kalerkantho


মেধা ও মননের বিকাশের উদ্যোগ দরকার

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আমাদের শৈশব দুরন্তপনা আর প্রাণোচ্ছ্বল ছিল। খেলার মাঠজুড়ে ছিল শৈশবের ছোঁয়া। দামি খেলনা বা কম্পিউটার গেমে কখনো খেলার মাঠের আনন্দ থাকে না। ক্রমাগত বদলে যাওয়া সময়গুলো ক্রমেই আধুনিক থেকে আধুনিকতর হচ্ছে। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের শৈশবের দুরন্তপনা। মনে পড়ে, ছোটবেলায় প্রতিদিন বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে ব্যাগটা রেখে দৌড় দিতাম মাঠে। ‘বউতোলা, ঘোপা, বরফপানি, লুকোচুরি, কপালটুক্কা, খেটি’ খেলাসহ আরো কত খেলা করতাম আমরা। বলা যায়, নানা রকম খেলার পুরো একটা ডিকশনারি ছিল আমাদের। সন্ধ্যার আজান হলে বাড়ি গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসতাম। তারপর লোডশেডিং হলে আমরা গান শুনতাম মাঠে বসে। পাড়ার পিচ্চিরা এখন রাস্তার ওপরে খেলে, নয়তো মোবাইল বা কম্পিউটার গেমে ডুবসাঁতার দেয়। শুধু আমাদের পাড়ার নয়, বেশির ভাগ খেলার মাঠই এখন বিল্ডিংয়ের নিচে বা দখলদারদের ক্ষমতার দাপটে হারিয়ে গেছে। এখনকার শিশুদের আমাদের মতো সোনালি শৈশব কোনো দিন থাকবে না। প্রতিনিয়ত এখন নতুন নতুন সংগঠনের জন্ম হচ্ছে। ফেসবুকে গ্রুপপেজ খোলা হচ্ছে, সেখানে আলোচনা করা হয় কত শত বিষয়। সবাই এলাকার উন্নয়নে ব্যস্ত। উন্নয়নের শিডিউল এতটাই লম্বা যে শিশুদের খেলার মাঠ সংরক্ষণ করার মতো ছোট্ট পদক্ষেপ ঠাঁই পায় না তাদের কাছে। আমরা বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলি, পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব। সেই আমরাই আগামীর পৃথিবীটাকে জঞ্জালে ভরে দিচ্ছি। আমরা কাদা ছুড়তে ভালোবাসি। তাই সব সময় তথ্য-প্রযুক্তিকে দোষারোপ করি; শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্তের জন্য কিন্তু নিজেদের দোষ দেখি না। আমরা প্রতিনিয়ত খেলার মাঠের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের সোনালি শৈশবটা হত্যা করছি। সবাই মিলে আসুন আমরা খেলার মাঠগুলো রক্ষা করি। শিশুদের খেলার মাঠ ফিরিয়ে দিয়ে তাদের দুরন্ত শৈশবের অংশীদার হই।

মোছা. বিলকিছ আক্তার

সরকারি মহিলা কলেজ, কুড়িগ্রাম।



মন্তব্য