিনে ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে হবে, সব অটো বা সিএনজি বন্ধ রাখতে হবে। দূরপাল্লার গাড়ি যেখানে-সেখানে থামানো যাবে না। গতিসীমা নিয়ন্ত্রিত থাকতে হবে, ওভারটেক নয়। ট্রেন, লঞ্চ বাড়ানো হলে ভোগান্তি কমবে, আনন্দময় হবে ঈদ যাত্রা।

মমিন হৃদয়

ফুলজোড়া, নাটুয়ারপাড়া, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

► ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা খুব গোছানো হতে হবে। স্টপেজ ছাড়া গাড়ি থামানো যাবে না, জ্যাম বাঁধানো যাবে না। ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে।

শিবু প্রসাদ মজুমদার

লেক সার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

► প্রশাসন কর্তৃক আইন প্রয়োগ করা হয় যাত্রীসাধারণের সুবিধার জন্য, আইন প্রয়োগকারীর হাত পড়ে না মূল জায়গায়। পরিবহন মালিকদের নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঈদের আগে  মতবিনিময় করতে পারে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চয় একটা পথ বেরিয়ে আসবে। উভয় পক্ষের সেই মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ও সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে পারে না। বাস ও ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারি, ধীরগতিতে ট্রেন চলা, কোথাও আছে জলমগ্ন পথ, ভাঙাচোরা পথ, গাড়ি ঘন ঘন গতিহীন হয়ে পড়ে,

আছে জলজট, যানজট—সব মিলিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। রোগী, বয়োবৃদ্ধ, শিশু যানজটে অবর্ণনীয় কষ্ট পায়, যা বর্ণনাতীত। কোথাও যাত্রীসাধারণের শান্তির যাত্রা নেই। দীর্ঘদিন পর পরিবার-পরিজনের সামনে ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দেয় যাত্রাপথে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী গণপরিবহন। বাস মালিক তথা গণপরিবহনের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► ঈদের সময় কর্মজীবী মানুষ প্রাণের টানে বাড়ি যায়। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার পথে তারা নানা ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। তাদের স্বস্তির জন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়া দরকার। টিকিটের কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে, পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে, অতিরিক্ত যাত্রী তোলা উচিত হবে না। পথে ডাকাতি-ছিনতাই রোধের ব্যবস্থা করতে হবে। সড়কে-মহাসড়কে দিন-রাত টহলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► ঈদ শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবই নয়, বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ঈদ এখন বাঙালি সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য কারো মধ্যেই যেন চেষ্টা ও আন্তরিকতার অভাব দেখা যায় না। নাড়ির টানে মানুষ ছুটে চলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বাড়ি ফেরার সে যে কী আগ্রহ ও ব্যাকুলতা বলে বোঝানো কঠিন। মানুষ ছুটে চলে তার আপন ঠিকানায়, আপন সত্তায় মাটির টানে, নিজ ঠিকানায়। আর এই আনন্দের যাত্রায় কিছু সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োগ আপনার যাত্রাকে করতে পারে আরো উপভোগ্য। হোক ট্রেন, বাস বা লঞ্চ; গাদাগাদি করে চড়তে যাবেন না। অতিরিক্ত ভার বহন করতে যাওয়াটা বেশ ঝুঁকির।

মো. শাহাআলম ইসলাম

আকবপুর, মিঠাপুকুর, রংপুর।

 

► সরকারি গণযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের ঈদে নিরাপদে বাড়ি ফেরার একমাত্র অবলম্বন হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে। আর সর্বপ্রথম এই ঈদে যাত্রা সফল করতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। সঠিক সময়ে টিকিট বিক্রি শুরু করা, ট্রেনসংখ্যা ও বগিসংখ্যা আরো বৃদ্ধি করাসহ নানামুখী পদক্ষেপ দরকার। আর দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেন ও বাসের ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে বাংলাদেশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

ফরিদুল হক

ফুলবাড়ী সদর, কুড়িগ্রাম।

 

► ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেক কষ্ট সহ্য করে মানুষ গ্রামের বাড়িতে ছুটে যায়। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কের যে অবস্থা তাতে কষ্টের সীমা আরো হাজার গুণ বেড়ে যায়। ঈদের সাত দিন আগে থেকেই যানজট শুরু হয়ে যায়। এতে জনগণের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এ জন্য মহাসড়কের দিকে সর্বদাই নজর রাখতে হবে। সড়ক ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় নির্দিষ্ট কমিটি গঠন করতে হবে। তাহলে সব সড়কের অবস্থাই ভালো থাকবে। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে কোনো ধরনের বাধা থাকবে না। রাস্তা ভালো হলে যানজট হবে না।

মো. আজিনুর রহমান লিমন

ডিমলা, নীলফামারী।

 

► বাংলাদেশে সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ হলো রেল। আর সড়কপথগুলোতে ট্রাফিক জ্যামের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে থাকতে হয়। তাই সড়কপথগুলো ঈদের ছুটির আগে মেরামত করার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি কোনো চালক ট্রাফিক আইন মেনে না চলে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনের যা শাস্তির কথা বলা আছে, সেটির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি রেলপথে বাড়তি ট্রেন সংযুক্ত করতে হবে। যাতে ঈদে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে বাড়িতে যেতে পারে। সব যাত্রীকে মনে রাখতে হবে, হকারদের কাছ থেকে কোনো জিনিস কেনাকাটা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করাটাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। বিশেষ করে ঈদ যাত্রায় সড়ক-মহাসড়কে যানজট চরম আকার ধারণ করে। এ নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার এখন থেকেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই ঈদ যাত্রায় নির্বিঘ্ন ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যেকোনো অনিয়ম রুখতে তাদের আরো কঠোর হতে হবে। বাস-ট্রেন-লঞ্চ থেকে শুরু করে সব ধরনের যানচালকদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করা আবশ্যক। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো এবং এ বিষয়ে যাত্রীদের সচেতন হতে হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমগুলোতেও প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। নিরাপদ হোক সবার পথযাত্রা।

মো. তারিফ হাসান

কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী।



মন্তব্য