kalerkantho


নীতিমালা মেনেই জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তি হতে হবে

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নীতিমালা মেনেই জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তি হতে হবে

জাতির উন্নতি-অগ্রগতি, মনন গঠন এবং আদর্শ, মূল্যবোধ সৃষ্টি ও চর্চার প্রথম কারিগর শিক্ষক। শিক্ষা ছাড়া উন্নতি হয় না, আর সেই শিক্ষা মানসম্মত না হলে উন্নয়ন পোক্ত ও সুষম হয় না। শিক্ষণ নামের বিষয়টির অধিকারী যাঁরা, শিক্ষণ-প্রক্রিয়াকে বহমান রাখেন যাঁরা, তাঁরাই যদি বঞ্চিত থাকেন, তাহলে শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করা কষ্টকর বৈকি। তাঁদের সসম্মানে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা হওয়া উচিত। কাজটি মূলত রাষ্ট্রকেই করতে হয়। অন্যথায় বাণিজ্য-প্রবণতা তৈরি হয়। জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তি শিক্ষকদের জন্য স্বস্তি-সম্মানের ব্যবস্থা করার উপায়। তবে সুষ্ঠু নীতিমালার মাধ্যমে তা করতে হবে। টেলিফোন ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সেই জাতি তত বেশি উন্নত। আমরা উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে সেটা দেখতে পারি। বাংলাদেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে যেগুলো এখনো জাতীয়করণ করা হয়নি। সেই প্রতিষ্ঠানগুলো চলে ব্যক্তিমালিকানায় বা ছাত্র-ছাত্রীদের বেতনের ওপর ভিত্তি করে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোনো রকম বেঁচে থাকার জন্য সামান্য বেতনের চাকরি করেন। তাঁদের ‘নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে’ যায়। তাঁরা সমাজে বিলাসিতা করার মতো টাকা-পয়সা পান না। তাই কোনো রকমে বেঁচে থাকতে হচ্ছে।

শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। তাঁরা যদি স্বচ্ছভাবে চলতে না পারেন, তাহলে আমাদের জাতির জন্য কী শিক্ষা উপহার দেবেন। বেশ কয়েক দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এই শিক্ষকরা শীতে কত কষ্ট করে আন্দোলন করছেন। তাই সরকারের উচিত শিক্ষকদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে তাঁদের কর্মক্ষেত্রে পাঠানো।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► আগামী প্রজন্ম তৈরির কারখানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একটি কারখানা নির্মাণের আগে কাঁচামালের প্রাপ্যতা যাচাই করে দেখতে হয়, ওই কারখানার চাহিদানুরূপ স্বল্পমূল্যে অব্যাহতভাবে কাঁচামাল পাওয়া যাবে কি না। জাতীয় স্বার্থের ও চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে এবং শিক্ষার্থীদের মনমানসিকতার অনুকূল শিক্ষা প্রদানে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে কি না ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বিচার-বিশ্লেষণ করেই এমপিভুক্তি করতে হবে। স্বাধীন নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষম কারিগর গড়ার লক্ষ্যে, তথা মজবুত জাতীয় ভিত বিনির্মাণের লক্ষ্যে মানদণ্ড ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা যৌক্তিক হবে বলে মনে করি না।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► মানুষ গড়ার কারিগররা উপযুক্ত সম্মানী পাচ্ছেন না। এ জন্যই এমপিওভুক্তির প্রয়োজন। কিন্তু ভালোর মধ্যে কিছু খারাপ থাকে। ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েও প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার রেকর্ড বাংলাদেশে আছে। সে ক্ষেত্রে মানদণ্ড থাকা দরকার আছে। এতে স্বচ্ছতা থাকবে।

মো. আজিনুর রহমান লিমন

চাঁপানীহাট, ডিমলা, নীলফামারী।

 

► দেশের বেসরকারি হাই স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে অবশ্যই জাতীয়করণ করার আওতায় আনতে হবে। এমনকি শিক্ষকের মূল্যায়ন করতে হবে। মূল্যায়ন ছাড়া উন্নত দেশে পরিণত করা সম্ভব নয়। আমাদের দেশের শিক্ষকদের মাস্টার হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। কথাটি বলার পেছনে যুক্তি হচ্ছে, সমাজে মাস্টারদের কোনো দাম নেই। তাঁদের জীবনটা চলে ধুঁকে ধুঁকে। বেতন যা পান তা দিয়ে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়।’ তাই সরকারকে সব স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ করার জন্য অনুরোধ করছি।

সাকিব আল হাসান রুবেল

চরবামনের চর, রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

 

► মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ যে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে একটা মানদণ্ড করতে চেয়েছেন। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমান ধারার কার্যক্রম আরো উন্নয়ন করা দরকার। কারণ শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, যার অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। কাজেই বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরাসরি এমপিওভুক্ত না করে প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ কিছু নির্দেশনা দিয়ে, প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম নজরদারিতে রেখে, নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময়ের মধ্যে এমপিওভুক্ত করলে ভালো হয়। কোনো ব্যক্তি যেন স্বার্থসিদ্ধি বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার সুযোগ না পায়। তাহলেই শুধু প্রকৃত শিক্ষার সুফল দেখা যাবে।

শহীদুল মোড়ল

নলীয়ান, দাকোপ, খুলনা।

 

► শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে মানদণ্ড থাকা আবশ্যক। যেমন এক. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত থাকতে হবে, মোট এক হাজার শিক্ষার্থী থাকতে হবে; দুই. প্রতি ক্লাসে ১০০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে; তিন. এসএসসিতে পাসের হার ৭০ শতাংশ হতে হবে; চার. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ ও শহীদ মিনার থাকতে হবে; পাঁচ. নিয়মিত জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হতে হবে; ছয়. নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে; সাত. শিক্ষকদের কোচিং-বাণিজ্যে জড়িত থাকা চলবে না এবং আট. শিক্ষার্থীদের বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ের খেলাধুলায়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বা কোরআন তেলাওয়াতে অংশগ্রহণ থাকতে হবে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের বেলায় তো নীতিমালার প্রশ্ন ওঠেনি, এমপিওভুক্তির বেলায় কেন উঠছে? জাতীয়করণের নীতিমালা তো আছেই। নীতিমালা ঠিকমতো অনুসরণ করলে কমসংখ্যক প্রতিষ্ঠানই জাতীয়করণের আওতায় পড়বে। সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিভাবকদের আর্থসামাজিক অবস্থার কথা স্মরণে রাখতে হবে। তাই শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাকে একযোগে জাতীয়করণ করতে হবে।

হুমায়ুন কবির

হাজারীবাগ, ঢাকা।

 

► শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তির জন্য অবশ্যই নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। নীতিমালাকে সময়োপযোগী হতে হবে। আমাদের দেশে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। তাঁদের বেতন-ভাতা অপ্রতুল। বেসরকারি শিক্ষকদের অবস্থা দুঃখজনক। সব শিক্ষকের বেতন এমন হওয়া উচিত, যাতে তাঁরা সম্মানের সঙ্গে জীবনধারণ করতে পারেন। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য সর্বপ্রথম শিক্ষকের উন্নয়ন প্রয়োজন। তাঁদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে; প্রশিক্ষণও দিতে হবে।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

► ঢালাওভাবে নয়, নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ কিংবা এমপিওভুক্ত করা যেতে পারে। এখনো এ দেশে মানসম্মত ও গুণগত শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন এক বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়। নির্দিষ্ট মানদণ্ড না থাকলে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চরম আঘাত নেমে আসবে। মানসম্মত শিক্ষক ও শিক্ষার গুণগত পরিবেশ না থাকলে সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ কিংবা এমপিওভুক্তির বিবেচনায় নেওয়া অনুচিত।

প্রতিবছর প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করে না। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় যেনতেনভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। মানসম্মত ও আদর্শ শিক্ষক গুণগত শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণ। এ দেশের বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আদর্শ মান থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। তবে এটাও বিবেচনায় নিতে হবে যে রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাত বিবেচনায় ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে কোনো কম ভালো কিংবা মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন জাতীয়করণ কিংবা এমপিওভুক্তির বিবেচনায় না আসে।

সাধন সরকার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

► শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। কাজেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যত শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করানো যায় ততই দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল। আর সেই শক্ত ভিতের প্রধান হাতিয়ার হলো শিক্ষক সম্প্রদায়। ইউরোপ, আমেরিকা এমনকি অনগ্রসর আফ্রিকা মহাদেশের অনেক দেশে শিক্ষকদের স্থান সর্বাবস্থায় অনেক উঁচুতে। অন্যদিকে আমাদের দেশে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা তথা এমপিওভুক্তি তথা অন্ন-বস্ত্র ও বাসস্থানের দাবিতে রাজপথে অনশন করে আন্দোলন করতে হয়। সেই আন্দোলন করতে গিয়ে তাঁদের পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বাহিনীর নির্যাতন ভোগ করাই নয়, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুকেও আলিঙ্গন করতে হয়। তা ছাড়া কিছু আইন প্রণয়নকারী তথাকথিত নেতাদের দ্বারাও শিক্ষকদের নিগৃহীত ও অপমানিত হতে হয়। কাজেই এসব অপকর্মের উপযুক্ত প্রতিকার ভিন্ন জাতির যে মুক্তি নেই, তা সংশ্লিষ্টদের বুঝতে হবে এবং মানতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ কিংবা এমপিওভুক্তির মানদণ্ড নয় বরং কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ কর্তৃক নির্দিষ্ট মানদণ্ডের বিচারে অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সবাইকে এমপিওভুক্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য। শিক্ষকদের মর্যাদার পরবর্তী ধাপগুলো উতরানোর জন্য আরো উন্নততর মানদণ্ড থাকতে পারে, তবে কোনোমতেই এমপিওভুক্তি তথা অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নয়।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার নামে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পকেট ভারী করে কি না সে ব্যাপারে সবার আগে খেয়াল করা উচিত। না হলে শিক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়। তখন এ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সরকার জরুরি প্রয়োজনে কোনো শিক্ষককে অন্য দপ্তর, অধিদপ্তর বা সংস্থায় পদায়ন করতে পারে। তবে শিক্ষকরা যেন তিন বছরের বেশি সময় সেখানে দায়িত্ব পালন না করেন।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে নজর খুবই কম। সব পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছ নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যেমন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বয়স কত, শিক্ষকদের সংখ্যা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও তাদের অগ্রগতি কেমন, প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা কেমন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির ভূমিকা ইত্যাদি। বহুমুখী পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিবেচনা করা দরকার যে সেই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করার আওতায় আনা যাবে কি না? দেশের সার্বিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সফল, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য মান না থাকলে কোনো অবস্থায়ই জাতীয়করণ করা নয়, তবে সার্বিকভাবে ভালো প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরি।

আব্দুর রাজ্জাক নাছিম

কালিয়াকৈর, শেরপুর, বগুড়া।        

 

► দেশের বাস্তবতায়, শিক্ষা বিস্তারের জন্য, স্কুল-কলেজের জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা উচিত। এ জন্য কিছু শর্ত অবশ্যই থাকা দরকার।

মো. মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রামপাঙ্গাশী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

► দেশের মানবসম্পদকে শিক্ষিত করায় শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা থাকে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা শুরু করেছিলেন। পরে এ ধারা অব্যাহত থাকেনি। ২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার অনেক স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছে। ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়েছে। অনেক স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত হয়েছে। তার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির বাইরে রয়েছে। এ দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলন করছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে তাঁরা ঘরে ফিরেছেন। সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে বলে আশা রাখি। তবে যাচাই-বাছাই করে জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির জন্য কোনো মানদণ্ডের দরকার নেই। শিক্ষকরা শিক্ষার, জাতি গঠনের কারিগর। তাঁদের যোগ্যতা-দক্ষতার ব্যাপারে আগেই নিশ্চিত হওয়া উচিত। জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির সময় মানদণ্ড প্রয়োগ করতে যাওয়া উচিত নয়।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

► শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। এই মেরুদণ্ড তৈরি করেন শিক্ষকরা। তাই শিক্ষকদের জন্য সুব্যবস্থা প্রয়োজন, ভালো প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। কিন্তু তাঁরা উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন না। জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তি তাঁদের জন্য সেই সুযোগ তৈরি করে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, কিন্তু বেশির ভাগের অবস্থা ভালো নয়। নীতিমালা মেনেই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির জন্য মানদণ্ড থাকা উচিত। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফল ভালো নয়, সেসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা উচিত নয়। যেগুলো ফল ভালো করছে, সেগুলোকেই বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► যেসব শিক্ষক প্রতিনিয়ত শ্রম দিয়ে একটি জাতিকে গড়ার গুরুদায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তাঁদের আমরা প্রাপ্য আর্থিক নিশ্চয়তাটুকু দিতে পারিনি তো বটেই, ন্যূনতম সম্মানের নিশ্চয়তা দিতে পারিনি। ফলে এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহেও শিক্ষকরা দাবি আদায়ের জন্য নেমে এসেছেন রাজপথে। যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নানা অনিয়ম, দুর্নীতিতে ভরে গেছে। নিয়োগের নামে সেখানে খোলা দুর্নীতি চলে। কিন্তু তার পরও এটা ঠিক যে শিক্ষকরা দেশ গঠনের কারিগর। তাই সার্বিক বিষয়টি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য চিন্তা করতে হবে। এখন যাঁরা এমপিওর জন্য আন্দোলন করছেন, তাঁদের দাবি পূরণ করে অন্য বিষয়গুলোতে নজর দিতে হবে।  

মো. সাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।

 

► দেশে হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালা ছাড়াই গড়ে উঠেছে। বেশির ভাগের ফল ভালো নয়। শিক্ষকরা দক্ষ নন। তাই ফল ভালো হয় না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা উচিত হবে না।

এম এ মতিন

বেগুনবাড়ী, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে এক রকম বিনা বেতনে চাকরি করছেন এক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। তাঁরা নিয়মিতভাবে এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছেন। অবিলম্বে এসব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হোক। নীতিমালা মেনে ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই একদিন এমপিওভুক্ত হয়ে যাবে।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রাম।

 

► বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তি খুবই জরুরি। মানবেতর জীবন যাপন করে শিক্ষকদের দেশ-জাতিকে দেওয়ার মতো কিছু থাকে না। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখতে হবে। এ বিষয়ে নজর দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ। শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নততর করার জন্য উপযুক্ত লোক নিয়োগ দিতে হবে, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কোচিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► দেশের আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ক্ষেত্রেই নিজেদের লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়। যাঁদের অনেকেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে। মানহীন প্রতিষ্ঠানকে কখনো জাতীয়করণ কিংবা এমপিওভুক্তির আওতায় আনা ঠিক হবে না।

মোহাম্মদ অংকন

ঢাকা।

 

► শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই মানদণ্ড থাকা উচিত। কিছু বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে, যেমন—এক. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বয়স, দুই. পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার বার্ষিক ফলাফল, তিন. শিক্ষকদের যোগ্যতা-দক্ষতা, চার. পরীক্ষা-ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠুতা এবং পাঁচ. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অগ্রগতি-অবনতি (পাস-ফেলের হার প্রভৃতি)।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► যত দূর জানি এখনো একটা মানদণ্ড আছে যার আলোয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়। তবে সেসব মানদণ্ডের আলো নিভে যায় ‘ক্ষমতাবান’ কিংবা ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তিদের ইচ্ছার কাছে। দেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয় শুধু স্থানীয় সংসদ সংসদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। বছরের পর বছর জেলা, এমনকি বোর্ডে সেরা ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় নাম থাকে, বিশাল অবকাঠামো, ভবিষ্যতে অবকাঠামো গড়ার মতো পর্যাপ্ত খালি জায়গা থাকা, উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী, খেলাধুলাসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমে উপজেলার মধ্যে সব সময় সেরা, পরিদর্শকদলের বারবার সফরেও সেই প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব—সব কিছু নিষ্ফলা হয়ে যায় স্থানীয় এমপি কিংবা প্রভাবশালীদের ইচ্ছার কাছে। নীতিমালা যা আছে থাকুক, অনিয়ম করে যেন কোনো প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

আব্দুর রহমান

দক্ষিণ বিজয়পুর, গৌরনদী, বরিশাল।

 

► শিক্ষা মৌলিক অধিকার। সুশিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা দরকার। শিক্ষকদের দাবি পূরণ করা উচিত। নীতিমালা মেনে জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নিঃসন্দেহে সরকারের সহযোগিতা পাওয়ার যোগ্য। তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে গণহারে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই মেধাবী ও উৎসাহীদের নিয়োগ দিতে হবে। এতে শিক্ষার মান বাড়বে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব না থাকাই কাম্য।

ওয়াহিদ মুরাদ

স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর।

 

► একটা সুষ্ঠু নীতিমালার ভিত্তিতে কোন এলাকায় কত ছাত্র-ছাত্রী, কয়টি স্কুল আমাদের দরকার, কয়জন শিক্ষক দরকার তা ঠিক করতে হবে। এমপিও-সংক্রান্ত নীতিমালার শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানকে প্রথম বছর সতর্কতামূলক চিঠি এবং ধারাবাহিকভাবে শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড রাখা উচিত। প্রয়োজনবোধে প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করতে হবে।

তৌহিদুল ইসলাম রবিন

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে মানুষ গড়ার কারখানা। ভালো মানুষ গড়তে হলে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দরকার। দেশে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খুবই অভাব। তাই ঢালাওভাবে জাতীয়করণ না করে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা উচিত।

জামাল হোসাইন

কুয়াকাটা, পটুয়াখালী।



মন্তব্য