kalerkantho


মাঠ-ময়দান সংরক্ষণে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মাঠ-ময়দান সংরক্ষণে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য

একসময় গ্রামাঞ্চলে অনেক খালি জায়গা ছিল। সেসব মাঠে নানা ধরনের খেলাধুলা হতো। এখন আর কোনো জমি ফাঁকা পড়ে থাকে না। তাই ভরসা স্কুলের মাঠ। কিন্তু সেগুলো ঠিকমতো দেখভাল করা হয় না। আর শহরের অবস্থা করুণ। ওয়ার্ড, সেক্টর বা ব্লকের মাঠ দখল হয়ে আছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ নেই, যেগুলোতে আছে সেগুলো সব সময় উন্মুক্ত থাকে না। এ পরিস্থিতি বেদনাদায়ক। শিশু-কিশোররা খেলাধুলা, শরীরচর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা টিভি-কম্পিউটার-মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা মেধা-মনন বিকাশের অন্তরায়। পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকেই আগে পা বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষেরও দায় আছে। দায়িত্ব নিতে হবে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদেরও। টেলিফোন ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► শিশু-কিশোরদের শারীরিক, মানসিক ও বৃদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই। মূলত সুস্থ দেহেই থাকে সুন্দর মন। সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন শিশু-কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও পার্কের ব্যবস্থা করা। ঢাকা শহরে সবার জন্য উন্মুক্ত মাঠ খুবই কম। ৬৭ শতাংশ শিশুর বাড়ির কাছে কোনো খেলার মাঠ নেই। উত্তর প্রজন্মকে এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে হবে। সব ক্লাব, ইনস্টিটিউট, স্কুল, মাদরাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার মাঠ রাখা অত্যাবশ্যক।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► খেলার মাঠ সংরক্ষণে প্রথমে প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। খেলার মাঠগুলোকে সামাজিক ও জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে খেলার মাঠ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

► রাজধানীসহ দেশের শহরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠগুলো ক্রমেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। কখনো অপদখলের শিকার হচ্ছে স্কুলের মাঠও। মাঠের জন্য ব্যবহৃত স্থান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের প্রবণতাও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অধিকারকে কেড়ে নিচ্ছে বলে মনে হয়। সাম্প্রতিককালে মাঠ বা উন্মুক্ত প্রান্তর ছাড়াই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার মচ্ছব শুরু হয়েছে। স্কুল-কলেজই শুধু নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম চালানো হচ্ছে বহুতল ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে! খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের অভাবে শিশু-কিশোররা ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহানগরগুলোতে যেখানে যে মাঠ আছে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► শৈশবকে বাঁচিয়ে রাখার মূল উপাদান খেলার জায়গা; সেই জায়গাগুলো আমরা ধ্বংস করে ফেলছি। দখল ও অপরিকল্পনাই বড় কারণ এই বিপর্যয়ের। গ্রামের স্কুলেও এখন দেখা যাচ্ছে মাঠ ছোট করে ফেলা হচ্ছে। এ থেকে বের হয়ে আসতে হলে সরকারেরই বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। ঢাকা শহরের ভেতরে যে কয়টি মাঠ আছে সেসব খেলার উপযোগী করে তোলার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি মাঠ করার পরিকল্পনা এখন থেকেই হাতে নিতে হবে। 

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► খেলাধুলা না করলে মন বসে না পড়ার টেবিলে। কারণ খেলাধুলা করলে মন ভালো থাকে। খেলার মাঠ থাকলে বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় প্রাণপ্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে বসে আড্ডা দিলে অনেক ভালো লাগে। বর্তমানে যে অবস্থা খেলার মাঠগুলো নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে একটি মহল। তারা মাঠগুলো শুধু নিশ্চিহ্ন করছে না, তারা আমাদের আনন্দ হরণ করছে।

শাহারিয়ার শাকিল

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সুস্থ, সুন্দর পরিবেশ, সাঁতারের জন্য জলাশয় এবং খেলার মাঠ দরকার। কিন্তু  মাঠ দখলে নিয়ে ক্লাব তৈরি করা হচ্ছে, দোকান বসানো হচ্ছে। জায়গা না পেয়ে শিশু-কিশোররা আকাশ সংস্কৃতি ও ভিডিও গেমে অভ্যস্ত হচ্ছে, যা তাদের মনন বিকাশের অন্তরায়। গ্রাম-শহর সবখানে মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যা যখন ১০ লাখ ছিল তখন খেলার মাঠ ছিল ৫০টি। এখন ঢাকায় দেড় কোটি মানুষের বাস, কিন্তু মাঠ মাত্র ১১টি। শিশু-কিশোররা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা গৃহবন্দি হয়ে পড়ছে। ছোট শহরেও খেলার মাঠগুলো অপদখলের শিকার হচ্ছে। ২০০৪ সালে ঢাকার ৬৮টি পার্ক-খেলার মাঠ দখলমুক্ত করার জন্য নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু কোনো অগ্রগতি নেই। সরকারকে তৎপর হতে হবে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

মেইন রোড, বাগেরহাট।

 

► দেশে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। যা আছে তার বেশির ভাগই খেলাধুলার অনুপযোগী। রাজধানীর খেলার মাঠগুলো ভরাট করে তৈরি হচ্ছে বাড়ি, ক্লাব ও দোকানপাট। অবৈধ স্থাপনা করে মাঠ দখল হচ্ছে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্বাভাবিক বেড়ে উঠতে পারছে না। পর্যাপ্ত মাঠের অভাবে আমাদের দেশে ভালো খেলোয়াড় জন্ম নিচ্ছে না। বাফুফে, বিসিবি ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ নজর দিলে খেলার মাঠগুলো উদ্ধার করা সম্ভব।

মো. জামরুল আসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► যেসব বেসরকারি স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই তাদের সময় নির্দিষ্ট করে দিয়ে নোটিশ দিতে হবে। ওই সময়ের মধ্যে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে না পারলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

শরীফ মো. মহীউদ্দীন

পাঠককান্দি, মাদারীপুর।

 

► ঢাকায় সব মাঠ দখলদারদের কবজায়, শিশুরা ঘরে বন্দি। তারা কম্পিউটার, মোবাইল, ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত থাকে। শৈশব-কৈশোর যাতে আনন্দদায়ক হয় সে জন্য মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের উচিত উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলার সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা। খেলায় থাকলে তারা প্রফুল্ল থাকবে। সরকারের উচিত বিনোদন পার্কের দিকে মনোযোগ বেশি না দিয়ে খেলার উপযোগী মাঠের ব্যবস্থা করা, দখল হওয়া মাঠ উদ্ধারের ব্যবস্থা করা।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► খেলার মাঠগুলো দখল হয়ে আছে। সেখানে দোকানপাট, ক্লাব গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব মাঠ উদ্ধার করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

বিন ইয়ামিন

মোহাম্মদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

 

► ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ-সবল দেখতে চাইলে খেলাধুলার বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। এর জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও নতুন মাঠ তৈরির বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের ভূমি সীমিত, আমাদের দেশ জনসংখ্যার বিবেচনায় খুবই ছোট। এক হাত জায়গার জন্য পাশের বাড়ির শিশুটি গুম বা খুন হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে খেলার মাঠ তৈরি ও সংরক্ষণের গুরুদায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। অনেক সরকারি পতিত জমি আছে। এসব জমি দখলমুক্ত করে খেলার মাঠ তৈরি ও তা সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। নয়তো ভার্চুয়াল জগতে আসক্ত শারীরিক ও মানসিক বিকারগ্রস্ত এক প্রজন্ম তৈরি হবে। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণ করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠ বা উন্মুক্ত প্রান্তর ছাড়াই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে রাজধানীসহ মহানগরগুলোতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম চলছে বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট ভাড়া করে।

রাজধানীতে খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের অভাবে শিশু-কিশোররা অবরুদ্ধ অবস্থার শিকার হচ্ছে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ নয়, মহানগরগুলোতে যেখানে যে মাঠ আছে যথাযথভাবে তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ থাকার বিষয়টি বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে নেওয়ার দাবি রাখে।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► খেলার মাঠ নিয়ে লিখতে বসেই হারিয়ে যাই আমার শৈশবে। সেই মফস্বলের বাড়ির উঠান, ফসলের ক্ষেত। বাড়ির পাশের যে ফসলের ক্ষেত ছিল তা এখন মাত্র ১৫ শতাংশ খালি। বাকি ৮৫ শতাংশ ফসলের ক্ষেত এখন বসতবাড়ি। মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে এখন আর ধানের শীষ, ঘাসের শিশির কিছুই দেখা যায় না। দেখা যায়, ঘরের টিন আর রড-সিমেন্টের ছাদ। মতামতের বিষয় হয়তো শহরকে কেন্দ্র করেই করা, কিন্তু আমরা কতজন জানি আমাদের গ্রামের মেঠো পথের কথা। যত কাজ ও ব্যস্ততা থাকুক, বিকেলবেলাটা ছিল আমাদের খেলাধুলা করে কাটানোর। আর এখন আমাদের পরের প্রজন্ম বিকেলে কাটায় টিভির সামনে, ভিডিও গেম হাতে, মোবাইলে, নয়তো খুব বেশি হলে একটু বারান্দায়, না হয় বহুতল ভবনের ছাদে। কেন আমাদের খেলার মাঠ হারিয়ে যাচ্ছে তা আগে খুঁজে বের করতে হবে। খেলার মাঠ হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো ক্ষমতার অপব্যবহার। বিভিন্ন সিজনে বিভিন্ন মেলার আয়োজন হয়। এই মেলা কোথায় হবে, জায়গা বেছে নেয় খেলার মাঠ। ১০-১৫ দিন মেলার জন্য দখল। মেলা শেষে সব দোকান সরে যাওয়ার কথা থাকলেও দুটি ওঠে না। থাকে কোন সাহসে? আমাদের খেলার মাঠগুলো আগের জায়গায় ফিরে আনতে ক্ষমতা যাদের হাতে তারাই পারে। সংস্কার করার আগে দখলমুক্ত করতে হবে খেলার মাঠকে। খেলার মাঠ সংস্কারের আগে দখলদারদের সরাতে হবে, খেলার মাঠ থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

রহিমা আক্তার মৌ

তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► সব বয়সী মানুষের জন্যই খেলাধুলা ও শরীরচর্চা  প্রয়োজন। খেলাধুলার জন্য অবশ্যই মাঠ প্রয়োজন। মাঠগুলো সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ করা আবশ্যক। খেলার মাঠ সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আবর্জনা ফেলে নোংরা করা যাবে না। মাদকসেবী ও মাস্তানদের কোনোভাবেই মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► দেশে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। যেগুলো আছে সেগুলোর বেশির ভাগ দখল হয়ে আছে। অবৈধ স্থাপনায় ভরে যাচ্ছে মাঠের জায়গা। খেলাধুলার পরিবেশ নেই। এসব মাঠ দখলমুক্ত করতে পারলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ পাবে।

এম এ মতিন

বেগুনবাড়ি, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। জাতিসংঘের শিশু সনদে ও আমাদের দেশের শিশুনীতিতে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। বেশির ভাগ স্কুলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে বন্দি হয়ে থাকে। অথচ শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলাও জরুরি। অনেক মাঠ অস্তিত্ব হারিয়েছে। এসব উদ্ধার করতে হবে।

মো. আবদুল হান্নান

লাখাই, হবিগঞ্জ।

 

► খেলাধুলার বেশির ভাগ মাঠই এখন গরু-ছাগলের মাঠে পরিণত হয়েছে। খেলার পরিবেশ নেই। মাঠগুলো দখল হয়ে গেছে। দখলকৃত মাঠ উদ্ধার করে সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা দরকার।

মোকাদ্দেস হোসাইন

সিরাজগঞ্জ।

 

► সুস্থ দেহ ও ভালো মন রাখতে খেলাধুলার বিকল্প কিছু নেই। কিন্তু সারা দেশে খেলার মাঠগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোরদের মেধা ও মননের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাঠ উদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► সব শ্রেণির মানুষের সুস্থ থাকার জন্য খেলাধুলা ও শরীরচর্চা জরুরি। কিন্তু দেশের বেশির ভাগ খেলার মাঠই দখল হয়ে আছে। সেখানে দোকান, বাড়ি ও ক্লাব তৈরি হয়েছে। এগুলো উদ্ধারে সরকারের সহযোগিতা দরকার বলে মনে করি। তাহলে আগামী প্রজন্ম উপকৃত হবে।

মো. আবু জাফর

কালাবগী, খুলনা।

 

► খেলার মাঠ সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা দরকার। গ্রামগঞ্জে বা শহরে খেলার মাঠ না থাকায় ছেলেরা যেখানে সেখানে খেলতে বাধ্য হয়। এতে পথচারীদেরও সমস্যা হয়। নতুন মাঠ তৈরি ও পুরনো মাঠ উদ্ধার করা গেলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► খেলাধুলার উপকারিতার বিষয়ে গ্রামগঞ্জে গণসচেতনতা বাড়াতে হবে। মা-বাবারা যেন সন্তানদের মুঠোফোন ছাড়িয়ে খেলাধুলায় মনোযোগী করে। প্রতিদিন ঘণ্টাখানেক সময় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় নিয়োজিত করতে হবে তাদের মনন ও সুস্বাস্থ্যের বিকাশের জন্য। খেলার মাঠের ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। বিদ্যমান সব খেলার মাঠ নথিভুক্ত করে সংস্কার, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করতে হবে, উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। গ্রামগঞ্জ ও শহরে স্থানীয় সম্মানিত বিত্তশালী ও গুণী ব্যক্তিদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। শহরের খেলার মাঠগুলো দখল হয়ে আছে। মাঠগুলো উদ্ধার ও সংরক্ষণ করতে হবে। 

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► খেলার মাঠ সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সোচ্চার হতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। শিশুদের মেধা বিকাশে বিনোদনব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অতিদ্রুত দখলদারদের হাত থেকে মাঠগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাসুদেব বণিক

গোপালপুর, টাঙ্গাইল।

 

► খেলার মাঠগুলো সংরক্ষণ করতে হলে—এক. উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘিরে দিতে হবে, দুই. দেয়ালের ওপর কাঁটাতারের বেড়া দিতে হবে, যাতে কেউ টপকাতে না পারে, তিন. ঘাস রোপণ করতে হবে, যাতে ধুলা না ওড়ে, চার. নিরাপত্তারক্ষী রাখতে হবে, যাতে মাদকের আখড়া না বসে এবং পাঁচ. একই এলাকার শিক্ষার্থীরা যাতে সেটা নিয়মিত ব্যবহারের সুযোগ পায় সে জন্য রুটিন করে দিতে হবে; ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক সময় বেঁধে দিতে হবে।

হুমায়ুন কবির

হাজারীবাগ, ঢাকা।

 

► ছেলে-মেয়েদের বেড়ে ওঠার জন্য মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান প্রয়োজন। এখন গ্রামাঞ্চলেও ফাঁকা জায়গা পাওয়া যায় না। রাজধানীতে তো সব দখলদারদের কবজায়। মাঠে অবৈধ স্থাপনা গড়া হচ্ছে, খালি জায়গায় বস্তি গড়ে উঠছে। ফলে সেগুলো খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত অবিলম্বে মাঠগুলো উদ্ধার করা, অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা।

মো. ফাহিম ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, বাসাবো, ঢাকা।

 

► নতুন নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে উঠছে। সেখানে খেলার মাঠ বা উন্মুক্ত স্থান রাখা হচ্ছে না। জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী প্রতি এক হাজার লোকের জন্য ৪.২৩ একর উন্মুক্ত স্থান থাকা প্রয়োজন। আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। মাঠ দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বাণিজ্যিক ভবন, পার্কিং প্লেস, কমিউনিটি সেন্টার প্রভৃতি। মাঠের ব্যবস্থা না রেখেই স্কুল-কলেজ করার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে। এ চর্চা বন্ধ করতে হবে।

মো. মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

 

► খেলার মাঠ সংরক্ষণ করা সব নাগরিকের কর্তব্য। খেলার মাঠ না থাকার কারণে ছেলে-মেয়েরা ঘরবন্দি হয়ে পড়ছে। তাদের মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সরকারকে এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

মুহাম্মদ জহির উদ্দিন শেখ

দত্রা, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামগুলো মানসম্মত নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। বিবিসির দায়িত্ব জেলা স্টেডিয়ামগুলো ভালোভাবে প্রস্তুত করা। সেখান থেকেই বড় ক্রিকেটার বের হয়ে আসবে। যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সরাসরি নড়াইল থেকে জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পান।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► ঢাকা সিটি করপোরেশনের খেলার মাঠগুলো ক্রমাগত বেদখল হয়ে যাচ্ছে। খোলা জায়গায় বস্তি গড়ে ওঠায় শিশু-কিশোরদের খেলার সুযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। যান্ত্রিকভাবে বড় হয়ে উঠছে তারা। সুষ্ঠু বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানীর মাঠগুলো দখলমুক্ত করে শিশু-কিশোরদের ব্যবহার উপযোগী করতে হবে।

হাসানুর রহমান হাসান

চর বোয়ালমারী, রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

 

► নিয়মিত খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বছর থেকেই প্রতিটি জেলা সদরে ফুটবল প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে। সেরা দলগুলোকে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় পাঠাতে হবে। চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা পর্যায়ের খেলায় জাতীয় পর্যায়ের নামি খেলোয়াড়রা অংশ নিতে পারবেন না। ইচ্ছামতো খেলোয়াড় সংযোজন-বিয়োজন করা যাবে না। এমন ব্যবস্থা হলে ফুটবল ও অন্যান্য খেলা গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

রঞ্জু চৌধুরী

ধানমণ্ডি, ঢাকা।

 

► একসময় রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় ছিল খেলার মাঠ। সেগুলো আজ অপদখলের শিকার। কোনোটিতে গড়ে উঠেছে সরকারি স্থাপনা, কোনোটিতে মার্কেট। আশা করি সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

রাশেদুজ্জামান বাদশা

মাদারগঞ্জ, জামালপুর।

 

► শৈশবে খেলার চর্চা না থাকলে শিশুদের আত্মবিশ্বাসের অভাব থেকে যায়। পরাজয়বরণের মানসিকতা তৈরি হয়। খোলা জায়গা রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। খেলার মাঠ ও পার্ক দখলের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সরকারি খোলা জায়গায় যেন বস্তি গড়ে না ওঠে সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার। শিশু-কিশোরদের অধিকার রক্ষাই শুধু নয়, স্বস্তিকর পরিবেশ বজায় রাখতেই পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান থাকা দরকার।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রাম।

 

► রাজধানীর মাঠ তো গেছেই, গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খেলার মাঠও ক্রমেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। কখনো মাঠের জায়গা দখল করে। রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রভাবশালীরা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে। দখলদাররা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। মাঠ বা উন্মুক্ত জায়গা সংরক্ষণে সরকারকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ নয়, দেশের যেখানে যে মাঠ আছে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। যারা খেলার মাঠ ব্যবহার করে অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের ফন্দিফিকির করবে, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

মোহাম্মদ অংকন

শিক্ষার্থী, ঢাকা।

 

► নাগরিক হচ্ছি ঠিকই, তবে সুনাগরিক হচ্ছি কি না সন্দেহ আছে। কৈশোর জীবন প্রত্যেককেই কোনো না কোনো প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পার হতে হয়। এ বয়সে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহও থাকে প্রচণ্ড। আগ্রহ অনুযায়ী ছেলে-মেয়েরা খেলার জন্য মাঠ পাচ্ছে কি না অভিভাবকদের তা জানা জরুরি। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অল্প বয়স থেকেই যান্ত্রিক রুটিনের মধ্যে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। তাদের বাইরে কম যেতে দেওয়া হয়। অভিভাবকদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা না থাকাই উচিত।

মুহাম্মদ আহসানুল করিম (সাবুল)

চট্টগ্রাম।


মন্তব্য