kalerkantho


শিশুদের গৃহবন্দিত্ব ঘোচাতে হবে

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



একটি শিশু পৃথিবীটাকে জানতে ও বুঝতে পারে খেলার মাধ্যমেই। শিশুরা শারীরিকভাবে বুদ্ধি বিকশিত হয়ও খেলার মাধ্যমে। আর এখন পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকাতে প্রতিটি শিশুই ঘরবন্দি কিংবা শিক্ষালয়ে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। তারা মানসিকভাবেও বিকলাঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। শিশুর সুস্থ বিকাশ উপযোগী পরিবেশ দরকার। কিন্তু আমরা আজ খেলার মাঠ সন্তানদের দিতে পারছি না। ফলে আমাদের সন্তানরা ঘরের, স্কুলের চার দেয়ালে বন্দি জীবন যাপন করছে। না পারছে একটু দৌড়াতে, না পারছে খেলাধুলা করতে। দিন দিন তাই শিশুরা ইন্টারনেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ক্ষণিকের আনন্দ পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের সন্তানরা অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। একটি জাতির উন্নতি করতে হলে দরকার শিশুর মানসিক ও শারীরিক উন্নতি করা। গৃহবন্দি, নেটবন্দি শিশুকে দিয়ে জাতি গঠন করা অমূলক চিন্তা। আমাদের দেশে আইন আছে, কিন্তু এর সঠিক ব্যবহার নেই। থাকলে খেলার মাঠ রক্ষার জন্য আইনের আশ্রয় নেওয়া যেত। পার্ক, মাঠ বা খোলা কোনো জায়গা পেলেই গড়ে তোলা হচ্ছে বাণিজ্যিক ভবন, পার্কিং প্লেস, এমনকি কমিউনিটি সেন্টার। সবাই আয়ের চিন্তায় ব্যস্ত। কেউ ভাবে না আগামী প্রজন্ম কী করে মানসিকভাবে বেড়ে উঠবে? মাঠে খেলাধুলা করা শিশুরা মেধা ও মননে ঘরবন্দি শিশুর চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। আমাদের সন্তানের শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ দেখতে চাই। শুধু খাজনা আদায়ের স্বার্থে নয়, আমরা আমাদের সন্তানের স্বার্থে ও পরিবেশের স্বার্থে জমি দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।


মন্তব্য