kalerkantho


মানসিক উৎকর্ষ সাধিত হোক

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রজাতন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যদি দুর্নীতি জেঁকে বসে তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন হবে কী করে? প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক যদি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে দুদক সেখানে অসহায় হতে বাধ্য। দুদকের মধ্যে যে দুর্নীতি নেই সাধারণ মানুষ তার নিশ্চয়তা জানতে চায়। সাধারণ মানুষের কাছের প্রশাসন পুলিশ। ২০১৫ সালে পুলিশের বেতন দ্বিগুণ করা হয়, অথচ এই জনবান্ধব পুলিশ প্রশাসন আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত। ২০১৬ সালে বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ১৩ হাজার ৫৮৬ জন পুলিশ সদস্যকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি স্বীকৃতি পায় যখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণের সময় লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। যার ঘুষ দেওয়ার যোগ্যতা নেই সে চাকরি পাবে না। নাম না জানা অনেক ফুল পথের পাশে ফোটে, ফুলদানি তাদের জোটে না। প্রতিভা দেশের আনাচে-কানাচে ঝরে পড়ে। অর্থের বিনিময়ে থানার কর্মকর্তা যদি ঘুষ খেয়ে দুই বা তিন কোটি টাকার মালিক হন, তাঁকে শাস্তিস্বরূপ যদি তাঁর চাকরি চলে যায়, তাহলে এটাই কি দুর্নীতি করার বিচার? কেন তাঁকে আদালতে তোলা হয় না? নৈতিক চরিত্রের চরম অধঃপতন চলছে দেশে। নিষ্পেষিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, দেখার কেউ নেই। নৈতিক চরিত্রের স্বভাব যদি পরিবর্তন না হয়, তাহলে শুধু বিচার করে স্বভাবের পরিবর্তন সম্ভব নয়। দুদক যদি নৈতিক দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হয়, প্রভাবমুক্ত থাকে, দেশের সেবায় একান্তভাবে আত্মনিয়োগ করে, চাপের কাছে মাথানত না করে, নিরপেক্ষতার পরিচয় দেয়, তাহলে দেশ অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত হতে বাধ্য। চাই মানসিক উৎকর্ষ সাধন।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

মেইন রোড, বাগেরহাট।



মন্তব্য