kalerkantho


দুদককে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দুদককে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে

দুর্নীতি অন্যতম একটি সমস্যা। উন্নয়নের বড় প্রতিবন্ধক। জনগণের অসন্তোষ ও অস্বস্তির বড় কারণ। এ কারণে সরকারকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। দুর্নীতির বেশির ভাগ ঘটনা ঘটছে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতার জোরে। প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্যের অভাব বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সফলতা পায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের তৎপরতা বেড়েছে। মন্ত্রী-এমপি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এতে জনমনে আশার সঞ্চার হচ্ছে। দুদককে অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারকে তাদের সহায়ক হতে হবে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা টেলিফোনে ও ই-মেইলে এ অভিমত জানিয়েছেন

 

►   কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, দুর্নীতির কারণে দুদক তার নামে মামলা করেছে। দেখে আমি অবাক হলাম, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে তারাই তো দুর্নীতিকে আঁকড়ে ধরে আছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ রসাতলে যাবে। বিশ্বে উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, কেউ যদি দুর্নীতি করে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করে। সে ব্যক্তিটি যে কেউ হোক না কেন। তাদের দেশ উন্নত হবে নাকি আমাদের দেশ উন্নত হবে? তাই বাংলাদেশকে দুর্নীতির ব্যাপারে আরো কঠোর হয়ে কাজ করতে হবে।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

►   দেশকে উন্নয়নের সারিতে দাঁড় করাতে দুদকের অনুসন্ধান অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের আস্থার আরেক নাম দুদক।

আশিকুর রহমান সবুজ

টেংরা, শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

►  দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য দুদকের পোস্টার ও মোবাইল এসএমএস কাজে লাগছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের বর্তমান ভূমিকা অন্য সময়ের তুলনায় ভালো। এতে কিছুটা সন্তুষ্ট হওয়া যায়। কমিশনকে আরো স্বাধীন রাখতে হবে। এটা সরকারের দায়। দুর্নীতি বন্ধে জনগণকে সংশ্লিষ্ট করতে হবে। রাজনৈতিক চাপে দুর্নীতিবাজদের যেন ছেড়ে দেওয়া না হয়। বেশির ভাগ দুর্নীতিই অভাবের কারণে নয়, স্বভাবের কারণে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতির কারণে সরকার সমালোচিত হচ্ছে। দুদক চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ, প্রতিটি উপজেলায় দুদকের সেল খুলে টেলিফোনে বা সরাসরি জনগণের অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হোক। অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সহিদুল মোড়ল

নলিয়ান, দাকোপ, খুলনা।

 

►   দুর্নীতি বাংলাদেশের বড় সমস্যা। দুর্নীতির নেশায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তারা দেশটাকে কলঙ্কিত করছে। দেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতেই হবে। সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দিতে হবে। দুদকের বর্তমান ভূমিকায় মানুষ আশার আলো দেখতে পাচ্ছে না। দুর্নীতিবাজদের ধরেও কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারছে না। ফলে অনেকে আবার দুর্নীতি করার সাহস পাচ্ছে। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তারা বেড়ে উঠছে বা উঠেছে। ব্যাংকে দুর্নীতি এতটাই বেড়েছে যে তা কোনোভাবেই থামাতে পারছে না সরকার। দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারেরও ভূমিকা আছে। দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।

মো. আজিনুর রহমান লিমন

চাপানীহাট, ডিমলা, নীলফামারী।

 

►   দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধি এবং সমাজ ও সভ্যতার জন্য অভিশাপ। দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অবিলম্বে এর মূলোৎপাটন করতে হবে। এই দায়িত্ব দুদকের। দুদককে আরো সক্রিয় হতে হবে।

লিপি রহমান

পশ্চিম টেংরী, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►   হলমার্ক কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতু, শেয়ারবাজারসহ শিক্ষা খাতে যে পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে, তা দেখে মনেই হচ্ছে না যে এ দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন নামে কোনো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দুদকের মাধ্যমে যে সফলতাটুকু এসেছে, তাও এসেছে দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার পর। দুদককে আরো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর প্রতি তাদের নজরদারি আরো বাড়াতে হবে।

জামাল হোসাইন

কুয়াকাটা, পটুয়াখালী।

 

►   দুদকের বর্তমান ভূমিকায় আমরা সন্তুষ্ট নই। দেশে অবাধে দুর্নীতি হচ্ছে। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, শিক্ষাসহ সব সেক্টরেই দুর্নীতি হচ্ছে। বন্দর নিয়োগে পত্রিকায় দেখলাম সবাই মাদারীপুরের। রেলের নিয়োগে একই দৃশ্য। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে দেখা যায় দুর্নীতির ছায়া।

মুহাম্মদ ফয়সাল মাহমুদ শেখ

দত্রা, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

►   দুদকের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে এমন মন্তব্য গোটা বাংলাদেশের মানুষের। দুদক বর্তমানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রিফাত রনি

টেংরা, শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

►   সব ক্ষেত্রেই যখন দুর্নীতি এগিয়ে, তখন দুদকের কিই বা করার? সরকার কিংবা দুদক একা চাইলে কখনো দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব নয়, তবে দুর্নীতি দমন করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন।

হাসিব মাহমুদ মোশাররফ

কারমাইকেল কলেজ, রংপুর।

 

►   দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠলে যেকোনো দুর্নীতি দমন করা সম্ভব। এ ব্যাপারে কমিশন (দুদক) আইনগতভাবে প্রতিটি পর্যায়ে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

শায়লা শারমিন রিমা

কাজুলিয়া, গোপালগঞ্জ।

 

►   কয়েক দিন আগে ফার্মগেটে একজন সম্মানিত পুলিশ মহাশয়কে দেখলাম এক গরিব রিকশাওয়ালার কাছ থেকে যেকোনো কারণে ২০ টাকা ঘুষ নিচ্ছেন। বেচারা রিকশাওয়ালার কাছে ১০০ টাকার একটা নোট ছাড়া আর কোনো টাকা ছিল না। মহামান্য পুলিশ মহোদয় নিজের পকেট থেকে ১০ টাকা, ৫ টাকা, ২০ টাকার কয়েকটা নোট মিলিয়ে ৮০ টাকা ফেরত দিয়ে ১০০ টাকার নোটটা নিজের পকেটে নিলেন। এ রকম হাজারও দুর্নীতির দৃশ্য আমাদের দেশের প্রতিটি স্তরে দেখা যায়। উচ্চপদস্থ কর্মচারী, সরকারি আমলা, মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে সর্বত্র দুর্নীতির খেলা চলে। দুর্নীতি দমন কমিশন ব্যর্থ এসব বন্ধ করতে। তবে বর্তমান কমিশনের কিছু কিছু পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

 

►   দুদকের ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় হলেও তাদের এখনো চলার বাকি রয়েছে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী ভিআইপিদের তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করাটা আইন ভঙ্গকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। কিন্তু ব্যাংকিং খাতে যে চলমান অরাজকতা ঘটেছে, এ ক্ষেত্রে দুদকের ভূমিকা ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মতো। একের পর এক সরকারি, বেসরকারি ব্যাংকগুলো বড় বড় ঋণ জালিয়াতে জড়িয়ে পড়লেও দুদক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। যার ফলে ঋণ কেলেঙ্কারিরা আরো উৎসাহিত হচ্ছে ও একের পর এক নতুন ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্ক বরাদ্দ থাকলেও মুষ্টিমেয় কিছু লোকের সদিচ্ছার অভাবে সাধারণ জনগণ এই খাতের সুফলটুকু পাচ্ছে না। বড় বড় হাসপাতালে লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করে তা বাক্সবন্দি করে রাখা হচ্ছে নানা অজুহাতে। এতে লাভবান হচ্ছে বেসরকরি প্রতিষ্ঠানগুলো। এই বিষয়ে দুদকের করার অনেক কিছু আছে। পাশাপাশি নিয়োগ কার্যক্রমগুলোতে খোলা দুর্নীতি চলছে। দুদক সেসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। আশা করি দুদক সব ক্ষেত্রে সমান দৃষ্টি রাখবে। দুর্নীতি দূর করতে আন্তরিক ব্যবস্থা নিতে হবে। 

সাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।

 

►   ইকবাল মাহমুদের কমিশন যে কাজ করছে, তা খুবই প্রশংসনীয়। তারা দুর্নীতি দমনের জন্য নানাভাবে কাজ করছে। দুর্নীতি দমনের জন্য শিক্ষাঙ্গন থেকেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ন্যায়-অন্যায় বোঝাতে হবে। ছোটবেলায়ই যদি এটা শেখানো যায়, তাহলে সে সারা জীবন সেটা মনে রাখবে। আমানতের জন্য মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল ব্যাংক। কিন্তু এখন এই ব্যাংকই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। এ ক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর হতে হবে। ব্যাংকের বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ছাড়া সরকারি কাজগুলোতে দুর্নীতি বেশি হয়ে থাকে। তাই এসব কাজে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। ঋণ বিতরণে ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা অতি উৎসাহ দেখান। পরে এসব অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। তাই ঋণ দেওয়ার আগে কাগজপত্র যথাযথভাবে দেখে নিতে হবে। প্রত্যেক নাগরিকের টিন নাম্বার থাকতে হবে। যেন দুদক সবাইকে ধরতে পারে। এ ছাড়া পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হবে। দেশের অন্য সব মিডিয়ার চেয়ে কালের কণ্ঠ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরো বেশি সোচ্চার হবে—এটা আমাদের প্রত্যাশা। তারা দুর্নীতির খবর প্রকাশ করলে পরে তার ফলোআপ করতে হবে। এভাবে কালের কণ্ঠ দুদককে সাহায্য করতে পারে। 

হুমায়ুন কবির বাবু

দক্ষিণ বানিয়াগাতি, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

 

►   বহুমুখী দুর্নীতি বন্ধের জন্য এবং সব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করে দুর্নীতি বন্ধ করতেই দুদক গঠন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি অলিখিতভাবে ভিন্ন মতাদর্শে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এতে দেশের সার্বিক উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি কোনোভাবেই মানার নয়। দুর্নীতির লাগামহীন ঘোড়া ছুটেই চলেছে। গণতান্ত্রিক স্বাধীন বাংলাদেশে দুর্নীতির ঘোড়া কি স্বাধীন হতে চায়? ছিঃ ছিঃ ছিঃ দুর্নীতি কি থামবে না? তাহলে জবাবদিহিমূলক দায়বদ্ধতা কার? নাকি দুর্নীতি থামানোর জন্য ১৯৭১ সালের মতো যুদ্ধ করতে হবে? দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাই, যার কোনো বিকল্প নেই।

আব্দুর রাজ্জাক নাছিম

কালিয়াকৈর, চান্দাইকোন, শেরপুর, বগুড়া।

 

►   যে অপশক্তিগুলো পাকস্থলীর মতো দেশের কেন্দ্রে থেকে জাতির শিরা-উপশিরাকে বিষাক্ত করছে, সেগুলোর মুখোশ উন্মোচন করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো কার্যকরী হতে হবে।

আমিনুল নোহালী

সখীপুর, টাঙ্গাইল।

 

►   দুই-একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত ছাড়া দুর্নীতিবাজদের বিচারের সম্মুখীন করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন উল্লেখ করার মতো সাফল্য দেখাতে পারেনি। ব্যাখ্যা ছাড়াই অনেককে মাফ করে দেওয়া হয়েছে। এর কারণ প্রতিষ্ঠানটির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব এবং প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের দৃঢ়তার ঘাটতি।

নৌশিন নাওয়াল সুনম

বাবুপাড়া, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►   দুদকের বেশ কিছু দুর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রশংসিত হলেও রাঘব বোয়ালরা ঠিকই অধরা থেকে যাচ্ছে। তাই আরো অধিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে দেশ থেকে দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন করতে দুদককে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

শাহীন রেজা

এয়ারপোর্ট রোড, বিজয়নগর, চট্টগ্রাম।

 

►   দুঃখিত, দুদকের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারলাম না। দুর্নীতি নামের রোগের ধরন ও কৌশল বিবেচনা করে সময়মতো ও পরিমিত ওষুধ প্রয়োগ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তারা নিতে পারছে না।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

►  দুদককে আরো শক্তিশালী হওয়ার প্রয়োজন আছে। দক্ষ জনবল প্রয়োজন। প্রায় সব জায়গায়ই সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে কিছু লোক দুর্নীতি করে। জনগণের বলার কিছু থাকে না। সেসব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে দুদক যে ব্যবস্থা নিয়েছে ও নিচ্ছে তাকে সাধুবাদ জানাই। হটলাইনে জনগণের অভিযোগ শুনছে দুদক। এটি খুবই প্রশংসনীয়।

আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া

নলুয়া, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

►   দুদকের কাজ যদি সন্তোষজনকই হতো, তাহলে দেশজুড়ে এত দুর্নীতি থাকত না। দেশ দুর্নীতিতে বিশ্বরেকর্ড করতে পারত না।

হুমায়ুন কবির

হাজারীবাগ, ঢাকা।

 

►   দেশে শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তারের কারণে দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি দমনে হোঁচট খায় সত্য, তবে পিছপা হয় না। বর্তমান দুদক কর্তৃপক্ষের পক্ষে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

বিসিসি রোড, নবাবপুর, ঢাকা।

 

►   দুর্নীতি দমন কমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি কমলেও এখনো অনেক দুর্নীতিবাজ ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। আশা করি ভবিষ্যতে ছোটখাটো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে দুদক।

সাকিব আল হাসান রুবেল

বামনের চর, রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

 

►  দুর্নীতি করা অন্যায়, তবু মানুষ দুর্নীতি করে। কেউ গোপনে, কেউ প্রকাশ্যে। দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য দুদক গঠিত হয়েছে। কিন্তু তারা কি ঠিকমতো কাজ করতে পারছে? না, তাদের কার্যক্রমে আমি সন্তুষ্ট নই। তারা বেছে বেছে কিছু লোককে ধরছে। যাদের ধরছে বা ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত খবর মিডিয়ায় এলে ভালো হতো। দুদক আরো সক্রিয় হোক।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►  বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম-দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। এর শুরু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাতে। সেই অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করার জন্যই বাংলাদেশের জন্ম। কিন্তু এখনো এসব বন্ধ হয়নি। সমাজ, রাষ্ট্র—সবখানে দুর্নীতি। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার টানা পাঁচবার দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছিল। বর্তমান সরকার লাগাম টানার চেষ্টা করছে। ভালো লাগছে দুদকের সক্রিয়তায়, সন্তোষজনক কাজ করছে তারা।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►  দুদকের কর্মকাণ্ড দেশের জন্য মঙ্গলজনক। সরকারদলীয় লোকেরা দুর্নীতি করছে কি না দুদককে সেটি দেখার জন্য বলেছেন সরকারপ্রধান। দুদক সফলতা বয়ে আনবে। অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করার জন্য জনগণকেও সচেতন হতে হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল।

 

►   দুর্নীতি দমন একটু পিছিয়ে পড়েছিল। এখন হটলাইন চালু করার পর কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে। সামনে নির্বাচন আসছে। এ সময় দুর্নীতির সুযোগ বেশি থাকে। আমাদের প্রত্যাশা দুর্নীতি দমন কমিশন যেন দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে। শুধু রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে পরিচালিত না হয়।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

►   অভিযোগ জানাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের হটলাইন খোলার প্রথম সাত-আট কর্মদিবসেই প্রায় এক লাখ ফোনকল এসেছে। এর অর্থ দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। গত বছর ২৭ জুলাই কমিশন হটলাইন ১০৬ চালু করে। প্রথম দিনেই প্রায় দুই হাজার কল আসে। আর এক সপ্তাহের মাথায় সংখ্যাটি প্রায় পৌনে এক লাখে পৌঁছায়। অনেকেই পারিবারিক বিষয়ে অভিযোগ করছে। যৌতুকের অভিযোগও আসছে। কিন্তু এগুলো দুদকের বিষয় নয়। দুদক কর্মকর্তারা মনে করেন, জনগণ আস্তে আস্তে বিষয়টিতে (হটলাইন) অভ্যস্ত হবে। দুদকের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রাম।

 

►   এ সমাজে সেলাকের বড় অভাব। তাই দুদককে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিলেও কোনো লাভ হবে না। এক অর্থে বলব, দুদক দুর্নীতি দমনে তেমন কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। যার সঙ্গে কথা হয় সে-ই বলে, কোথায় নেই দুর্নীতি। কোনো কাজ করতে যাবেন, সেখানেই দেখবেন ঘুষ চেয়ে বসে আছে। ঘুষ না দিলে বছরের পর বছর ধরে ঘুরবেন। মনে রাখবেন, যথাস্থানে টাকা দিলে অবৈধ বৈধ হয়ে যায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সফলতা নিয়ে বলার সময় এখনো হয়নি।

লিয়াকত হোসেন খোকন                       

রূপনগর, ঢাকা। 

 

►   দুর্নীতি দূর করার প্রধান বাধা আইন কার্যকর করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা। প্রধান কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অফিস পিয়ন পর্যন্ত কারো কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নেই। কোন কাজে বরাদ্দ কত, বর্ধিত ব্যয় কী কারণে দরকার—এসব জানিয়ে সিটিজেন চার্টার টানিয়ে কাজ শুরু করার আইন থাকলেও কখনো তা করা হয় না। কাজির গরু কিতাবেই থেকে যায়। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও আমলাদের অনেকেই টাকা বিদেশে পাচার করেন। এদিকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভূমিকর, নামজারি ফি, গ্যাস, বিদ্যুৎ প্রভৃতি ক্ষেত্রে তিন গুণ টাকা আদায় করা হয়। দুর্নীতির বেশির ভাগ সরকারি দলের ছত্রচ্ছায়ায় হয়। কৃষক দুর্নীতি করে না। কিন্তু দুর্নীতির বোঝা তাকেও টানতে হয়। দুর্নীতি দমনে দুদকের ভূমিকায় সন্তুষ্ট নই; দুদককে আরো শক্ত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

►   দুর্নীতি প্রতিরোধে বা নির্মূলে ব্যক্তিপর্যায়ে নিষ্ঠা ও সততা খুব দরকার। দুর্নীতি দমনকে একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করতে হবে। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সদিচ্ছা ও জনগণের চেষ্টা থাকতে হবে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতি। সর্বোচ্চ প্রশাসন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে চলছে দুর্নীতি। বিশেষজ্ঞরা দুর্নীতিকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও দুর্নীতিমুক্ত নয়। দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থা নীতিকথা বা তথাকথিত সামাজিক বয়কটে বদলাবে না। দুর্নীতির পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মদদ রয়েছে। তাদের সহায়তায় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ধনী ও প্রভাবশালীরা নিয়ম মেনে চলে না। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য সত্যিকারার্থে স্বাধীন ও শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদককে গড়ে তুলতে হবে।

এস এম সাইদুর রহমান উলু

বিমানবন্দর সড়ক, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►   ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার গঠন করে দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার পূরণে কতটুকু সফল হয়েছে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ দরকার। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মী-সমর্থকদের দুর্নীতি দেশবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। জোট সরকারের সময়ে টানা পাঁচ বছর টিআইবির রেটিংয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের কুখ্যাতি অর্জন করেছিল। সেই দুর্নাম বহুলাংশে মোচন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করেছে। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের প্রয়োজনে দুদক মন্ত্রী, আমলা প্রভৃতি ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নজির স্থাপন করেছে। বিভিন্ন সেবা খাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে দুর্নীতির প্রকোপ কিছু কমেছে।

এস এম রওনক রহমান আনন্দ

বাবুপাড়া, এয়ারপোর্ট রোড, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 



মন্তব্য